নতুন অ্যান্ড্রয়েড ইউজারদের গাইড লাইন

চারিদিকে আজ অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ছড়াছড়ি। সবার হাতে হাতে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস। ২০১২ সালের শেষ দিক থেকে ২০১৩ তে এসে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম চালিত ডিভাইস সাধারণ ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে এসেছে। আমাদের দেশে স্মার্টফোন মানেই অ্যান্ড্রয়েড চালিত মোবাইল ফোন। অ্যান্ড্রয়েড এর জনপ্রিয়তা এতই যে এর ভীড়ে অ্যাপল, ব্ল্যাকবেরি বা উইন্ডোজ চালিত স্মার্ট ফোন ইউজার খুবই কম চোখে পড়ছে। এটা আমাদের দেশের স্মার্ট ফোন এর বর্তমান প্রেক্ষাপট। এ রকম অবস্থা হবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আমদের দেশের দুইটি প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ( Walton ) এবং সিম্ফোনি ( Symphony ) নানা মডেলের অ্যান্ড্রয়েড চালিত স্মার্ট ফোন  এবং টাবলেট বাজারজাত করছে। বাজারে আলাদা স্পেসিফিকেশনের  একের পর এক ডিভাইস রিলিজ করার কারণে ক্রেতা সাধারণ সিদ্ধান্তই নিতে পারছেন না। কোন না রেখে কোনটা কিনবেন।  আর এ ডিভাইস গুলোও বিক্রি হচ্ছে মোটামুটি সস্তায়। সস্তার সাথে আবার অনেকে মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মানের বিচার অন্য সময় হবে। আজ কিছু টিপস্‌ দেই। অ্যান্ড্রয়েড এর জনপ্রিয়তা এতই যে এর ছোঁয়া সিনিউজেও লেগেছে। লক্ষ্য করলে দেখবেন সিনিউজের মোবাইল পাতায় যে স্মার্টফোন গুলো সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয় তার ৯৫% ই অ্যান্ড্রয়েড চালিত স্মার্ট ফোনের।

অ্যান্ড্রয়েড এর জনপ্রিয়তার ভীড়ে আপনিও নিশ্চয়ই একটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের গর্বিত মালিক বা একটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস কেনার পরিকল্পনা করছেন। তাই আপনি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসটির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাইছেন। এই গাইড লাইনটি আপনাকে বুঝতে সহায়তা করবে কিভাবে আপনার প্রাত্যহিক জীবনের সাথে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসকে নিবিড় ভাবে জড়িয়ে ফেলতে পারবেন। শুরুর আগে একটা কথা বলে রাখা ভাল। এই আর্টিকেলটিতে আপনাদের যে স্ক্রীনশট গুলো দেখানো হবে তার সাথে আপনার ডিভাইসের ইন্টারফেসের কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে। এর একটা কারনও রয়েছে। আমরা জানি অ্যান্ড্রয়েড একটি ওপেনসোর্স অপারেটিং সিস্টেম। তাই চাইলে যে কেই এটি কাস্টমাইজ করতে পারে। এখানে দেওয়া স্ক্রীনশট গুলো অ্যান্ড্রয়েড এর অফিশিয়াল ভার্সন বা স্টক এনভায়রনমেন্ট থেকে নেওয়া হয়েছে। আপনি যদি স্যামসং গ্যালাক্সি সিরিজের বা অন্যান্য ফোন প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠানের ( সনি, সিম্ফোনি, ওয়ালটন ইত্যাদি ) ডিভাইস ব্যবহার করেন তবে কিছুটা ভিন্নতা আসতে পারে। কারণ এরা ডিভাইস গুলোতে স্টক রমের পরিবর্তে নিজেদের তৈরি কাস্টম রম ব্যবহার করে থাকে। তাই ইন্টারফেসে সামান্য পরিবর্তন চোখে পড়তে পারে। আমার মতে এতে আপনার কোন সমস্যা হবার কথা না। আলোচনা যথা সম্ভব সহজ করা হবে বলে আশারাখি আপনার  কোন কিছু বুঝতে সমস্যা মনেই হবে না। তাহলে শুরু করা যাক –

