কিভাবে বাংলাদেশের ই-কমার্স ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে?

দৃশ্য ১: সময় ২০০০ সাল- জনাব কামরুল একটি নতুন ফোন কিনতে চান, তার বাজেট ১০,০০০/= টাকা। ফোন কেনার পূর্বে এই সম্পরকিত তথ্য জানার জন্য তিনি বন্ধু-বান্ধবকে জিজ্ঞেস করা শুরু করেন, শপিং মলে খোঁজ খবর নেন, সংবাদপত্র থেকে তথ্য নেন এবং এছাড়াও অন্য আরও যেখান থেকেই সম্ভব তত্থ্য জোগাড় করেছেন। তারপরেও তিনি কোন ফোনটি কেনা উচিত সেই ব্যাপারে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হতে পারেননি।

দৃশ্য ২: সময় ২০১৫ সাল – জনাব কামরুল একটি নতুন ফোন কিনতে চান, তার বাজেট ১০,০০০/= টাকা। ফোন কেনার পূর্বে এই সম্পরকিত তথ্য জানার জন্য তিনি ই-কমার্স সাইটগুলো দেখা শুরু করেন এবং এক ঘন্টার মধ্যেই সব তথ্য  পেয়ে যান। তারপর তিনি তার পছন্দের ফোনটি কিনে ফেলেন এবং তার বাসায় ঐ দিনই ফোনটি পৌঁছে যায়।

২০০০ সালের গল্পটির তুলনায় , ২০১৫ সালের গল্পটিকে রুপকথার মত মনে হলেও বাস্তবে কিন্তু এভাবেই ই-কমার্স বদলে দিয়েছে বাংলাদেশের মানুষের জীবন। কাপড় থেকে শুরু করে গাড়ি, আসবাবপত্র থেকে শুরু করে বাড়ি, মানুষ আজ প্রায় সব কিছুই কিনছে ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে।

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা খুব দ্রুত বাড়ছে। বিটিআরসির দেয়া তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল ২০১৫ হতে মে ২০১৫-এ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪৫.৬৮ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ৪৭.৪২ মিলিয়ন হয়েছে।

বাংলাদেশে ই-কমার্স সাইট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখনো পশ্চিমা দেশগুলো বা ভারতের মত বেশি হয়নি যেখানে ই-কমার্সের একটি স্থিতিশীল বাজার রয়েছে।

একমাত্র অসুবিধা যা সামাল দিতে সরকার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তা হল ই-কমার্স সাইটগুলো এখনো গ্রামের দিকে পৌছাতে সম্পূর্ণরূপে পৌঁছাতে পারেনি। এই ই-কমার্স ব্যবসা এখনো শহরগুলোর উপর নির্ভরশীল। কিন্তু শীঘ্রই সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী তারা বিস্তার লাভ করবে।