আলোচিত কিছু ফটোগ্রাফী

কেমন আছেন সবাই? আশা করছি ভাল আছেন। আজকে আপনাদের কাছে উপস্থাপন করব অন্যরকম কিছু।  পৃথিবীতে সকল  স্থানেই অন্যায়, অবিচার রয়েছে এবং  প্রতিবাদও রয়েছে। যদিও অধিকাংশ সময়ই জালেমই জয়ী হয়। প্রতীবাদ শুধু মাত্রআন্দোলন এর মাধ্যমেই করা যায়না বরং  বিভিন্ন ভাবে অন্যায়ের প্রতীবাদ করা সম্ভাব। যেমন গান, সিনেমা, আলোকচিত্র, হ্যান্ড বিল। তেমনি প্রতীবাদের একটি ভাষা হচ্ছে ফটোগ্রাফী। হয়ত কখন ফটোগ্রাফারের চিন্তাই থাকেনা অথবা ভেবেও দেখেনি তারআ এই ফটোগ্রাফটি অন্যায়ের প্রতীবাদ। কেউ বা শখে ফটোগ্রাফ তুলেন। কিন্তু পরবর্তিতে তাদের এই কর্ম যখন মানুষের সামনে উন্মোচন হয় তখন মানুষ বুঝতে পারে তা অন্যায়।আজকে আপনাদের সমনে এমনই কিছু ফটোগ্রাফী তুলে ধরব।

  • ফটোগ্রাফীর কথা বললে প্রথম যে ফটোগ্রাফীটির কথা বলতে হয় তা হচ্ছে “Sudan Famine UN food camp”।
    • টাইটেল – “Sudan Famine UN food camp”
    • ক্যাপচার সময় – “1994”
    • ফটোগ্রাফার – “Kevin Carter”
    • স্থান – “Sudan Famine”
pulitzer_94_500

পুরষ্কার প্রাপ্ত এই ছবিটির ইতিহাস খুবই মর্মান্তিক।  সময়কাল ১৯৯৪। দূর্বিক্ষ চলছে সমগ্র সুদান জুড়ে। খাদ্য সংকটে মারা যাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। বিভিন্ন দেশ থেকে ত্রান আসছে। তেমনি ইউনাইটেড স্টেট থেকেও ত্রান আসে। বিতরন করার জন্য ক্যাম্প করা হয় ক্যাম্প এর নাম ইউনাইটেড ন্যাশন ফুড ক্যাম্প। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি শিশু হামাগুরি দিয়ে ত্রান ক্যাম্পের দিকে এগুচ্ছিল এবং শিশুটির কাছে থেকে ত্রান ক্যাম্পের দূরুত্ব ছিল ১ কিলোমিটার।  হামাগুরু দিয়ে এগুচ্ছিল কারন উঠে দাড়াবার মত শক্তি ঐ শিশুটির ছিলনা। পিছনে দেখা যাচ্ছে একটি শকুন। শকুনটি অপেক্ষা করছে কখন শিশুটি মারা যাবে এবং মারা যাবার পর শিশুটি খাবে। এর পরের কি হয়েছিল তা নিকোষ কালো অন্ধকার। সমগ্র পৃথিবীর মানুষ জানে না শিশুটি কি বেচে ছিল নাকি শকুনের খাদ্যে পরিনত হয়েছিল। এমন কি ফটোগ্রাফার কার্টারও কারন ছবিটি তুলেই তিনি সেই স্থান ত্যাগ করেন। সবচেয়ে আশ্চার্যের সংবাদ হচ্ছে এই ছবিটি তোলার তিন মাস পর কার্টার ডিপ্রেশনে মারা যান। 🙁

  • অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে এসে এ পর্যন্ত বহু মানুষ প্রান দিয়েছে। কেউ ইচ্ছায় কেউ অনিচ্ছায়। নিচের ছবিটিতে যে মানুষটা পুড়ছে সে ইচ্ছায় নিজেকে জ্বালিয়ে দেয়।
    • টাইটেল – “Burning Monk – The Self-Immolation”
    • ক্যাপচার সময় – “1963”
    • ফটোগ্রাফার – “Malcolm Browne”
    • স্থান – “Saigon”
budist_monk_on_fire

