ইলেকট্রনিক্স টিউটোরিয়াল -১ (সাধারণ আলোচনা)।

“ইলেকট্রনিক্স” শব্দটি ইলেকট্রন থেকে এসেছে। আর ইলেকট্রন হচ্ছে পদার্থের এক ধরনের মৌলিক কণিকা। মোটামটি ১৯০৪ সালে ভ্যকিউম টিউব আবিষ্কারের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্স নামের আজকের এই আধুনিকতম টেকনোলজির প্রাথমিক সূচনা ঘটে বলে মনে করা হয়। কিন্তু বর্তমানে ইলেকট্রনিক্স ক্ষেত্রে ভ্যকিউম টিউবের ব্যবহার আর নেই। এর স্থান দখল করে নিয়েছে বিভিন্ন ধরনের আধুনিকতম সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস। ১৯৪৭ সালে ট্রানজিস্টর আর ১৯৫৯ সালে সমন্বিত বর্তনী বা (integrated circuit or IC) আবিষ্কারের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি আধুনিক রূপ লাভ করে। এর পর প্রতিনিয়ত নতুন নতুন জিনিস উদ্ভাবনের মাধ্যমে এমন একটি পর্যায়ে গিয়ে দারিয়েছে যেখানে ইলেকট্রনিকসকে বাদ দিয়ে আর আধুনিক বিশ্বকে কল্পনা করা যায় না। বিজ্ঞান বা প্রকৌশলবিদ্যার এমন কোন প্রয়োগক্ষেত্র খুজে পাওয়া যাবে না যেখানে ইলেকট্রনিক্সের ব্যবহার নেই। ভাষা শিখতে হলে যেমন বর্ণমালা শিখতেই হয় ঠিক তেমনি ভাবে আধুনিকবিশ্বে জন্ম নিয়ে আমাদের জীবনকে আধুনিকতার সংমিশ্রনে সাজাতে হলে ইলেকট্রনিক্স জানার বা শেখার কোন বিকল্প নেই।

 

image003

ইলেকট্রন:

পদার্থ যে তিনটি স্থায়ী মৌলিক কণিকা নিয়ে গঠিত তাদের একটি ইলেকট্রন । যা ঋণাত্নক চার্জ বিশিষ্ট এবং এর চার্জের পরিমান  ১.৬০২ ১৭৬ ৫৩ × 10১৯   কুলম্ব ।  ইলেকট্রনের ভর ৯.১০৯ ৩৮২৬ × ১০৩১ কেজি যা পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের বাইরে কতগুলো উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সর্বদা ঘূর্ণায়মান অবস্থায় অবস্থান করে । ১৮৯৭ সালে জে জে থমসন পরমাণুতে ইলেকট্রনের উপস্থিতি প্রমাণ করেন 

 

ইলেকট্রনিক্স কি?

  ইলেকট্রনিক্স হচ্ছে ইন্জিনিয়ারিং বা প্রকৌশল বিদ্যার একটি সাখা যেখানে সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী পদার্থের মধ্যদিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

* ইলেকট্রনিক্স” সংজ্ঞাটিকে বিশ্লেষণ করলে যে দুইটি বিষয় বিশেষভাবে আমাদের নজরে পড়ে তা হল অর্ধপরিবাহী পদার্থ এবং এর মধ্যদিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ।

 

পরিবাহী, অর্ধপরিবাহী এবং অপরিবাহী সম্পর্কে ধারণা:

 মৌলিক ও যৌগিক পদার্থ মিলিয়ে পৃথিবীতে বিচিত্র রকমের পদার্থ রয়েছে যাদের সকলের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা এক রকম নয়। কোন কোন পদার্থ খুব ভাল  বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে আবার কোনটি একেবারেই করে না আবার কোনটি করলেও খুব ভাল নয়।

সাধারণ অবস্থায় যে সকল পদার্থ বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলা হয়। আর এই বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা  যে সকল পদার্থের খুব ভাল তাদেরকে বলা হয় সুপরিবাহী বা অতিপরিবাহী, যেমন সোনা, রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। সচরাচর পারমাণবিক গঠনের দিকদিয়ে যে সকল পদার্থের সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন সংখ্যা ৪ এর কম হয় সে সকল পদার্থ সমূহ সুপরিবাহী হয়। আর যে সকল পদার্থ সাধারণ অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে না যেমন রাবার, কাঁচইবোনাইট, প্লাসটিক এধরণের পদার্থকে অপরিবাহী বা কুপরিবাহী বলা হয়। কিন্তু ইলেকট্রনিক্সে অতি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী, যার বিদ্যুৎ পরিবহণ ক্ষমতা সুপরিবাহী এবং কুপরিবাহীর মাঝামাঝি যেমন সিলিকন ও জার্মেনিয়াম। পারমাণবিক গঠনের দিকদিয়ে এদের সর্ববহিস্থ কক্ষপথের ইলেকট্রন সংখ্যা ৪ হয়।  আর তাই বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবহারিক প্রযোজন অনুযায়ী এসব পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন বৈশিষ্টের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব বলেই ইলেকট্রনিক্সের এই বিশাল দুনিয়া এই সেমিকন্ডাক্টর পদার্থের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।     

