হাটার ২৫ উপকার

আমরা সবাই জানি হাটার উপকারিতা আছে। কিন্তু অনেকেরই হনিয়মিত হাটাটাটি করা হয়ে ওঠে না।

সবচেয়ে বড় কথা হাটার ব্যায়ামটা ফ্রি । জীমে যেতে হয় না বা কোন ইকুইপমেন্টেরও দরকার হয় না, শুধু দরকার ইচ্ছা শক্তি। প্রতিদিন অন্ততঃ ৩০ মিনিট একটু দ্রুত হাটাহাটি করলে যেসব উপকার হতে পারে-

১. হৃদপিন্ডের উপকার

নিয়মিত হাটলে হার্টের ব্যায়াম হয়। পরিশ্রমের সাথে সাথে হার্টবিট বাড়ে। প্রতি মিনিটে হার্ট যতবার রক্ত সঞ্চালনের জন্য বিট করে তা হার্টবিট রেট। শরীরকে শক্তি দিতে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে গিয়ে হার্ট সুস্থ থাকে।

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

হার্টের টিস্যুগুলোর সক্ষমতা যত ভাল হবে কঠিন পরিস্থিতিতে আপনাকে তত ভালভাবে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারবে।

২.জয়েন্ট শক্তিশালী করে

হারের জয়েন্ট দুর্বল হলে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। চলাফেরার সমস্যাসহ একটু অতিরিক্ত হাটা বা দৌড়ানো সম্ভব হয় না। নিয়োমিত হাটলে এই সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হয়।

তবে আপনার যদি এখনই জয়েন্টে সমস্যা থাকে তাহরে প্রতিদিন বেশি বেশি ও দ্রুত হাটার ব্যাপারে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিবেন। জয়েন্ট ভাল থাকা অবস্থায়ই আমাদের বেশি করে হেটে এটি ঠিক রাখারে চেষ্টা শুরু করা উচিৎ।

৩. নিয়মিত হাটলে হার শক্ত করে

বয়স হওয়ার সাথে সাথে আমাদের হারের ঘনত্ব কমতে থাকবে। হারে মিনারেলের পরিমানকে হারের ঘনত্ব বুঝায়। হারের ঘনত্ব কমতে কমতে এক পর্যায়ে অস্টিওপরোসিস (osteoporosis) হয়ে যেতে পারে।

হার ভাল থাকলে এটি ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনাও কম হবে। একই ধরনের এক্সিডেন্টে কারো হার ভেঙ্গে যেতে পারে আবার কারোটা না ভাঙ্তে পারে। হঠাৎ পড়ে গিয়ে ফ্রেকচার হওয়ার সম্ভাবনাও কম হবে।

৪. হাটাহাটি কোমর ব্যাথা কমায়

যারা লম্বা সময় চেয়ারে বসে থাকে বা গাড়ী ড্রাইভ করে তাদের কমন সমস্যা হলো কোমার ব্যাথা। দিন এসময় হাটলে এবং সারাদিন চেয়ারে বসে থাকলে কিন্তু সমস্যা সমাধান হবে না। তাদের জন্য কিছুক্ষন পর পর হাটাহাটি করা জরুরী।

কমপক্ষে এক ঘন্টা পর পর চেয়ার থেকে উঠা ও বসা ডানে বামে নারাচারা করা উচিৎ। কিছুক্ষণ বাইরে হেটে আসার অভ্যাস করা উচিৎ।

৫. উচ্চ রক্তচাপ কমায়

যখন হৃদপিন্ড বেশি পরিমান রক্ত প্রবাহিত করে শিরা ও ধমনীগুলো এই চাপ সহ্য না করতে পেরে ব্যাথা সৃষ্টি হয়। আরো বেশি রক্তপ্রবাহে শিরা ও ধমনীগুলো দূর্বল হয়ে পরে যা পরবর্তিতে হার্ট এটাক বা স্ট্রোকে পরিনত হতে পারে।

ভাল হৃদপিন্ড শরীরের প্রয়োজনমাফিক রক্ত সরবরাহ করতে পারে। তার মানে শীরা ও ধমনীতে চাপ পরবে না। দশ মিনিট হাটলেই ব্লাডপ্রেসারের পরিবর্তন লক্ষনীয়। অবশ্য রক্তচাপের কারনে হাটার অভ্যাসের পরিবর্তন করতে হলে আপনাকে ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হওয়া উচিৎ।