গুগল অ্যাকাউন্ট সেটাপঃ

অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস চালু করার পর আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হতে পারে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট এর তথ্য বা বলা হবে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে যদি ইতিপূর্বে আপনি তা না করে থাকেন। এটা টেকনিক্যালি একটি ঐচ্ছিক বিষয়। গুগল অ্যাকাউন্ট ছাড়াও আপনি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারেন। তবে গুগল অ্যাকাউন্ট সহ অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহার করাই ভাল। আমরা জানি অ্যান্ড্রয়েড গুগল কর্তৃক তৈরি কৃত অপারেটিং সিস্টেম। আর গুগল অ্যাকাউন্ট এর সাথে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের সম্পর্ক খুবই গভীর। মনে প্রশ্ন জাগতে পারে অ্যান্ড্রয়েড এর সাথে গুগল অ্যাকাউন্ট যুক্ত করে কি কাজে লাগবে ? হুম, এমনটা মনে হওয়া ¯^vfvweK| গুগল অ্যাকাউন্ট সহ অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করার বেশ কিছু সুবিধা আছে। কারন ব্যবহৃত গুগল অ্যাকাউন্টে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের সেটিংস্‌, ইন্সটল করা অ্যাপলিকেশন সহ বিভিন্ন গুগল সার্ভিস ( যেমন – জিমেইল, গুগল ক্যালেন্ডার, গুগল কন্ট্রাক্টস ইত্যাদি ) সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য ব্যাকআপ রাখা হবে। আপনি যখন নতুন আরেকটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহার শুরু করবেন বা বর্তমানে ব্যবহৃত ডিভাইসটি ডিফল্ট ফ্যাক্টরি সেটিংস এ  ফেরত আনেন তবে তখনও সবকিছু আবার আগের মতো ফিরে পাবেন। এছাড়া ইমেইল, কন্ট্রাক্টস্‌, ক্যালেন্ডার, ইভেন্টস্‌ এবং অন্যান্য ডাটা আপনি ওয়েবেও অ্যাক্সেস করতে পারবেন। অ্যান্ড্রয়েড ¯^qswµqfv‡e আপনার ছবিগুলোকে গুগল প্লাস এ প্রাইভেট অ্যালবামে আপলোড করে ফলে আপনি সবসময় একটি ব্যাকআপ কপি পাচ্ছেন।

google-sync-android

অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস শুরু করার সময় আপনি যদি কোন গুগল অ্যাকাউন্ট যুক্ত করে না থাকেন তবে অ্যান্ড্রয়েড সেটিংস্‌ স্ক্রীন থেকে পরবর্তীতে একটি গুগল অ্যাকাউন্ট যুক্ত করতে পারবেন।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে ফোন হিসেবে ব্যবহার করুনঃ

অন্যান্য স্মার্ট ফোনের মতো অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন এ ও কম্পিউটারের মতো কাজ করা ছাড়াও একটি সাধারণ ফোনের প্রায় সকল ফিচার বিদ্যমান।  এখানে আপনি অ্যাপলিকেশন ব্যবহার করে ওয়েব ব্রাউজিং, ইমেইল করা, ভিডিও স্ট্রিমিং, গেমস খেলা, ছবি এডিট করা সহ অফিস ডকুমেন্টও লিখতে পারবেন। যাইহোক আপনি যদি অন্য প্লাটফর্ম ( যেমন – জাভা ) থেকে আসেন এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে শুধু ফোন হিসেবেই ব্যবহার করতে চান তাতেও কোন সমস্যা নেই । আপনি অ্যান্ড্রয়েড ফোন অ্যাপলিকেশনটি ব্যবহার করে কল করতে এবং Messaging  অ্যাপলিকেশন ব্যবহার করে মেসেজ আদান প্রদান করতে পারবেন। ডিফল্ট ভাবে Messaging  এবং ফোন অ্যাপলিকেশন দুইটি হোম স্ক্রীনের ডক এরিয়াতে থাকে। ফোন অ্যাপলিকেশনটি নীল রংয়ের এবং Messaging  অ্যাপলিকেশনটি সবুজ রংয়ের টেক্সট বাবল আকৃতির দেখতে।

use-android-as-a-phone

এবার শেষ করতে হচ্ছে। আরও অনেক কিছু বলার আছে অ্যান্ড্রয়েড নিয়ে। । সবাই ভাল থাকবেন। ধন্যবাদ।