চট্টগ্রামের কিছু আঞ্চলিক প্রবাদ

আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালই আছেন। আজকে আমি আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম আমাদের চট্টগ্রামের কিছু আঞ্চলিক প্রবাদ যা ব্যাঙ্গাত্মকভাবেই ব্যবহৃত হয়। আমার আশেপাশের মুরব্বীরা এবং আমরা অনেকেই এসব ব্যবহার করি।
ব্র্য্যকেটে চলিত ভাষায় কি বুঝায় তা লিখে দিলাম।

তো চলুন দেখি প্রবাদগুলো-
১)ন ফারো এককান উরি ভাঙো তিন্নান(একটা করতে পারেনা তার উপরে ৩টি বাড়ায় দেয়)  কারু অজ্ঞতা বুঝাতে এটি ব্যবহার করে।
২)আলুর লতা ট্যাঁরা ফার অয়্যি(আলুর লতা ঘের পার হওয়া )=কেউ অনেক দূর সম্পর্কের আত্মীয়তা খুঁজলে এটি ব্যবহার করে।
৩)হন্ডে আদিনাথুর ফা-র আর হন্ডে ছলে খের হার( কোথায় আদিনাথীর পাহাড় র কোথায় ছাগলে ঘাস খায় ) এটা ব্যবহার করে যদি কারো ধারণা বাস্তবের সাথে কোন মিল ই না থাকে।
৪)গাত নাই তেনা মিডাদি ভাত হানা (গায়ে পরার কাপড় নাই কিন্তু মিঠা দিয়ে ভাত খায়) = কেউ ফুটানি দেখালে তার জন্য এটা ব্যবহার করে
৫)গরত চেরাগ নদি মসইদুদ চেরাগ( ঘরে বাতি না দিয়ে মসজিদে বাতি দেওয়া )= অর্থাৎ ঘরকে সহায়তা না করে পরকে সহায়তা করা
৬)ঘরের গরু গাডার খের নহাই(ঘরের গরু ঘাটার ঘাস খায়না) =ঘরের লোকের কাছে ঘরের লোক সম্মানী হয়না
৭)দুউরুত ফাই উঅরুত লাগাই(দুয়ারে কুড়িয়ে পেয়ে কাজে লাগানো) =সামনে পেয়ে কাজে লাগাই দেওয়া
৮)পথত পায়লাম কামার দা বানাই দে আর (পথে কামার পেয়ে দা বানাই নেওয়া)= সামনে পেয়ে কাজে লাগাই দেওয়া
৯)মব্বতের আঁচিলে হন্ডে তুই আঁচিলে? = অতি দরদ কেউ দেখাইলে এটা বলে
১০)আগর আল জিক্কে ফিছর আল ইক্কে(সামনেরটা হাল(গরুর হাল) যেদিকে পিছেরটাও সেদিকে যায়)= সামনেরটাকে পরের সবাই অনুসরণ করে।

১১)এডাম তাইলি ঘর জামাই ন যায়(যোগ্যতা থাকলে ঘর জামাই হয় না)= যোগ্যতা থাকলে কারো উপরে নির্ভর করতে হয়না।

আজ এই পর্যন্ত
কেমন লাগল জানাবেন।  আল্লাহ হাফেয।

4 thoughts on “চট্টগ্রামের কিছু আঞ্চলিক প্রবাদ”

Comments are closed.