৬. হাটালে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে

এটা অবশ্য সবাই জানে যে যারা ডায়াবেটিকস রুগি তাদের প্রচুর হাটতে বলা হয়। হাটার আগে ও পরে ব্লাডসুগারের পরিমান মেপে ইফেকটিভ হাটার প্লানও দিয়ে দেয়। আপানার আমার যাদের এই রোগ নাই তাদেরও হাটার অভ্যাস ব্লাডের সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে।

৭. পরিপাকতন্ত ভাল রাখে

আমাদের শরীরকে চুলার সাথে তুলনা করলে খাবার হলো জ্বালানী। খাবার খেয়ে শুয়ে বসে থাকলে কিন্তু খাবারের অনেক অংশই সঠিকভাবে ব্যবহৃত হবে না। আবার খাবার থেকে কিছু গ্লুকোজ এবং ফ্যাট শরীরে সংরক্ষণ করবে পরবর্তিতে ব্যবহারের জন্য। যা আমাদের ওজনও বাড়াবে এবং কিছু অংশে চর্বি বিভিন্ন অন্ত্রকে কাজ করতে বাধাও দিবে। আর গ্লুকোজ বেড়ে গেলে তো ডায়াবেটিকসই হবে। তাই আমাদের চেষ্টা করতে হবে খাবার যাতে কাজে লেগে যায়।

মেটাবলিজম মানে খাবারকে শক্তিতে পরিনত করার রেট। স্লাগিস মেটাবলিক রেট (sluggish metabolic rate) থাকা মানে আপনার ওজন বাড়বে। হাটা শুরু করলে পরিপাকতন্ত্র খাবারকে শক্তিতে পরিনত করবে আর যদি প্রয়োজনীয় খাবার না পায় তাহলে শরীরে সঞ্চিত শক্তি থেকে তা খরচ করবে। যার ফলে আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে, ফ্যাট ও রক্তের চিনির পরিমান কমাতে সাহায্য করবে।

হাটলে হার্টবিট বাড়বে এবং বেশি পরিমান রক্তের গ্লুকোজ ভেঙ্গে শক্তিতে রুপান্তরিত হবে। মাংশ পেশি শক্তি অর্জন করে শক্তিশালী হবে।

৮. ফুসফুস ভাল রাখে

আমাদের ফুসফুস আমাদের অক্সিজেন সরবরাহ করে। ভাল ফুসফুস নিয়মিত ও প্রয়োজন অনুসারে অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে। আর ফুসফুসের অবস্থা ভাল না হলে তা প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারবে না। হাটলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিপায়। হাটার শক্তি যোগার করতে হলে গ্লোকোজ ভেঙ্গে শক্তিতে পরিনত হতে বেশি পরিমান অক্সিজেন প্রয়োজন হয়, তাই শ্বাসপ্রশ্বাসের গতিও বৃদ্ধি পায়।

বেশি পরিমান হাটলে ফুসফুস তার পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করবে। দিন দিন আরো সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সুস্থ্য থাকলে ধারাবাহিকভাবে হাটাহাটি বৃদ্ধি করতে পারেন। তবে আপনি যদি এজমা বা ফুসফুসের কোন রোগে ইতিমধ্যে ভুগে থাকেন তখন হাটার অভ্যাসে বড় কোন পরিবর্তন আনতে হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

৯. কাজের চাপ বা মানুষিক চাপ দূর করেঃ

ইদানিং কালের সমাজে মানুষিক চাপ বেশ বড় ধরনের সমস্যায় পরিনত হয়েছে। কর্মব্যস্ত জীবেন সামাজিক কর্মকান্ড না থাকা বা পারিবারিক বা সামাজিক কারনে অনেকেই মানুষিক চাপে ভোগে। ব্লাডপ্রেসার ও ঘুম না হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে এবং স্বাস্থ্যের বড় রকমের ক্ষতি হয়।

মানুষিক চাপ দূর করতে ব্যায়াম শুরু করা যেতে পারে। হাটাহাটি শুরু করা যেতে পারে- যেহেতু এই ব্যায়ামটি সহজ। ব্যায়াম বা হাটাহাটি হরমোনের পরিবর্তন এনে মানুষিক অবস্থারও পরিবর্তন করে ফেলে।

