গাড়ি এবার বাতাস খেয়ে চলবে! লাগবে না ডিজেল, গ্যাস বা প্যাট্রোল!

একটা কথা আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। গুরুজনরা বলে থাকেন কাজ করো না কিছু করো না তাহলে বাতাস খেয়ে বেচে থাকবা নাকি? হ্যা এবার বাতাস খেয়েই চলবে। তবে মানুষের না গাড়ির।

এই নতুন প্রযুক্তির গাড়ি চলতে প্যাট্রোল, ডিজেল বা গ্যাসের কোন প্রয়োজনই নেই লাগবে শুধু হাওয়া! মানে বাতাস। ভাল খবর হচ্ছে “MDI” এয়ার ইঞ্জিন টেকনোলজি টাটা মটর গাড়িতে টেস্ট করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে ইন্ডিয়ার সরকার কি এই প্রযুক্তি গ্রহন করবে? কারণ পেট্রো ইন্ডাস্ট্রি থেকে প্রচুর পরিমাণে ট্যাক্স পায়। যাই হোক চলুন আমরা বিস্তারিত জানি এই চমৎকার প্রযুক্তি সম্পর্কে।

এই নতুন প্রযুক্তির গাড়িকে বলা হয় “AirPod” । An epitome of ‘Unification of Innovations’ !

 নতুন AirPod এ রয়েছে ইউনিক আর্কিটেকচার যা আগের কোন গাড়িতে ব্যবহৃত হয়নি। এই ধরনের ডিজাইন সাধারণত হাই এন্ড স্পোর্টস গাড়িতে পাওয়া যায় যা কার্বন ফাইবারে ব্যবহৃত হয়। MDI  প্রযুক্তির কিছু গাড়ি এখনও রয়েছে।

আরামদায়ক সিট এবং সুবিধাঃ

 ককপিট এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে কোন জায়গা অপ্রয়োজনে না থাকে। সামনের সিট এমনভাবে বসানো হয়েছে যাতে ড্রাইভারের ড্রাইভ করতে সমস্যা না হয়।

বিভিন্ন রকম সুবিধা রয়েছে এই গাড়িতে। ম্যাপ বোর্ড, ম্যাগাজিন অন্যান্য সুবিধাতো রয়েছেই সাথে আছে রেফ্রিজারেটর কম্পার্টমেন্ট যা সঠিক তাপমাত্রা রাখতে সাহায্য করবে।

Re-Filling the Tanks

এই গাড়িতে দুই ধরণের কন্টনেইনার রয়েছে। যারা ভাবছেন একেবারে ফাও চলবে গাড়ি তাদের আশা গুড়ে বালি। 😛 ইলেক্ট্রিক কানেক্টর রয়েছে বাম সাইটে আর Air supply কানেক্টর রয়েছে ডান সাইডে। আর হ্যা Air সাপ্লাইয়ের জন্য রয়েছে এয়ার স্টেশন। 😀

বাহ্যিক রুপ

 ভিতরে যেমন আধুনিকতার ছোয়া রয়েছে তেমনি বাইরের ডিজাইনও রয়েছে নান্দনিকতার ছোয়া।
চার চাকার গাড়ি!

এই গাড়িতে ব্যবহৃত হয়েছে চার চাকা। পূর্বে তিন চাকার ছিল কিন্তু পরে ইঞ্জিনিয়াররা সিদ্ধান্ত নেয় চার চাকার গাড়ি হিসেবে। এতে করে গাড়ির স্পীড যেমন বেড়েছে তেমনি টেকসইও বেশি হয়েছে। এছাড়া ডিজাইনেও এনেছে ভিন্নতা।

এই ইঞ্জিন আরো যেখানে ব্যবহৃত হয়েছেঃ 
Urban transporters
MDI’s eco-friendly cars (OneFlowAIR, MiniFlowAIR and CityFlowAIR)
MDI’s urban transporters (MultiFlowAIR)
Production and backup generators
Tow tractors and fork-lifts
Agricultural tractors
Boat engine
Light aircraft engine
এই প্রযুক্তির গাড়ি নিয়ে টাটা বেশ আশাবাদী। ইতোঃমধ্যে তারা টেস্ট করে ফেলেছে। কিছুদিন পর হয়তো বাজারে ছাড়া হতে পারে। যেহেতু নতুন প্রযুক্তি তাই এর পরিপূর্ণতা পেতে সময় লাগবে বৈকি। গাড়ির দাম কেমন হবে তার উপর নির্ভর করছে অনেক কিছু।
আমাদের দেশের জন্য এতটা যোগ্য নয় বলে আমি মনে করছি। আলাদা এয়ার স্টেশন এছাড়া বিদ্যুৎ কানেক্টর সব মিলিয়ে দেশের অবস্থার সাথে বিচার করলে ততটা মানান সই মনে হচ্ছে না। তারপরেও যদি স্বল্প মূল্যে এই গাড়ি বাজারে পাওয়া যায় তাহলে হয়তো আমাদের দেশেও আশানুরুপ সাড়া ফেলতে পারবে। বাকিটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
আপনাদের কি মনে হয়? মন্তব্যে জানান।

 

 

2 thoughts on “গাড়ি এবার বাতাস খেয়ে চলবে! লাগবে না ডিজেল, গ্যাস বা প্যাট্রোল!”

  1. সূর্যের আলোদে গাড়ী চলে,
    এর পর শোনলাম পানি খেয়ে গাড়ী জলে
    এখন শুনি বাতাসে চলে গাড়ী….

    আর মানুষের যে কত রকমের খাইতে হয়…. কবে যে বাতাস আর পানি খেয়ে মানুষ বাঁচবো… 😀

    1. হাসান যোবায়ের

      মানুষের খাওয়া শেষ হলে কেউ কাজ করবে না। তাই খাওয়া দাওয়ার দরকার আছে। 🙂

Comments are closed.