কোলেস্টেরলের অদ্ভুত ২০ তথ্য এবং যে খাবার খাবার কোলস্টরেল নিয়ন্ত্রণ করে

পুষ্টিকর খাবারের সমারোহ দিন দিন বাড়ছে। এর সাথে সাথেই আমরা বাড়িয়ে চলছি কোলেস্টরলের মাত্রা।

কোলেস্টরল চর্বির মতো পদার্থ যা আমাদের শরীরের শীরা এবং ধমনীর কোষের বাইরে জমা হয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। হার্টে জমা হলে হার্টের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায় । কখনো শীরা-ও ধমনীতে রক্ত আটকে গিয়ে হার্টের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দিতে পারে।এবং হার্ট এটাক হয়ে মানুষ মারাও যেতে পারে।

১. কোলেস্টরলের উচ্চমাত্রা বংশগত হতে পারে।

বংষগত কারনে এক এক জনের কোলেস্টরলের মাত্রা এক এক রকমের হতে পারে। উচ্চ কোলেস্টরল বংশগত কারনে হলেও এটি থেকে পরিত্রান পাওয়ার উপায় আছে।

Image by engin akyurt from Pixabay

২. বেগুন

বেগুনে রয়েছে প্রচুর ফাইবার। আর মানুষ কিন্তু বেগুন খাওয়ার সময় ফাইবার ফেলে দিয়ে খেতে পারে না, যেমনটা অন্য খাবারের ক্ষেত্রে সম্ভব। বেগুনের বাইল এসিড রয়েছে যা কোলেস্টরল মুভ করতে সহায়তা করে।

৩. কোলেস্টরল ছাড়া আমাদের চলবে না

কোলেস্টরল খুবই প্রয়োজনীয়। আমাদের কোষ গঠনে এবং হরমোন তৈরীতে কোলেস্টরলের ভূমিকা আছে। লিভার বা জকৃতের এসিড তৈরী করতে কোলেস্টরল ব্যবহৃত হয়।

সাধারণভাবে ভাল ও খারাপ কোলেস্টরল এই দুইভাগে ভাগ করে বলা যেতে পারে। খারাপ কোলেস্টরল হার্ট এটাকের সম্ভাবনা বাড়ায়। ডাক্তারি ভাষায় খারাপ কোলেস্টরলকে এলডিএল (Low Density Lipoprotin) বলে। ভাল কোলেস্টরল হলো এইচডিএল (High Density Lipoprotin)

৪. ছোলা

ছোলা কোলেস্টরলের মাত্রা ঠিক রাখার জন্য বেশ ভাল ভুমিকা রাখে। তবে আমাদের দেশে তেল দিয়ে রান্না করে ছোলা খাওয়ার যে প্রচলন তা কিন্তু কোলেস্টরলের মাত্রা কমাবে না।

৫. তিন জনে এক জনের উচ্চ মাত্রায় কোলেস্টরল আছে

বিশ বছরের উপরের অনেকেরই উচ্চ কোলেস্টরল ধরা পরে। সাধারন রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই তা জানা সম্ভব।

খাবারের অভ্যাস পরিবর্তন এবং চিন্তামুক্ত থাকলে কি পরিমান কোলেস্টরল কমলো তা একসপ্তাহ পরে পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে।

৭. শিশুদেরও উচ্চ মাত্রায় কোলেস্টরল থাকতে পারে

আমরা সাধারনত উচ্চ কোলেস্টরল বড়দের রোগ মনে করি। শিশুদেরও উচ্চ মাত্রার কোলেস্টরল থাকতে পারে।

শিশু ও কিশোর কালের উচ্চ মাত্রার কোলেস্টরল থাকলে বড় হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন হয়ে পরতে পারে।

৮. ডালিম

ডালিম দারুন একটা ফল। এটি কোলেস্টরলে মাত্রা কমানোর সাথে সাথে শরীরে ক্যালরীও যোগায়। ভবিষ্যত হার্ট এটাকের সম্ভাবনা কমায় ডালিম।

৯. ব্যায়াম ভাল কোলেস্টরল বাড়ায়

ভাল কোলেস্টরল বাড়ানোর জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। মধ্যম মাত্রার ব্যায়াম যেমন যোগ ব্যায়ম, হাটা বা দৌড়ানো বেশ উপকার দিবে। গবেষকরা দেখেছেন নিয়মিত ব্যায়ম শুরু করলে সপ্তাহে ১৮ ভাগ পর্যন্ত কোলেস্টরল কমানো সম্ভব।