১০. শারিরীক ব্যালেন্স অবস্থা

শিশুরা যখন প্রথম হাটা শিখে আপনি কি কখনো তা লক্ষ্য করেছেন? প্রথমে তারা দাড়ায় এবং এক পা উচু করে ফেলে। বাবা-মা বা কেউ কাছে থাকলে ঝাপিয়ে পড়ে হাটা শেষ করে। সে একই সাথে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ব্যবহার করে চোখ ও মস্তিষ্কের ব্যবহার করে। ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে। সামনে কোন প্রতিবন্ধক থাকলে থেমে যায়। আপনি আরো লক্ষ করবেন শিশুটি হেটে বেশ আনন্দ পায়। দরজা বন্ধ থাকলে হাটার গতি আগে থেকে কমিয়ে থেমে যায়। কখনো আছড়ে পড়ে ব্যাথা পায় এবং আরো সাবধান হয়। আরেকটু বড় হলে সে গতি বাড়ায় এবং দৌড় দেয়। বাবা-মাকে দেখলে দৌড়ে এসে আছড়ে পরে-কিন্তু কোন শক্ত কিছুতে ঝাপ দেয় না। সে তার শরীরকে এবং আসপাসের পরিবেশকে বোঝে, নিজের শরীরের ব্যালেন্স সে বোঝে।

আমরা বড়রাও এরকমই। আমারও আসপাসের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলি। উচু , নিচু বা কাদা এড়িয়ে চলি। নিজের শরীরের অনেকগুলো অংগকে একসাথে ব্যবহার করি। হাটার চর্চা যাদের অনেক কম তাদের মধ্যে এই ব্যালেন্সও কম।

১১. ডিপ্রেশন বা বিসন্নতা দূর করেঃ

ডিপ্রেশন মানুষের মধ্যে অলসবোধ তৈরী করে। তার জন্য ব্যায়ম শুরু করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এ জন্য সহজ হলো হাটাহাটি করা। এটা বিসন্নদের জন্য সেরা চিকিৎসা বলে মনে করি।

ব্যায়াম ও হাটাহাটি ডোপামিন এবং সেরোটনিন তৈরী করে, এই ক্যামিক্যাল ভাল লাগার ক্যামিক্যাল বলতে পারেন। বিসন্নতা ব্রেনের ক্যামিক্যালের ব্যালেন্সহীনতার কারনেও হতে পারে। মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট ব্যায়াম বা হাটাহাটির অভ্যাসের মাধ্যমে বিসন্নতা দূর করা ভাল অপশন।

১২. ভুলে যাওয়া রোগ বা Alzheimer’s and vascular dementia Alzheimer

Alzheimer’s এখনো গবেষণার বিষয় হিসেবে রয়েছে। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

গবেষকরা মনে করছে এটার সাথে মানুষের খাদ্যাভ্যাস এবং পরিশ্রম করার সাথে সম্পর্ক রয়েছে।ব্যয়াম ও হাটার ফলে ব্রেনে বেশি পরিমান অক্সিজেন সরবরাহ হয় এবং ব্রেণ ভাল থাকে। হাটাহাটি বিসন্নতা দূএ করে কাজে অধিক মনোযোগ দিতে সাহায্য করে।

১৩. সৃজনশীলতা বৃদ্ধি

সৃজনশীলতা সহজে ধরা দেয় না। ধারাবাহিকভাবে কোন সৃজনশীল কাজ বোরিং হতে থাকে। আবার অনেক সমস্যার সমাধানও দুর্বোধ্য লাগতে পারে।

কিছুক্ষণ হেটে এসে কাজটি আবার ধরলে সমাধান মিলে যেতে দেখা গেছে। প্রকৃতির সাথে সহচর্য ও লোকজনের সাথে মিশা অনেক বাস্তব সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখে। নতুন আইডিয়া পেতেও সাহায্য করে। সম্ভবতঃ হাহাটিতে ব্রেনে আধিক অক্সিজেন সরবরাহ করা এবং ব্রেন টিস্যুকে আরো সক্রিয় করার জন্য এটা সম্ভব হয়। যদিও এ বিষয়টি এখনো সম্পুর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমানের ভিত্তিতে বলা হয় নি।

১৪. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

নিয়মিত ব্যায়াম, হাটা এবং কায়িকশ্রমকারীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত হয়। যারা পরিশ্রম করে না তারা হঠাৎ কোন পরিশ্রমের কাজে গেলেই বিভিন্ন রোগে ভোগে তাই নিয়মিত হাটাহাটির মাধ্যমে নিজের সহ্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা উচিৎ।

