যেভাবে বাড়াবেন টুইটার ফলোয়ার! [কমপ্লিট টুইটার মার্কেটিং গাইড]

বর্তমানে টুইটার দিয়ে ব্যবসায়িক সুবিধা নিতে শুধু প্রোফাইল সাজিয়ে রাখলেই চলবে না। আপনার ব্যবসায়ের সার্ভিস বা পণ্য মার্কেটিং করতে হলে আপনার দরকার তা সঠিক জায়গায় পৌঁছায় দেয়া। তাই সঠিক ভাবে টুইটার দিয়ে আপনার ব্যবসায়ের সার্ভিস বিক্রয় করতে হলে আপনার দরকার টুইটার ফলোয়ার। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে আসলেই কি শুধু সার্ভিস বিক্রয় করতেই টুইটারে ফলোয়ার দরকার? না! আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে টুইটারে ফলোয়ার দরকার:

পরের পোস্ট ই-মেইলে পেতে সাবস্ক্ইব করুন।:

ই-মেইলের লিংকে ক্লিক করে একটিভেট করে নিন। FeedBurner

সবাইকে আমার আজকের টিউটোরিয়ালটিতে স্বাগত জানাচ্ছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানের কাজের বাইরে আপনাদের জন্য প্রতিনিয়ত কিছু রিসোর্স শেয়ার করার চেষ্টা করে যাচ্ছি, এই আর্টিকেলটিও সে প্রয়াসেরই অংশ। আজ আমরা কথা বলো টুইটার মার্কেটিং নিয়ে।

Image by edar from Pixabay
  • ক) টুইটারে ফলোয়ার থাকলে সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার গুরুত্ব বজায় থাকবে। আপনার যত বেশি ফলোয়ার থাকবে আপনি সোশ্যাল মিডিয়াতে ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন। কারণ আপনার ভাল পারফরমেন্সের কারণের অন্যরা আপনাকে ফলো করছেন। একবার চিন্তা করে দেখুন, টুইটার দিয়ে যদি আপনি কখনও আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য একজন ডিজাইনার সার্চ করেন তবে আপনি কাকে সিলেক্ট করবেন আপনার কাজের জন্য যাকে ১০০ জন ফলো করেছে নাকি ১০,০০০ জন ফলো করেছেন এমন কাউকে? একইভাবে আপনার নিজেরও যত বেশি ফলোয়ার থাকবে সবার মাঝে থেকে ক্লায়েন্ট আপনাকেই বেঁছে নিবে। কিংবা আপনার প্রোডাক্টটিই ক্লায়েন্টরা কিনতে উৎসাহিত হবে।
  • খ) আপনার ফলোয়াররাই আপনার মেসেজ অন্যের নিকট পৌছিয়ে দিয়ে থাকে। আর আপনি যখন আপনার ব্লগ অথবা আপনার সার্ভিস টুইটারে মার্কেটিং করবেন, একটি কথাই মনে রাখতে হবে, আপনার যত বেশি বেশি ফলোয়ার থাকবে আপনার ব্যবসায়ের আয়-রোজগার তত বেশি বাড়বে।
pixabay

কিন্তু শুধু শুধু টুইটারের অ্যাকাউন্ট করেই ফলোয়ারের আশা করলেই হবে না। আপনার টুইটারের প্রোফাইলকে তথ্য-পূর্ণভাবে সাজিয়ে। আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্সদের মাঝে নিজেকে মিলিয়ে নিতে কাজ করতে হবে।

ফলোয়ারদের ব্যস্ত রাখা এবং নতুন ফলোয়ার তৈরি করার টিপস:

TWITTER FOLLER

আপনার প্রোফাইল সাজানো হয়ে গেলে আপনি যখন মনঃস্থির করলে টুইট করার জন্য, ঠিক এমন সময়ই একটি কথা ভাল ভাবে মনে রাখবেন, টুইটারে আপনার ফলোয়ারদেরকে ব্যস্ত রাখতে হলে আপনাকে প্রতিনিয়ত সামঞ্জস্যপূর্ণ টুইট শেয়ার করতে হবে। প্রতিদিন কমপক্ষে ১টি! অথবা প্রতি ঘণ্টায় একটি হলে আরও ভাল হয়। আপনি যত বেশি ইনফরমেটিভ এবং কার্যকরী টুইট শেয়ার করবেন তত বেশি শেয়ার এবং ফলোয়ার পাবেন। আর যখনি আপনার শেয়ার, টুইট রি-টুইট, ফলোয়ার পেতে থাকবেন আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে অবস্থান ততই শক্তিশালী হবে।

