কম্পিউটার কেন মানুষের চাইতে ভাল?

আচ্ছা, আপনার কি কখনও মনে হয়েছে কম্পিউটার নামের যন্ত্রটা মানুষ নামের প্রাণির চাইতে ভাল হতে পারে? আমার মনে হয় না হয়েছে, অনেকেরই কিন্তু হয়। বিশ্বাস হচ্ছে না? আসলে কিন্তু এমন সময়ও মানুষের জীবনে আসে যখন আরেকজন মানুষের চাইতে কম্পিউটার নামের যন্ত্রটাইকেই তার বেশি আপন মনে হয়। কেবল তাই নয়, মনে হয় আমি যদি মানুষ না হয়ে কম্পিউটার হতাম তাহলেই বোধ হয় ভাল হত। কিন্তু কেন আমরা অনর্থক নিজের জাতকে বাদ দিয়ে রসহীন প্রাণহীণ একটি কম্পিউটারকে ভাল বলতে যাব? কারণ আছে। এবং তার মধ্যে কিছু কিছু কারণ যখন আমার এই লেখার মাধ্যমে আপনাদর সামনে সাজিয়ে দেব তখন আপনাদের মধ্যেও কেউ কেউ (বলা যায় না!) হয়ত বলে বসতে পারেন: আসলেই তো! এখনতো দেখছি কম্পিউটার হলেই ভাল হত! কেন ভাল হত? কম্পিউটার কোন দিক দিয়ে মানবজাতির চাইতে ভাল? আসুন দেখা যাক!

কম্পিউটার সহজ

– সরল, তারা কোনো ঘুরপ্যাঁচ বোঝে না বুঝতেও চায় না! কম্পিউটার চুরি করে না, চুরি করে বালিশ বা সিডি-রম ড্রাইভের মত জায়গায় টাকা লুকিয়েও রাখে না। আপনি যখন রেডি কম্পিউটারও তখন রেডি; এইতো, আর পাঁচ মিনিট বলে ঘন্টা পার করে দেয় না।

– কম্পিউটার আপনার প্রয়োজনের মুহূর্তে একটুও বোলচাল না ঝেড়ে সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেয়। কাজেই কম্পিউটার রেসপন্সিভ।

– কম্পিউটার কখনও কার বয়সের পার্থক্য কার সঙ্গে কত সে নিয়ে মাথা ঘামায় না।

– কম্পিউটারের কোনো বাহানা বা আদিখ্যেতা নেই।

– আপনি বিবাহিত নাকি অবিবাহিত তাতে কম্পিউটারের কিছু যায় আসে না।

1

– আপনি অন্য কম্পিউটার ইউজ করলে আপনার বাড়ির কম্পিউটার কখনও ঈর্ষায় ভোগে না।

– কম্পিউটার তার বাবা মা-র সঙ্গে আপনাকে দেখা করিয়ে দেবার জন্য বাহানা ধরে না।

– আপনার বন্ধুর সঙ্গে আপনার কম্পিউটারকে শেয়ার করলেও সে কিছু মনে করে না!

– আমার মত মানুষ তাকে নিয়ে রঙ্গরসে ভরা লেখা লিখলেও কম্পিউটার মাইন্ড করে না।

 

এবার থামার সময় হয়েছে!

সবার জীবনেই এমন একটি সময় আসে যখন তার বোঝা উচিত যে তার এবার থামার সময় হয়েছে। আমাদের জীবনেও এমন সময় এসে যায় যখন আমাদের বোঝা উচিত যে আমাদের থামার সময় হয়েছে। নিশ্চয়ই ভাবছেন কিসের থামাথামির কথা বলছি? বলছি কম্পিউটার বা প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করা থামানোর বা কমিয়ে দেবার। আজকাল আমরা চিঠি লেখা বললেই বুঝি ই-মেইল-এর কথা, আর কথা বলা বললেই বুঝি চ্যাট করার কথা। সার্ফিং বললে কেউ আর সাগরে সার্ফিং করা বুঝে না, বুঝে নেট সার্ফিং করার কথা। উইন্ডো বললে জানালা না বুঝে বুঝে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ-এর কথা। মাউস বললে সারা জীবনের চেনা ধাড়ি ইঁদুর না বুঝে ভাবে কম্পিউটার মাউসের কথা। এ কারণেই আমারও মনে হয়েছে এসব উল্টোপাল্টা বোঝাবুঝি থামিয়ে এবং ভার্চুয়াল লাইফে ঘোরাঘুরি বন্ধ করে মাটির পৃথিবীতে নেমে আসার, প্রযুক্তি নির্ভরতা একটুখানি কমিয়ে বাস্তব দুনিয়ার রং রূপ আর রস নিয়ে ভাবার। কিন্তু কখন আপনি বুঝবেন যে আপনার জীবনে প্রযুক্তি নির্ভরতা একটু বেশিই হয়ে যাচ্ছে? কখন বুঝবেন: ঢের হয়েছে, এবার আমার আসলেই বাস্তবতার মাটিতে নেমে আসা উচিত?

Human_vs_Computer

আমার পক্ষ থেকে রইল তারই প্রেসক্রিপশন। আপনার প্রযুক্তি নির্ভরতা কমিয়ে আনা উচিত তখন, যখন:

– কম্পিউটারের পর্দায় না খেলে সত্যিকারের তাস দিয়ে সলিটেয়ার খেলা কবে শেষ খেলেছিলেন অনেক ভেবেও মনে করতে পারেন না।

– আপনার পরিবারের সদস্য সংখ্যা তিন, অথচ এই তিনজনের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য ই-মেইল অ্যাড্রেস আছে সতেরোটি।

– আপনি আপনার ছেলেকে মোবাইলে ফোন করে মনে করিয়ে দেন যে খাওয়ার সময় হয়েছে, আর সেও তার রুম থেকে ই-মেইল করে জিজ্ঞেস করে: আজকের মেন্যু কি?

– আপনার আট বছর বয়সী মেয়ে ওয়েব সাইটের মাধ্যমে ফ্যাশন ডিজাইনের ব্যবসা করে।

– সাউথ আফ্রিকায় থাকে এমন হালকা চেনা এক লোকের সঙ্গে দিনে তিনবার আপনি চ্যাট করেন, অথচ পাশের বাসার ভদ্রলোককে হ্যালো বলা হয়নি প্রায় তিন বছর।

computer-vs-human1

– আপনি একটি কম্পিউটার কেনেন এবং স্রেফ এক হপ্তা পরই সেটি আউটডেটেড হয়ে যায়। সেটি বেচতে গেলে আপনাকে অফার করা হয় যে দামে কিনেছিলেন তার চার ভাগের এক ভাগ।

– ক্রেডিট কার্ডের বদলে বাস্তব টাকা ব্যবহার করে জিনিসপত্র কেনা আপনার কাছে প্রাগৈতিহাসিক আচরণ বলে মনে হয়।

– ই-মেইল নেই, এমন আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে আপনার যোগাযোগ নেই পাঁচ বছর।

– ইন্টারনেটে না পড়ে সরাসরি কারো মুখে জোক শুনেছেন শেষ হবে বহু ভেবেও সেটি মনে করতে পারেন না।

 

ছবি ও লেখার সূত্র: ইন্টারনেট


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য লিখুন

Leave a Reply