হাটাহাটির ফলে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতেও ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়ার বৃদ্ধির হার কমে যায়। স্ট্রেচ হরমোন উৎপাদনের কারনেও রোগবালাই কম হয়।

১৫. এলার্জি কমায়ঃ

নিয়মিত হাটাহাটি এলার্জির লক্ষণ কমায়। শরীরের রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে এটি বিভিন্ন ধরনের এলার্জি বিশেষ করে পরিবেশ যেসব এলার্জি ছড়ায়। পরাগ রেনু, ফসল, বীজ এবং ধুয়া থেকে ধেয়ে আসা এলার্জি দূর করতে শরীর রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে দেয় এবং তা দূর করে। চোখ ওঠা, গলা ব্যাথা, সাইনাসে সমস্যা ইত্যাদি এলার্জি থেকে হয়।

হাটাহাটি কিন্তু এলার্জির প্রতিকারের ব্যবস্থা না বা ঔষধ না। বরং একই পরিবেশে থেকে অনেকের এলার্জি হয় অনেকের হয় না – কেউ প্রতিরোধ করতে পারছে কেউ পারছে না। এই সক্ষমতা বৃদ্ধি করে হাটাহাটি।

১৬. হাটাহাটি পরিপাক ক্ষমতা বা ডাইজেশন ভাল করেঃ

খাবার খাওয়ার পর পরিপাকতন্ত্রের কাজ হলো খাবার ভেঙ্গে ফেলা এবং শরীরের কোষগুলোকে সক্রিয় রাখা, শক্তি উৎপাদন করা ইত্যাদি। গ্লুকোজ এবং চর্বি হিসেবে কিছু খাবার শরীরের জমা রাখা। সব খাবার কাজেও লাগে না। আবার প্রয়োজন হলে বেশি অংশকেও পুষ্টিতে পরিনত করে। এটা নির্ভর করে আপনার চাহিদার উপর।

খাবার খাওয়ার পর অপ্রয়োজনীয় অংশ পায়খানার সাথে বের করে দেয়। আর এ জন্য আমাদের বেশি পরিমান ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া উচিৎ। উল্লেখ্য ইদানিং কালের খাবারগুলোতে ফাইবার অনেক কম। হাটাহাটির ফলে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয় তাই দ্রুততার সাথে পরিপাকতন্ত্র কাজ করতে উদ্দিপ্ত করে।

১৭. সেইপ ঠিক রাখা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে

হাটলে পায়ের পেশী বেশ সতেজ থাকে। থাই অতিরিক্ত মোটা বা সরু রাখে না। সুন্দর শেপ থাকে। যারা শো অফ করতে চায় তাদের জন্য বেশি হাটার সাথে সাথে টাইট প্যান্ট পড়লে দারুন লাগবে।

১৮. ভাল ঘুম হয়

ইদানিং অনেকেই ঘুমহীনতায় ভোগে। এই সমস্যা থেকে ইনসোমিয়া ( insomnia ) হতে পারে। অধিকাংশরাই মনে করে ঔষধেই সমাধান মিলবে। কিন্তু আপনি ডাক্তারের কাছে গেলে সে আপনাকে প্রশ্ন করবে আপনি কত সময় ব্যায়াম করেন। কত সময় হাটাহাটি করেন বা আপনি কি কাজ করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত বেশি পরিমানের হাটেন তাদের ভাল ঘুম হয়। যাদের ইতিমধ্যে ঘুম না হওয়ার প্রবণতা আছে তাদের ক্ষেত্রেও হাটা উপকারী প্রভাব ফেলেছে। হাটার ফলে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং পরে কমে যাওয়া ঘুম হওয়ার প্রবণা বৃদ্ধি করে।

১৯. হাটাহাটি যৌবন ধরে রাখে

যারা নিয়মিত হাটে তারা মনে করে তারা নিজেকে তরুন মনে করে। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করে তাদের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। এটা শুধু মনের ব্যাপারই না।

অধিক হাটার ফলে ত্বকে বেশি পরিমানে রক্ত প্রবাহ হয় এবং ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে। ফলে ত্বক আরো ভাল দেখায়। শুকনো এবং রোগাদের ত্বকের মতো দেখায় না।

