আমাজন রেইনফরেস্টের ১০টি অদ্ভুত প্রাণী

আমাজন  রেইনফরেস্ট এ অনেক ধরণের বিস্ময়কর সৃষ্টি রয়েছে। রক্তচোষা বাদুড়, পিরানহা,সাপ

এসবের কথাই সাধারনত আলোচনা হয়। কিন্তু এ সব ছাড়াও আরও অসংখ্য অদ্ভুত প্রাণী রয়েছে।

আজকে এমন ১০ টি অদ্ভুত প্রাণী সম্পর্কে এখানে আলোচনা করবো।

১ কিনকাজো (Kinkajou)

রেকন এর মত এই প্রাণীটির আছে সোনালী নরম মোটাসোটা ঘন লোম এবং আরও রয়েছে একটি লম্বা লেজ যা দিয়ে তারা গাছকে শক্ত করে আটকে ধরে রাখতে পারে। এদেরকে মধু ভাল্লুক ও বলে। গাছের ডালে এরা বাস করে। সাধারণত ফলমূল খেয়ে বাঁচে। দের জিহ্বাটি তাদের শরীরের তুলনায় লম্বা বলা যায়। গাছের ঝুলন্ত ফলকে ধরতে এবং ফুলের মধু চাঁটতে এই ৫ ইঞ্চি লম্বা জিহ্বা তারা ব্যবহার করে।

২ ইলেকট্রিক ঈল (Electric Eel)

আমাজনের মারকি নদীর এই বাসিন্দা মুহূর্তে শত শত ভোল্ট বিদ্যুৎ প্রবাহের মাধ্যমে মানুষকে অচেতন করে দিতে পারে। ঈল তাদের এই ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রাণী হত্যা করে এবং তাছাড়া এই ক্ষমতা ব্যবহার করে তারা অস্পষ্ট কিছু দেখতে বা নির্নয় করতে সক্ষম হয়। এরা নামে ঈল হলেও প্রকৃত ঈলের সাথে এদের মিল অনেক কম। তবে এরা হল ছুরি মাছ নামক এলেক্ট্রিক মাছের বড় সদস্য।

৩ পয়জন ডার্ট ফ্রগ(Poison Dart Frog)

উজ্জ্বল রঙের এই ব্যাঙ পৃথিবীর অন্য সকল ব্যাঙ্গের তুলনায় ভিন্ন। কেননা এরা অনেক বিষাক্ত। তাদের গায়ের সুন্দর সুন্দর নকশা মানুষকে আকৃষ্ট করবে তবে এই সুন্দর নকশাগুলোই মানুষকে তাদের সম্পর্কে সতর্ক করে। এরা শিকারী প্রাণী। এদের কিছু কিছু প্রজাতি এতো পরিমান বিষাক্ত যে এরা প্রাণীকে স্পর্শ করার সাথে সাথে তারা মারা যায়। বিজ্ঞানীরা এদেরকে বিষধর ব্যাঙ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

৪বুলেট পিঁপড়া(Bullet Ant)

পৃথিবীর সবচে বড় পিঁপড়া আমাজন বনে অবস্থিত,এই পিঁপড়াগুলো অনেকটা বোলতা বা ভীমরুলের  মত দেখতে। এই জাতীয় পিঁপড়া একাকী বাস করতে বেশি পছন্দ করে। গাছের কূটরে বা গোঁড়ায় বাসা করে। এদের প্রকৃত নাম জানা যায়নি। এদের বিশাল সাইজের(অন্য পিঁপড়ার তুলনায়) জন্য নাকি এদের হুলের অসম্ভব ব্যথার জন্য, কি জন্য এদেরকে বুলেট বলা হয় তা নির্দিষ্ট নয়। এদের অন্য নাম ২৪ ঘণ্টার পিঁপড়া । কারন এরা বিষাক্ত হুল সবসময় ধারণ করে থাকে।

৫ জেসাস লিযারড(Jesus Lizard)

জেসাস লিযারড, যখন শিকারির হাত থেকে পালাই তখন এরা পানির উপর দিয়ে দৌড়াতে পারে ।

এরা পানির ঘণ্টায় ৫ মাইল দৌড়াতে পারে! একটা প্রাণী কিভাবে পানির উপর দিয়ে নিজেকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে সেটা সত্যিই অদ্ভুত ব্যাপার!, তবে এটা তারা করতে পারে  সারফেস টেনশনকে প্রসারিত করে শরীরের ওজন কমিয়ে পায়ের আঙ্গুলের ঝাপটা এর পায়ের চামড়াকে প্রসারিত করে । এই পদ্ধতিতে এরা সাঁতার কাটে।

৬ফিশিং ইঁদুর (Fishing Bat)

এরা পোকা মাকড় খাওয়া থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখে, এই প্রজাতির ইঁদুর হল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ইঁদুর যাদের নখর রয়েছে যা অনেকটা বাজপাখির মত দেখায়। এদেরকে বুলডগ ব্যাট ও বলে কারন এদের কুকুরের মত নাক রয়েছে। রাতের আঁধারে এরা বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে মাছকে আক্রমণ করে ।

৭গ্লাস ফ্রগ (Glass Frog)

গ্লাস ফ্রগ এর শরীর ভেদ করে আলো প্রবেশ করতে পারে। এর ভিতরের সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দেখতে পাওয়া যায়। এমনকি হৃদযন্ত্রের স্পন্দন ও দেখতে পাওয়া যায়! এটার নানা রঙের তারতম্যের জন্য এটাকে সহজে দেখতে পাওয়া যায়না।

৮পিনাট হেড বাগ(Peanut Head Bug)

দেখতে অদ্ভুত পোকাটির মাথা থেকে কন্দযুক্ত স্ফীত যে চিনাবাদাম বের হয়েছে সেটি  উল্লেখযোগ্যভাবে চোখে পরার মতন। এই বাদামটি কিভাবে মাথায় গজালো তার ব্যাখ্যা অনিশ্চিত, যদিও বিজ্ঞানীর মতে এটি একটি টিকটিকির মাথার মতন , এবং এই অদ্ভুত অঙ্গটি ছাড়া শিকারীকে এরা নিরস্ত করতে পারেনা অর্থাৎ এই জাতীয় পোকা মুখের সামনের বাদাম ছাড়া অসহায় যদিও তাদের পাখার মধ্যে পেঁচার চোখের মত যে দাগ রয়েছে, তাও প্রতিরক্ষার কয়াজ করে , এদের শরীরের সমস্ত অংশ প্রবঞ্চনা বা কৌশলের শক্তি ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে।

৯পটু(Potoo)

দিনের বেলায়, পটু গাছের মৃত শাখার উপরে অবস্থান করে।   এটা গাছের সাথে তাদের পালককে এমনভাবে  মিশিয়ে রাখে যে বুঝায় যায়না কোন কিছু রয়েছে কিনা ডালগুলোতে!  এরা নিশাচর, উড়ন্ত কীটপতঙ্গ সংক্রামক পাখি, তাই তার দিনে মূর্তি-মত আচরণ করে যাতে শিকারী থেকে গোপন থাকা যায়।

১০Candiru Fish

দুষ্ট  প্রকৃতির এই প্রাণীকে মাছের কিলান ও বলে । এরা ৪০ সেন্টি মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। অন্যান্যগুলো তুলনামূলক ছোট হয়। এই সকল ছোট প্রজাতিরা মানুষের মূত্রনালিতে পরজীবী হিসেবে থাকতে চায়।