 আমার অন্য লেখাগুলো :

১. জটিল হল অতি সহজের সুসজ্জিত মহা সমাবেশ। 

২. সবার জন্য ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স, একটি ডিজিটাল পৃথিবীর সন্ধানে (পর্ব:১)

৩.সবার জন্য ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স, একটি ডিজিটাল পৃথিবীর সন্ধানে (পর্ব:২) 

৪.সহজে তৈরি করুন ইন্টেলিজেন্ট কারেন্ট টেস্টার, একটি আকর্ষনীয় সার্কিট।

৫. লেখাপড়ার অলংকার

৬.এনিমেশন তৈরি করি (Macromedia Fireworks টিউটোরিয়াল)।

 ৭.সুখের সন্ধানে আমাদের নিত্য পথ চলা।

৮.ইলেক্ট্রনিক্সের উপর প্রশ্ন উত্তর এবং সমস্যার সমাধান

 

শেষে দুটি কথা:  

ইলেকট্রনিক্স একটি চলমান টেকনোলজি । ইলেকট্রনিক্সে শেষ বলে কিছু নেই যেখানেই শেষ আবার সেখানেই শুরু। ফলে এখানে আমাদের মেধাশক্তির প্রয়োগ করার সুযোগ অনেক বেশি। এখানে  আমাদের সকলের কাছে থেকে সকলের অনেক কিছু শেখার আছে। তাই সকলের কাছে আমার প্রত্যশা অমরা আমাদের জানা অজানা সকল বিষয় উপস্থাপনের মাধ্যমে সকলের সাথে বিনিময় করব। এমন একটা সময় আসবে যখন আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনেক কিছুই জানা হয়ে যাবে।  

3 thoughts on “ইলেকট্রনিক্স টিউটোরিয়াল -১ (সাধারণ আলোচনা)।”

  1. Pingback: বাংলা টিউটরিয়াল|বাংলা ভাষায় বিশ্বের প্রথম টিউটরিয়াল সাইট | Bangla Tutorials » Blog Archive » ইলেক্ট্রনিক্স টিউট

  2. “পারমাণবিক গঠনের দিকদিয়ে এদের সর্ববহিস্থ কক্ষপথের ইলেকট্রন সংখ্যা ৪ হয়। আর তাই বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবহারিক প্রযোজন অনুযায়ী এসব পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন বৈশিষ্ট্যের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব বলেই ইলেকট্রনিক্সের এই বিশাল দুনিয়া এই সেমিকন্ডাক্টর পদার্থের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।”
    এই বিশেষ প্রক্রিয়াটাই কি তা জানার আগ্রহ আমার অনেক বেশি। এনালগ ইলেক্ট্রনিক্স ক্লাসে, স্যার পি এন জঙ্শন অনেক বুঝিয়েছেন, কিছুই মাথায় ধরে নি, এখন বুঝতেছি এর প্রয়োজনীয়তা। ভ্যাকুয়ামটিউব থেকে শুরু করে দিন দিন ট্রানজিস্টরের আকার এত ছোট হওয়ার কারনেই সব ডিভাইজ দিন দিন ছোট হচ্ছে-এটা বুঝতেছি।
    সুন্দর একটি টপিকের জন্য ধন্যবাদ।
    অফ টপিক: চট্রগ্রাম নতুন একটা চাকরীতে জয়েন করার কারনে, সাইটে তেমন সময় দিতে পারছি না। আপনার ধারাবাহিক লেখা আশা করছি।

    1. @টিউটো, ধন্যবাদ টিউটো ভাই বিশ্লেষণ মূলক মন্তব্য দেওয়ার জন্য। আপনার কৌতুহল সম্পর্কে বলছি,আসলে বিশুদ্ধ সেমিকন্ডাক্টর কিন্তু ইলেকট্রনিক্সে ব্যবহার করা হয় না। বিশুদ্ধ সেমিকন্ডাক্টরের সাথে ত্রিযোজী মৌল ও পঞ্চযোজী মৌল মিশিয়ে যথাক্রমে পি-টাইপ ও এন-টাইপ সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করা হয় এবং এ দুটি পদার্থ যুক্ত করে তৈরি করা হয় পি-এন জাংশন যা দিয়ে প্রস্তুত করা হয় ডায়োড,ট্রান্জিস্টর ইত্যাদি। এই পি-এন জাংশনকে বায়াসিং ভোল্টেজের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করে কখনো সুপরিবাহী আবার কখনো কুপরিবাহী পদার্থের বৈশিষ্ট অর্জন করা সম্ভব হয়। এটাই হল আসলে সেই বিশেষ প্রক্রিয়া।

      টিউটো ভাই সংক্ষিপ্ত ভাবে উপস্থাপন করলাম,আশা রাখি পরবর্তীতে বিস্তারিত ভাবে লিখব। আপনার কৌতুহল কতটুকু নিবারন করতে পেরেছি আমার জানা নেই, তবে পরবর্তীতেও এ ধরনের মন্তব্য প্রত্যাশা করছি যা আমাকে আরও বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করতে সাহায্য করবে।

Comments are closed.