নিয়মিত ব্যায়ামের সাথে ত্বকের কোষের ক্রোমোজোম এর সম্পর্ক আছে। প্রতিটি ক্রোমোজমের বয়স শরীরের বয়সের সমান। ক্রোমোজোম এর ডিএনএ কে প্রোটেক্ট করে টেলোমোরাস ( telomeres ) টেলিমোরাসের সংখ্যা কমে গেলে ত্বককে বৃদ্ধদের ত্বকের মতো মনে হবে। ব্যায়াম টেলিমোরাস এর কমে যাওয়া রোধ করে এবং তরুনের মতো মনে হয়।

২০. ইনজুরি হওয়ার সম্ভাবনা কমায়

হাটাহাটি ইনজুরী হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। খেলাধুলা বা দৌড়ানো বা কঠিন কাজ করতে গিয়ে পেশীর টান বা হার ভাঙা রোধ করে।

কোন ইনজুরী হলে কিন্তু হাটা বাড়ানো যাবে না। অধিকাংশ সময় রেস্টে থাকতে বলা হয়। এ ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

২১. শারীরের সক্ষমতা বাড়ায়

সিড়ি দিয়ে উঠতে আপনার কি বেশ কষ্ট হয় যেখানে অন্যরা খুব সহজেই অনেক তলা উপর পর্যন্ত যেতে পারে। অথবা হেটে অনেকদূর যেতে পারেন না, রিক্সা লাগেই। এক সময় হয়তো অনেক হাটতে পারতেন এখন পারছেন না। তার মানে আপনার শরীরের সক্ষমতা কম।

নিয়মিত হাটা এই সক্ষমতা বাড়ায়। প্রথম দিকে অল্প অল্প হাটুন এবং ধীরে ধীরে বাড়ান। দেখবেন বেশ ভাল কাজ দিবে।

২২. রেস্টলেস লেগ সিন্ড্রোম দূর করে

এই রোগে অনেক সময় ঠিক মতো পা নাড়ানো যায় না বা খারাপ অনুভূতির সৃষ্টি করে। সাধারনতঃ এই রোগ বিকেলে বা রাতে দেখা যেতে পারে। এজন্য অনেক সময় ঘুম প্রভাতি হয়। নিয়মিত হাটা এই রোগ দূর করতে সাহায্য করে।

২৩. ভিটামিন ডি সংরক্ষণ করে

ভিটামনি ডি ক্যালসিয়াম গ্রহনে সহায়তা করে। ক্যালসিয়াম হার গঠনে সহায়ক। ভিটামিন ডি এর অভাব হলে ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার বা ঔষধ গ্রহন করলেও ঠিক মতো ক্যালসিয়াম গ্রহণ হবে না।

ভিটামিন ডি তৈলাক্ত মাছ এবং লিভারে পাওয়া যায়। আর পাওয়া যায় রোদে। এটার অর্থ এই নয় আপনি রোদে সারা দিন শুয়ে থাকবেন। আপনাকে অল্পসময় রোদে থাকতে হবে। বিশেষ করে সকালের রোদে। নিয়মিত ঘরের বাইরে হাটাহাটি ভিটামিন ডি এর ব্যবস্থা করে দেয়।

২৪. ভাল কোলেস্টরেল বৃদ্ধি করেঃ

সাধারণ মানুষ কোলেস্টেরল মানেই হার্ট এটাকের উপকরণ মনে করে। সাধারণভাবে আমি ভাল ও খারাপ কোলেস্টরল এই দুইভাগে ভাগ করে বলা যেতে পারে। খারাপ কোলেস্টরল হার্ট এটাকের সম্ভাবনা বাড়ায়। ডাক্তারি ভাষায় খারাপ কোলেস্টরলকে এলডিএল (Low Density Lipoprotin) বলে। ভাল কোলেস্টরল হলো এইচডিএল (High Density Lipoprotin)

২৫. এসিডিটি কমায়

অধিক ওজনের ব্যক্তিদের এসিডিটির সম্ভাবনা বেশি হয়। হাটাহাটি ওজন কমাতে এবং এসিডিটি কমাতে সাহায্য করে।

অনেক সময় ক্লান্তি এবং দুশ্চিন্তায়ও এসিডিটি বেড়ে যায় আর হাটাহাটি শরীরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করায় এবং দুশ্চিন্তামুক্ত রাখতে সহায়তা করে।

আরো পড়ুনঃ
" data-layout="standard" data-action="like" data-size="small" data-show-faces="true" data-share="true">

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য লিখুন