পৃথিবীর ৭৫% জায়গা মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত

বিশ্বব্যাংকের নতুন জরিপে বলা হয়েছে, পৃথিবীর চার ভাগের মধ্যে তিনভাগের জনগনই এখন মোবাইল ব্যবহার করতে পারে।

গত ১২ বছরে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা রকেট গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০০ সালে ছিল প্রায় ১ বিলিয়ন মোবাইল ব্যবহারকারী, আর বর্তমানে এই মোবাইল ব্যবহারকারীদের সংখ্যা ৬ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। গত বছরে প্রায় ৩০ বিলিয়ন এপস ডাউনলোড করেছে মোবাইল ব্যবহারকারীরা।

 

আমাদের দেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের মোবাইল ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রায় ৫ বিলিয়ন, আর এই জরিপ থেকে বুঝা যায় যে কোন দেশেই মোবাইল টেকনোলজি অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং এই প্রযুক্তি উচ্চমূল্যেরও নয়।

“মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা হিউম্যান এবং অর্থনৈতিক উন্নতি ছাড়াও অনেক ব্যসিক কাজেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ক্যাশ পেমেন্ট, চাকরি তৈরিতে ভুমিকা রাখে এছাড়াও রাজনীতিতে অংশগ্রহন করতেও নাগরিকদের উজ্জীবিত করে থাকে।” বললেন ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর ভাইস প্রেসিডেন্ট Rachel Kyte।

তিনি আরো বলেন”বর্তমান সময়ের সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর সকল জনগন,ব্যবসা এবং সরকার যেন নিজেদের ভাষায় সকল মোবাইল এপসগুলো ডেভেলপ করতে পারে আর মোবাইল সুবিধার পরিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে।”

এই রিপোর্টে মোবাইল বেজড প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্টকে হাইলাইট করা হয়েছে অনেক ক্ষেত্রে দেশের ভিত্তিতে, যেমন কেনিয়াতে মোবাইল পেমেন্টের ব্যবহার এবং প্যালেস্টাইনে চাকরি খোজার জন্য এপস। মোবাইল এপসগুলো এছাড়াও রোগ নির্ণয়ে,শিক্ষা এবং সরকারি কাজে মনিটরিং কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে এই সব উন্নয়শীল দেশগুলোতে।

স্মার্টফোন এবং তারবিহীন ডাটা প্যাকেজ এখনো অনেক মানুষের কাছেই পৌছায়নি। সেকারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অনেক এপসই তৈরি করা হয়েছে কম ব্যান্ডউইথে কিভাবে চালানো যায়, ব্রাউজিং এর জন্য WAP সার্ভিস, SMS  এবং অন্যান্য টেকনোলজিও তৈরি হচ্ছে এই কাট ছাট করে শুদুমাত্র ব্যন্ডউইথের কারণে।

আমাদের দেশে প্রায় ৯ কোটি মোবাইল ব্যবহারকারী রয়েছে। অর্থাৎ আমাদের দেশের প্রায় ৭০% জনগনই এখন মোবাইল সুবিধার অন্তর্ভূক্ত। তবে দুঃখের বিষয় হলো এর মধ্যে বেশিরভাগ অংশই শুধুমাত্র মোবাইল ব্যবহার করে কথা বলার জন্য। আধুনিক সকল ফিচার থেকে এই দেশের জনগন বঞ্চিত বলা যায়।

এই মাসে পরীক্ষামূলকভাবে টেলিটকের 3G সার্ভিস চালু হওয়ার কথা। আর আগামী বছরে সকল অপারেটর 3G সেবা দিবে বলে আশা করা যাচ্ছে কিন্তু যেই দেশে এখন পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০% ও নাই বলা যায় সেখানে কিভাবে 3G সার্ভিস সফলতার মুখ দেখবে তাই হলো দেখার বিষয়।

সরকারের উচিত ইন্টারনেট ব্যবহার করা যেন আরো সহজতর হয়। মোবাইল ফোনের পাশাপাশি সবাই যেন ইন্টারনেটও ব্যবহার করে তা আগে নিশ্চিত করা। তাহলেই হয়তো একটি সত্যিকারের ডিজিটাল দেশের মুখ আমরা দেখতে পাবো।

সব শেষে আপনার মতামত কি? মন্তব্য করে জানান। 🙂

 

 

 

2 thoughts on “পৃথিবীর ৭৫% জায়গা মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত”

  1. প্রতিটি দেশেই সেবা আসার পরে গ্রাহক বাড়ে। এজন্য বড় ইনভেস্ট নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মতো কারো কাছে দায়িত্বটি দিতে হয়। ওয়াই ম্যাক্স সেবা আসার আগে অনেক কথাই হয়েছিল। এখনো ঢাকার অনেক জায়গাই এই নেটওয়ার্কের অন্তর্ভূক্ত হয় নি।
    থ্রিজি আসার পরে থ্রিজি মোবাইলের একটা বাজার তৈরী হবে বলা যায়।

    1. হাসান যোবায়ের

      ওয়াইম্যাক্স এসেছে সেই ২০০৯ সালে আর এখন ২০১২ সালেও গ্রাহক সংখ্যা তেমন বেশি না। কারন উচ্চমূল্য। হয়তো 3G এর অবস্থাও এমনটাই হবে। 🙁

Comments are closed.