সময়টা ছিল ১১ই জুন ১৯৬৩ সাল। ভিয়তনামা শহরের কেন্দ্রস্থল “Saigon” তে একজন বৌদ্ধ্য সন্ন্যাসী নিজের গায়ে আগুন দিয়ে নিজেকে পুড়িয়ে ফেলেন । এই বৌদ্ধ্য সন্ন্যাসির নিজেকে পোড়ানোর কারন ছিল দক্ষিন ভিয়েতনামার সরকারের কর্তৃক বৈদ্ধ্য ক্যাথলিকদের দমন, আটক, ধর্ম অনুশীলন ও বিস্তারে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ।

  • যদিও হিটলার একজন বিপ্লবি তারপরেও  হিটলার বহু ইহুদিকে হত্যা করে। এবং এই হত্যা করেই হিটলার বিপ্লবি হন। কথিত আছে এক সাথে কয়েকশত মানুষকে গরম উনুনে আটকে হত্যা করেন হিটলার। নিচের ছবিটি হিটলারের শাসন আমলের।
    • টাইটেল – “The last Jew in Vinnitsa”
    • ক্যাপচার সময় – “1941”
    • ফটোগ্রাফার – “”
    • স্থান – “Vinnitsa”
410px-einsatzgruppen_killing

ছবিটির ফটোগ্রাফার কে তা আজ পর্যন্ত জানা যায়নি। ছবিটি নেওয়া হয়েছিল “Einsatzgruppen” নামের একজন সৈনিকের ব্যাক্তিগত ডাইরি থেকে। ডাইরিটির টাইটেল ছিল “Last Jew of Vinnitsa”। Vinnitsa শহরের ইহুদিদেরকে একে একে হত্যা করা হয় এবং একাত্রে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এই ব্যাক্তিটি ছিল উক্ত শহরের সর্ব শেষ ইহুদি। “Einsatzgruppen”এর ব্যাক্তিগত এলাবাম থেকে আরো কিছু ছবি পাওয়া যায় যা ইহুদিদেরকে হত্যা সংক্রান্ত।

  • আমি নিজে এই ছবিটি সম্পর্কে কি বলব তা বুঝে উঠতে পারছিনা। তবে এইটুক বলতে হচ্ছে মনবল কি তা এই ছবিটি দেখলেই বুঝা যায়।
    • টাইটেল – “The Power of One”
    • ক্যাপচার সময় “2007”
    • ফটোগ্রাফার – “Oded Balilty”
    • স্থান – “West Bank”
spot_news_-1

খুব বেশি দিন হয়নি এই ছবিটি তোলা হয়েছে। ২০০৭ সালে যখন ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী West Bank থেকে অবৈধ ঔপনিবেশিকরদের উচ্ছেদ করতে আশে তখন এই ইহুদী মহিলা একা ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীকে বাধা দেয়। যদিও পরে কি হয়েছিল জানা যায়নি।

  • নির্মম হলেও সত্যা এখন পর্যন্ত যত মানুষ হত্যা করা হয়েছে তা শুধু মাত্র  ক্ষমতার জন্য। ক্ষমাতর লোভে মানুষ তার বিবেক বিসর্জন দিয়ে অসংখ্য মানুষ হত্যা করে।  তবুও ভবিষৎ ফলাফল সম্পর্কে অবগত হয়ে কিছু মানুষ প্রতিবাদ করে। তেমনি একটি ছবি হচ্ছে এটি।
    • টাইটেল – “Tiananmen Square”
    • ক্যাপচার সময় “1989”
    • ফটোগ্রাফার – “Stuart Franklin Magnum”
    • স্থান – “Tiananmen Square”
tiananmen_square

পুরষ্কার প্রাপ্ত এই ছবিটির ইতিহাসও খুবই করুন। ১৯৮৯ এর দিকে চীনের কমিউনিষ্টি সরকার তার ক্ষমতা রক্ষার জন্য Tiananmen Square ট্যাংক পাঠায়।  কিন্তু Tiananmen Square পৌছার পূর্বেই একজন ছাত্র এসে ট্যাংকের সামনে দাঁড়ায়। ট্যাংক ড্রাইভার পারত ছেলেটিকে হত্যা করতে কিন্তু ড্রাইভার তা করেন নাই। যদিও কিছু দিন পর  Tiananmen Square রক্তের সাগরে পরিনত হয়েছিল।

চলুন আমরাও শুরু করু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হোক তা আমাদের মুখের কথা অথবা হোক তা ছন্দে আকা কবিতা। ভাল ও সুস্থ থকবেন সবাই এবং অবশ্যই টিউটোরিয়ালবিডি এর সাথেই থকবেন।

Post Date: December 5, 2013