লিনাক্স কি? ইতিহাস এবং সুবিধা

লিনাক্স কি?

লিনাক্স একটি অপারেটিং সিস্টেম। ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টমেরের কার্নেল ডেভলপ করে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম তৈরী হয়। এটি ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম। তার মানে এটি আপনাকে কিনে ব্যবহার করতে হবে না। আর এর সব সিস্টেম ফাইলই উম্মুক্ত। আপনি চাইলে নিজেও অপারেটিং সিস্টেমটি আপনার নিজের প্রয়োজন মতো করে তৈরী করে নিতে পারেন এবং ব্যবহার করতে পারেন।

উইনডোজ বা ইওস এর সিস্টেম ফাইলের আমূল পরিবর্তন করে ব্যবহার করতে পারবেন না। কিন্তু লিনাক্সের ক্ষেত্রে করা যাবে।

আর এজন্যই লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম বিভিন্ন সিস্টেম ব্যপাক ব্যবহার বেড়েছে। পৃথিবীর  ৯৫ ভাগের বেশি সারভার কম্পিউটারগুলোতে লিনাক্স ব্যবহৃত হয়। আবার ক্ষুদ্র অনেক ডিভাইজ যেমন মোবাইলফোন, গাড়ী, বিভিন্নউৎপাদন কারখানার যন্ত্র, বায়োমেট্রিক ডিটেকশন ডিভাইজ ইত্যাদিতে লিনাক্সের কার্নেলকেই পরিবর্তন করে ব্যবহার করা হয়েছে। ছোট ডিভাইজে কম পরিমান সিস্টেম রিসোর্স দিয়েই বছরের পর বছর লিনাক্স সার্ভিস ব্যবহার করে যাচ্ছে। কারন অতিরিক্ত জিনিসগুলো যেটা যে সিস্টেমে দরকার নাই তা সহজেই মুছে দেওয়া যাচ্ছে।

লিনাক্সের ইতিহাস

আগের ঘটনাঃ ১৯৭১ সালে ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম রিলিজ হয়। ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম মূলতঃ মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে লেখা হয়। পরে সি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে  নতুন করে লেখা হয় অবশ্য। বেল ল্যাব ১৯৮৪ সালে ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম নিজস্ব সম্পদ হিসেবে বিক্রিও শুরু করে। তখন অবশ্য ঐ  সময় রিচার্ড স্টলম্যান ফ্রি সফটওয়্যার ফাউন্ডেশন তৈরী করে।

উদ্ভাবনঃ ফিনল্যান্ডের হ্যালসিনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে লিনাস টরভ্যাল্ট অপারেটিং সিস্টেমের প্রতি বেশ আগ্রহি হন। মিনিক্স অপারেটিং সিস্টেমের লাইসেন্স নিতে হবে তাই তিনি নিজেই কার্নেল তৈরীর কাজে হাত দেন। যা পরবর্তিতে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম এর জন্ম দেয়। এটি মূলতঃ মিনিক্স ডেভলপ করেই তৈরী হয়। এবং একই এপ্লিকেশন চলে। পরে অবশ্য GNU লাইসেন্সের জন্য আরো পরিবর্তন করে নিজস্ব কোড করা হয়। তিনি কার্নেলটি ওয়েবে ছড়িয়ে দেন এবং ডেভলপ করার জন্য আহবান জানান। উম্মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম পেয়ে অনেকে এগিয়ে আসে এবং তৈরী হয় সম্পূর্ণ একটি অপারেটিং সিস্টেম।

এর পরের বছর অবশ্য 360BSD উম্মুক্ত লাইসেন্সের অপারেটিং সিস্টেম বের হয়। লিনাস টরভ্যাল্ট বলেন, এটি আরো আগে বের হলে হয়তো তিনি লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম বানাতেন না।

নামঃ প্রথমে এটির নাম Freax রাখা হয়। ( Freak=বিনামূল্য x= Unix এর শেষের x ) ডেভলপমেন্টের ফাইলগুলো একটি FTP একাউন্টে রাখা হয়। সারভার এডমিনদের একজন Ari Lemmke Freax নামটি পছন্দ করে নাই। তিনি এই প্রোজেক্টির নাম দেন Linux. যা টরভ্যাল্ট অনুমোদন দেন। এভাবে লিনাক্স নামেই পরিচিতি পেয়ে যায়।

ডেভলপমেন্টঃ ইন্টারনেটের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পরার পর। অনেক ছোট ছোট কমিউনিটি নিজেদের মতো করে ডিনস্টো বানিয়ে নেন এবং ডেভলপ করতে থাকেন। পরবর্তিতে NASA, IBM, Dell, HP সহ অনেক প্রতিষ্ঠানও লিনাক্স ডেভলপে এগিয়ে আসে। তারা মূলতঃ মাক্রোসফটকে টাকা দেওয়া থেকে বাচতে এটি করে। এখন তো বড় বড় ডাটা সেন্টার ও সারভারগুলোতে লিনাক্সই রাজত্ব করছে।

মাহবুব টিউটো

তিনি টিউটোরিয়ালবিডিসহ বেশ কিছু সফল অনলাইন প্রোজেক্টের উদ্যোক্তা ও পরিচালক। তিনি বর্তমানে একটি গ্রুপ প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তিতে কর্মরত আছেন। তার জন্ম, পড়ালেখা এবং আবাস্থল ঢাকায়। ফেসবুকে আর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তার ইউটিউব চ্যানেলে ঘুরে আসতে পারেন। 


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য লিখুন

Leave a Reply