গুগলের চালকবিহীন গাড়ি সাধারণ চালকসহ গাড়ির চেয়ে বেশি নিরাপদ!

একটি রোবট কতটা নিরাপদ ড্রাইভার হিসেবে মনে করেন আপনি? গড়ে একজন মানুষের চেয়ে বেশি নিরাপদ নয় কি? অনেক দিক দিয়েই রোবট ড্রাইভার হিসেবে উপযুক্ত।

গুগল কিছুদিন আগে ঘোষণা দিয়েছে, গুগলের চালকবিহীন গাড়ি এখন পর্যন্ত ৩০০০০০ মাইল ভ্রমন করেছে সকল প্রকার নিয়ম কানুন মেনে এবং কোন রকম দূর্ঘটনার শিকার না হয়েই! (কিছু ছোট খাট ঘটনা ঘটেছে তবে তা অন্যান্য গাড়ির জন্য)

আমেরিকার গড়ে প্রত্যেক ড্রাইভার ১৬৫০০০ মাইল ড্রাইভ করার সময় একবার হলেও যে কোন ধরনের দূর্ঘটনার শিকার হন। তো এই পরিমাণ মাইল ভ্রমন করতে প্রায় সময় লাগে ১০ বছর তাও যদি নিরাপদভাবে এই পরিমান রাস্তা ভ্রমন করা হয় তাহলে ১৪ বছরতো লাগবেই। অথচ গুগলের ৩০০০০০ মাইল ভ্রমনের ধারে কাছেও না ঐ গড় রাস্তা।

গুগলের এই চালকবিহীন গাড়িতে টয়োটার ক্যামেরা রেঞ্জ প্রযুক্তি, রাডার সেন্সর এবং লেজার রেঞ্জ ফাইন্ডার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যা দিয়ে অন্যান্য গাড়ির দিকে খেয়াল রাখা হয়। এছাড়াও গুগলের ম্যাপে রাউটিং এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এক জোড়া মানুষ সব সময়ই  গাড়িতে অবস্থান করে থাকে যাতে কোন যান্ত্রিক গোলাযোগের কারণে দূর্ঘটনার শিকার না হয়। তবে গুগল বলেছে এখন থেকে প্রতি গাড়িতে একজন মানুষ থাকবে।

দেখে নিন চালকবিহীন গাড়ির ভিডিও।

অতিতে গুগল জানিয়েছিল এই রোবট গাড়ি সিলিকন ভ্যালিতে গুগলপ্লেক্স থেকে সান্তা মনিকা হয়ে সান ফ্রান্সিস্কোতে ভ্রমন করেছে। আর এই খবর হলো দুই বছর আগের।

আসলেই গুগলের এই কার্যক্রম গর্ব করার মতো; হয়তো এমন দিন খুব শিঘ্রই আসছে আমরা গাড়ির পিঠে হেলান দিয়ে থাকবো কোন রকম চিন্তা ভাবনা ছাড়াই রিল্যাক্স মুডে আর সাথে সাথে অন্যান্য কাজও করবো। তবে গুগল জানিয়েছে এখন পর্যন্ত সেই দিন আসতে অনেক দেরি।

” আমরা সেরা অভিজ্ঞতাটা দিতে চেষ্টা করবো, আমাদের বরফে ঢাকা রাস্তায় চালানো বাকি রয়েছে, মাঝে মাঝে সিগন্যালে সমস্যাও করে তবে চেষ্টা করা হচ্ছে সব ঠিক ঠাক করার” লিখেছেন ক্রিস উরমসন, চালকবিহীন গাড়ির ইঞ্জিনিয়ারিং এ যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি আরো জানান ” এখন আমাদের টিম মেম্বাররা সার্বক্ষনিক ড্রাইভার সিটে বসে থাকে এবং যখন দরকার গাড়ি নিয়ন্ত্রনও করে থাকে।”

উনার এই বক্তব্যের আলোকে বলা যায় এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে গুগলকে। তবে গুগলের মাধ্যমেই চালকবিহীন গাড়ির হাতছানি পাওয়া যাচ্ছে বলা যায়। যেহেতু এটা গুগল তাই আশা করাই যায়  অদূর ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির সকল গাড়ি হতেই পারে!

আমাদের গরিব এই দেশে নিত্য নতুন এই সব প্রযুক্তির মুখ অনেক দেরিতে দেখে। আমাদের এই বাংলাদেশে ট্রাফিক জ্যাম যেমন একটি জাতিয় সমস্যা তেমনি রাস্তা ঘাটে দূর্ঘটনার সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।  গুগলেই চালকবিহীন গাড়ি যদি অন্যান্য দেশের মতো আমাদের এই দেশেও চালু হয়ে যায় তাহলে হবে কি জ্যাম সমস্যার সমাধান? আমার কাছে মনে হয় না হবে। 🙁

আপনাদের কি মনে হয় বিস্তারিত মন্তব্যে জানান। 🙂

2 thoughts on “গুগলের চালকবিহীন গাড়ি সাধারণ চালকসহ গাড়ির চেয়ে বেশি নিরাপদ!”

  1. খবরটি পুরানো হলেও সুন্দর উপস্থাপনায় বেশ ভাল লেগেছ। দুনিয়ার সব গাড়ী চালকবিহীন হলে হয়তো কোন সমস্যা হতো না। যদিও ঘোড়ার গাড়ীকে আমি গুগল গাড়ীর চেয়ে আধুনিক মনে করি। 🙂

    1. হাসান যোবায়ের

      হুম খবর বেশ পুরনো। কারণ এটা গত দুই বছর যাবত চলছে। 😛 😛
      তবে রেকর্ডটা নতুন হয়েছে। 🙂

Comments are closed.