Image by Steve Buissinne from Pixabay

১০. অলিভ ওয়েল ও চালের কুড়ার তেল

অলিভ ওয়েলে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে। যারা অতিরিক্ত তেল পছন্দ করে তাদের জন্য এই ফ্যাট গ্রহণই স্বাস্থ্যকর।

ভাজাপোড়া খাবারের জন্য অলিভ ওয়েল ও রাইছ বার্ন ওয়েল অন্য তেলের চেয়ে বেশি সুবিধা দিবে।

১১. সাপ্লিমেন্ট ঔষধ ধীরে কাজ করে

কোলেস্টরল কমানোর ঔষধ ধীরে কাজ করে। ব্যায়ম এবং খাদ্যাভাস পরিবর্তনের মাধ্যমে আরো দ্রুত ফল পাওয়া যাবে।

১২. লাল পেয়াজ ও জাম

পেয়াজ বেশ উপকারী । এটিতে ভিটামিন সি এবং এন্থক্সাথিন (anthoxanthins ) রয়েছে। মাছ মাংশের সাথে পেয়াজ বা কাচা পেয়াজ খাওয়া উচ্চ কোলেস্টল এর জন্য ভাল।

জামেও প্রচুর পরিমান anthoxanthins রয়েছে। জাম ক্যান্সার প্রতিরোধক। মৃত কোষ পূনঃজীব করতে সহায়তা করে।

১৩. নারীদের কোলেস্টরলের মাত্রা

নারীদের কোলেস্টরল এর মাত্রা সময়ে সময়ে পরিবর্তন হয়। বয়সের সাথে সাথে তাদের হরমোনের পরিবর্তন হয় । প্র্যাগনেন্ট অবস্থায় মাতৃদুগ্ধ তৈরী হওয়ার জন্য কোলেস্টরেল এর মাত্রা বাড়ে ।

১৪. কোলেস্টরেলের সর্ব নিন্ম মাত্রা নাই

কোলেস্টরলের সর্বনিন্ম মাত্রা নাই। লিভার আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমান কোলেস্টরল তৈরী করে। সুষম খাবারের মাধ্যমে নিষন্ত্রিত কোলেস্টরল থাকে।

হার্টের জন্য যেহেতু কোলেস্টরল কম হওয়া দরকার এবং তাই আমাদের এটি কমিয়ে রাখার খাবারই গ্রহণ করতে পারি।

১৫. স্যাচুরেটেড এবং ট্রান্স ফ্যাটঃ

চর্বি জাতীয় খাবার এবং কোলেস্টরল এর মাত্রা কমানো মানেই আপনি নিরাপদ তা কিন্তু না। স্বাস্থকর কোলেস্টরলের প্রবাহ রাখতে হলে ট্রান্সফ্যাট কমাতে হবে। পলিট্রি মুরগী, গরুর মাংশ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ডেইরী পন্য, ভাজা খাবারে ট্রান্সফ্যাট বেশি।

চিপস, কফির ক্রিম. বেশিভাগ ফাস্টফুড, বেকারীর খাবার ইত্যাদিতেও স্যাচুরেটেড এবং ট্রান্স ফ্যাট বেশি পরিমানে আছে। এগুলো অল্পগ্রহণও ক্ষতিকর হয়ে দাড়াতে পারে।

১৬. কোলেস্টরেল এর মাত্রা একেবারে কম আপনার জন্য খারাপ হতে পারে

কোলেস্টরলের মাত্রা একেবারে কমিয়ে ফেলা কিন্তু ঠিক না। ১৬০ মিলিগ্রাম/লিটার এর চেয়ে কম হল প্রেগনেন্সিতে সমস্যা, বিসন্নতা, ক্যান্সার হওয়ার ঝুকি থাকে।

খাবার অনেক কমিয়ে কোলেস্টল নিয়ন্ত্রনের চেয়ে পরিশ্রম ও ব্যায়ামে মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ভাল।

২৭. প্রজনন ক্ষমতাঃ

উচ্চ কোলেস্টরলের কারনে প্রজনন ক্ষমতা হৃাস পেতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে পেলভিক এরিয়া ও পেনিসে রক্ত চলাচলে বাধা গ্রস্ত হলে প্রজনন অক্ষমতা হতে পারে।

নারীদের ক্ষেত্রেও সেক্সের সময় সমস্যা দেখা যেতে পারে। প্র্যাগনেন্সিতে কোলেস্টরল সমস্যা কিনা এ ব্যাপারে ডাক্তারের সাথে কথা বলা যেতে পারে।

আরো পড়ুনঃ
" data-layout="standard" data-action="like" data-size="small" data-show-faces="true" data-share="true">

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য লিখুন