  • আপনি টুইটারে প্রতিনিয়ত টুইট আপডেট শেয়ার করতে চাইলে, কাস্টমাইজড টুইটার শিডিউল তৈরি করুন এবং সেই শিডিউল অনুযায়ী কাজ করে যান। টুইটারে অটো শিডিউল সেটআপ করার টুল Hootsuite সবচেয়ে বেশি কার্যকারী।
  • তবে একটি কথা মনে রাখতে হবে, রেগুলার টুইট শেয়ার বলতে এমনটি নয় যে, আপনি টুইট শেয়ার করে আপনার ফলোয়ারদের ওপর বন্যা বইয়ে দিবেন। তাহলে হিতে বিপরীত হবে নিশ্চিত। কিভাবে প্রতিনিয়ত আপনার টুইট আপডেট রাখবেন সেটা যদি না বুঝে থাকেন তবে টুইটারে অনেক ফলোয়ার আছে এমন কোন প্রোফাইল ভিজিট করে তাদের টুইট শেয়ারের আইডিয়া নিয়ে কাজে লাগাতে পারেন।
  • মাঝে মাঝে আপনার নিজেকে নিয়ে অফ-টপিক পোস্ট করতে পারেন। এতে আপনার ফলোয়াররা একঘেয়েমি পোস্টের বদলে কিছুটা হলেও আপনার সম্পর্কে জনাতে পারবে। আপনার নিজেই সম্পর্কে ফলোয়ারদেরকে জানার পথ তৈরি করে দিন। এতে আপনাকে ভাল করে জানার এবং বিশ্বাস করার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যাবে। যা আপনার ব্যবসায়ের জন্য সহায়ক হবে। তবে মনে রাখতে হবে হবে নিজেকে নিয়ে বেশি এক্সপোজ করবেন না আগ বাড়িয়ে। এবং সব সময় আপনার মূল টুইটকে সবার উপরে রাখে প্রাধান্য দিন।
  • সম্ভব হলে আপনার প্রতিটি নতুন ফলোয়ারদের সাথে কথা বলুন। যখনি কেউ আপনাকে ফলো করবে সম্ভব হলে তাকে ইনস্ট্যান্ট “Hi!” লিখে হলেও কথা বলুন। কমপক্ষে নিজেদের পরিচয়টা শেয়ার করুন। সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট ব্যাপার হচ্ছে, প্রাইভেট মেসেজ দিয়ে কথা বলার চেয়ে, আপনি বরং পাবলিকলি কথা বলুন। এতে আপনার অন্য ফলোয়াররা জানবে আপনি বন্ধু ভাবাপন্ন এবং তারাও আপনার সাথে কথা বলতে নিজ থেকে ইচ্ছুক হবে।
  • মনে রাখবেন টুইটার পাবলিক সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম। এটা কোন চ্যাটরুম নয়। এটা এমনি একটি প্লেস যেখানে একজন আরেকজনের সাথে নেটওয়ার্কের মত জড়িয়ে থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনি যখন কাউকে তার ইউজার নাম @username দিয়ে ম্যানশন করে কথা বলা শুরু করবেন তখন সেটি শুধুমাত্র সেই ব্যক্তি এবং আপনার মাঝে সীমাবদ্ধ থাকবে। আপনি যদি চান যে মেসেজটি সেই ব্যক্তি সহ সবাই দেখবে তবে তার ইউজার নামটি শুরুতে না দিতে একদম শেষ দিতে পারেন।

হ্যাশট্যাগ এবং রি-টুইট:

RETWEET ACCOUNT

রিলেভেন্ট বা সামঞ্জস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্টের মাধ্যমে আপনার ফলোয়ারদেরকে আপনার প্রোফাইলে ব্যস্ত রাখার অর্থই হচ্ছে টুইটারে আপনি একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। কিন্তু কিভাবে আপনি এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হতে পারবেন?

হ্যাশট্যাগ এবং রি-টুইট, টুইটারে এমন দুটি টুলস যা দিয়ে আপনি আপনার ফলোয়ারদের মধ্যে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিতে পারবেন। রি-টুইট হচ্ছে অন্যের শেয়ার করা টুইট যা আপনি নিজের প্রোফাইলে শেয়ার করেছেন। আপনি প্রতিনিয়তই গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক, কনটেন্ট রি-টুইট করে শেয়ার করলে আপনার নিজের টুইট গুলোরও রি-টুইট হবার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যাবে। আপনি যেভাবে টুইট করবেন:

