জ্যাক মা এর জীবনী

প্রথম জীবনে জ্যাক মা ইরেজী শিক্ষক ছিলেন। পরে আলিবাবা ই-কমার্স প্লাটফর্ম তৈরী করেন। ২০১৪ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইনভেস্ট,  চৌদ্দ বিলিয়ন ডলার এর পাবলিক কোম্পানীতে পরিনত হয়। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সাব প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে আছেন।

 

প্রথম জীবনঃ

জ্যাক মা ইয়ুন (Jack Ma Yun) ১৯৬৪ সালে চীনের হ্যাঙ্ঝু ( Hangzhou, Zhejiang, China) তে জন্মগ্রহণ করেন। ছোট বেলা থেকেই তিনি ইংরেজী শিখা শুরু করেন। তিনি একটি হোটেলের বিদেশীদের সাথে কথা বলার মাধ্যমে ইংরেজী শিখার জন্য ৭০ কিলোমিটারও বাইসাইকেল চালিয়ে যেতো। পরে তিনি হোটেলের ইংরজী ভাষাভাষীদের পেনপাল (চিঠি লেখক) হিসেবে কাজ করেন। এক জন বিদেশী তার নামের উচ্চারণ করতে কষ্ট হওয়ায় তাকে জ্যাক বলে ডাকেন।

 

 

 

 

চার বার পরীক্ষা দিয়ে তিনি কলেজ পাস করেন।১৯৮৮ সালে সে ইংরেজী তে স্নাতক পাস করেন। পাস করার পর হাংঝু দিয়ানজী ইউনিভাসির্টিতে ইংরেজী শিক্ষক নিয়োগ হন।

ব্যবসার ক্যারিয়ারঃ

জ্যাক মা ৩০ টি ভিন্ন ভিন্ন চাকরীতে এপ্লাই করেন। পুলিশে চাকরী চাওয়াতে তাকে বলাহয় তুমি এই কাজে ভাল না। কেএফসিতে ইন্টারভিউতে ২৪ জনের মধ্যে ২৩ জনেরই চাকরী হয়ে যায়, একজন বাদ পরে সে ছিল জ্যাক মা। সে ১০ বার হারভার্ট বিজনেস স্কুলে চেস্টা করেন, কিন্তু বাদ পরেন।

বন্ধুদের সাথে তিনি ১৯৯৪ সালে আমেরিকায় যান। ১৯৯৫ সালের প্রথম দিকে ইন্টারনেটে তিনি বিয়ার সার্চ করেন। বিভিন্নদেশের এবং চায়নায় এ বেপারে কোন তথ্যই পায় নি। সে অবাক হলো। চায়না সম্পর্কে খুব কম তথ্য পেল। তিনি চায়নার বিভিন্ন তথ্যসহ একটি ওয়েবসাইট বানানোর সিদ্ধান্ত নিলো।

সকাল নয়টা চল্লিশ মিনিটে ওয়েবসাইটটি প্রকাশ করেন। এটিতে চীনের বিভিন্ন বিষয় লিখিত থাকে। সারে বারোটায় তার সম্পর্কে জানার জন্য তার কাছে মেইল আসতে থাকে। তিনি প্রায় ৮ লাখের ডলার ইনভেস্ট পায়।

তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েবসাইট তৈরী করতে থাকেন। আমেরিকার বন্ধুর সাহায্যে ওয়েবসাইটগুলো তৈরী হয়। তখনকার ইন্টারনেট এত স্লো ছিল- এক বর্ণনায় তিনি বলেছেন, ওয়েবসাইট লোড দিয়ে আমরা ডিঙ্ক করেছি, টিভি দেখেছি, কার্ড খেলেছি- আধা ঘন্টা পর অর্ধেক পেজ লোড হয়েছে।

১৯৯৯ ও ২০০০ সালে সরকারী ইকমার্স তৈরী করার কাজের প্রধান ছিলেন। তারপরেই তিনি ও তার সহযোগী ১৮ জন মিলে আলীবাবা প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০০ সাল পর্যন্ত তারা ২৫ মিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট পান।

এছাড়াও তিনি তাওবা (Taobao) লিনক্স (Lynx), আলী এক্সপ্রেস এবং আলীমামা (Ali Mama) প্রতিষ্ঠা করেন।

তার ক্যারিয়ার দেখলে এটা একটা চমৎকার কিছু বিষয় দেখা যায় যার অনেকগুলোই অন্যান্য লিজেন্ডদের মধ্যে পাওয়া যায় না।

আরো পড়ুনঃ বিল গেটস এর জীবনী

শিক্ষাঃ

জ্যাক মা বড় প্রোজেক্টের জন্য অনেককে একসাথে নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। একা একা স্টার্টআপ করেন নি। তিনি চেস্টা করে গেছেন। অধ্যাবসায়ের ক্ষেত্রে তিনি একজন উদাহরণ।

তার কয়েকটি শিক্ষনীয় বানীঃ

  • ভাল একটি দল গঠন করো যাদের কাছ থেকে তুমি শিখতে পারবে।
  • অন্যের ভুল থেকে শিখুন। সাকসেস এর গল্প থেকে নয়।
  • প্রথম হোন, সেরা না।
  • কঠিন কাজটি করুন। কঠিন কাজে প্রতিযোগিতা কম পাবেন।
  • ভবিষ্যতের জন্য কাজ করুন।
  • প্রতিযোগিকে ঘৃণা করো না, বরং রেসপেক্ট করো। প্রতিযোগিদের কাছ থেকে শিখো।

 

তথ্য সূত্রঃ

 

 

 

 

 


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য লিখুন

Leave a Reply