  • ক) আপনার টুইটের সাথে “please retweet” কথাটি টুইটে শেয়ার করলে আপনার টুইটটি শেয়ার হবার সম্ভাবনা অন্তত ৪গুন বেড়ে যায়।
  • খ) আপডেট খবর এবং লিঙ্ক রি-টুইট করতে পারেন। এটা হতে পারে কোন ব্রেকিং নিউজ অথবা চলতি সংবাদ।
  • গ) কোন সার্ভিস বা টুইটে “free” শব্দটি লিখা আছে এমন টুইট রি-টুইট করুন। কারণ, এধরনের টুইট শেয়ার হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
  • ঘ) হ্যাশট্যাগ সাইন(#) দিয়ে যেকোনো কি-ওয়ার্ড শেয়ার করতে পারেন। এতে করে আপনার কি-ওয়ার্ডটি উদাহরণ স্বরূপ #marketing or #freelance টুইটার সার্চ রেজাল্ট অবস্থান করে নিতে পারবে। এতে যেকেউ সার্চ করে আপনার টুইট থেকে আপনার ফলোয়ার এবং আপনার ক্লায়েন্টে পরিণত হতে পারে।

টুইটারে সবচেয়ে বড় ভুল:

PROFILE TWITTER

দিনে দিনে আপনার ফলোয়ার সংখ্যা যত বেশি বাড়তে আপনার উচিৎ হবে সবসময় তাদের হেল্প করা, হাসিমুখে রাখা। কখনই এমন কিছু করবেন না যার কারণে এক নিমিষেই আপনি হিরো থেকে জিরো বনে চলে না যান! যে ভুলগুলো টুইটারে আপনাকে জিরো বানিয়ে দিতে পারে সবসময় সেগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখুন:

  • ক) কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করা, কারো ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে পাঠক প্রতিক্রিয়া চাওয়া, কাউকে টুইটারেই ভয়ভীতি দেখানো, অথবা আপনার ব্যক্তিগত জীবনের কোন তিক্ত ঘটনা শেয়ার করা।
  • খ) প্রতিটি নতুন ফলোয়ারকে অটোমেটিক মেসেজ পাঠানো। এটি কখনই কেউ পজিটিভ ভাবে দেখতে না। এভাবে মেসেজ পাঠালে আপনি স্পামার হিসেবে চিহ্নিত হবে সবার কাছেই।
  • গ) পুরাতন খবর শেয়ার করা। যেখানে টুইটার শুধু মাত্র চলতি এবং সবচেয়ে বেশি আলোচিত সংবাদে গুরুত্ব রাখে সেখানে পুরাতন কোন খবর শেয়ার করা আপনাকে গুরুত্বহীণ করে রাখবে।
  • ঘ) টুইটারে সবচেয়ে বড় ভুল হচ্ছে ফলোয়ার ক্রয় করা। এবং একই সাথে টুইটারের নিয়মনীতি বহির্ভূত। ফলোয়ার কিনে নিয়ে আপনি তাদের দিয়ে কোন ফিডব্যাক পাবেন না বরং কিছুদিনের মধ্যে তারাই আপনাকে আন-ফলো করে চলে যাবে। তবে ইন্টারনেটে বিভিন্ন কমিউনিটি টুইটার ডিরেক্টরি আছে, চাইলে সেখান থেকে কিছু টুইটার ফলোয়ার বাড়িয়ে নিতে পারেন। মনে রাখবেন, দীর্ঘমেয়াদি কাজের চেয়ে ডিরেক্টরিগুলো স্বল্পমেয়াদি কাজেই বেশি বেনিফিট দিবে।

শেষ কথা!

তাৎক্ষনিকভাবে বলা চলে, টুইটারে সবাই নতুন পরিবেশ এবং মানুষের সাথে নিজের সম্পর্ক স্থাপন করতে যায়। আপনি যদি অন্যের সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন, নিজের কাজের নেটওয়ার্কে বহির্বিশ্বের সাথে স্থাপন করতে ইচ্ছুক হোক তবেই আপনি টুইটারের ভালবাসায় পড়তে বাধ্য এবং আপনি টুইটারের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করবেন। একবার টুইটারে মন বসাতে পারলে আপনার ফলোয়ার এবং ব্যবসায় দুটির উন্নয়ন হবে সমান তালে।

যদি আপনি আগে থেকেই আপনার ব্যবসায়ের জন্য টুইটার ব্যবহার করে থাকেন এবং সফল হন তবে আমাদের জানান কিভাবে আপনি সফল হলেন? সফল হতে কি কি পন্থা অবলম্বন করেছেন? নতুন টুইটার ইউজারদের জন্য আপনাকে কোন আদেশ-উপদেশ থাকলে মন্তব্যে জানাতে ভুলবেন না।

19 Feb 2015

1 thought on “যেভাবে বাড়াবেন টুইটার ফলোয়ার! [কমপ্লিট টুইটার মার্কেটিং গাইড]”

Comments are closed.