চোখের ৫ ব্যায়াম

আমাদের আসপাসের অনেকেরই চোখের সমস্যা রয়েছে। ভাল মতো দেখতে পায় না । যেমনটা দেখার কথা তেমনটা দেখে না। চোখ ব্যাথা, ছনি পড়া, গ্লুকোমা ইত্যাদি সমস্যা কমন। দৃষ্টি সমস্যার মূল কারন বয়স হয়ে যাওয়া।

পরের পোস্ট ই-মেইলে পেতে সাবস্ক্ইব করুন।:

ই-মেইলের লিংকে ক্লিক করে একটিভেট করে নিন। FeedBurner

অনেক বেশি সময় একাধারে কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা বা টিভি দেখার জন্য চোখ ব্যাথা হতে পারে। অনেক দির্ঘ্য সময় পড়া বা লেখালেখি করার জন্যও চোখের সমস্যা হতে পারে।

আরেকটা বড় সমস্যা হলো গ্লুকোমা। চোখের পেশির উপর চাপ বেড়ে গিয়ে এই সমস্যা হতে পারে। কখনো ব্যাথা হতে বা নাও হতে পারে।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে ছানি পরার সমস্যা হতে পারে।

ভিজুয়াল সমস্যাটা ইদানিং সব বয়সের লোকেরই দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সঠিক ফোকাসিং হয় না বা কিছু অংশ ঝাপসা দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে চশমা নিতে হয়।

চোখের সমস্যা না হওয়ার জন্য বাসায় কিছু ব্যায়াম করতে পারেন। তবে চোখের বিশেষ কোন রোগ থাকা অবস্থায় ব্যায়াম করা যাবে কিনা তা ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।

সব চেয়ে বড় কথা চোখের সমস্যা হলে নিজে কোন ঔষধ দেওয়া যাবে না। দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

এখন আমি কিছু ব্যায়ামের উল্লেখ করছিঃ

১. সেক দেওয়াঃ

একটি গরম এবং একটি ঠান্ডা তোয়ালে নিলেন। গরম তোলায়েটি মুখমন্ডলের নিলেন। হালকা ভাবে চেহারার চার পাসে হাত দিয়ে ডলে দিলেন। চোখের চার পাসের মাংস পেশীও যাতে গরম হয় এ জন্য ডলে দিলেন। তিন মিনিট গরম তোয়ালেটি মুখ মন্ডলে ঢেকে রাখলেন। তারপর ঠান্ডা তোয়ালেটি মুখের উপর একইভাবে দিলেন।

এটা চেহারা পেশীকে সতেজ করবে। চোখেও তার প্রভাব পড়বে।

২. সামনে ও দূরে ফোকাসিংঃ

এটি আপনার চোখের পেশিকে শক্তিশালী করবে। আপনি এমন জায়গায় চেয়ার বসলেন যার দশ থেকে ২০ ফুট দূরে দেয়াল আছে। দেয়াল কালো হলে ভাল হয়। দশ ইঞ্চি দূরে আপনার হাতের একটি আঙ্গুলের দিকে তাকালেন। ১৫ সেকেন্ড পরে দেয়ালের দিকে তাকালেন। এভাবে তিন – চার মিনিট এক্সারসাইজ করতে পারেন।

৩. জুম করাঃ

আপনার হাতে একটি পেন্সিল বা কলম নিন। হকলমটির দিকে তাকিয়ে থাকুন। হাতটি প্রসারিত করে দূর থেকে ধীরে ধীরে কাছে আনুন। তিন ইঞ্চি পর্যন্ত কাছে নাক বরারবর নিয়ে আসুন। এভাবে তিন চারবার এরকম করুন।

৪. সুর্যের আলোর দিকে তাকানোঃ

যারা বেশিভাগ সময় অফিস বা ঘরের ভিতর থাকি তাদের উচ্চ আলোক সংবেদনশীলতা তৈরী হতে পারে। তাই কখনো কখনো উচ্চ আলোর দিকে তাকাতে হবে।

pixels.com

ভিটামনি ডি ক্যালসিয়াম গ্রহনে সহায়তা করে। ক্যালসিয়াম হার গঠনে সহায়ক। ভিটামিন ডি এর অভাব হলে ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার বা ঔষধ গ্রহন করলেও ঠিক মতো ক্যালসিয়াম গ্রহণ হবে না।

ভিটামিন ডি তৈলাক্ত মাছ এবং লিভারে পাওয়া যায়। আর পাওয়া যায় রোদে। এটার অর্থ এই নয় আপনি রোদে সারা দিন শুয়ে থাকবেন। আপনাকে অল্পসময় রোদে থাকতে হবে। বিশেষ করে সকালের রোদে। নিয়মিত ঘরের বাইরে হাটাহাটি ভিটামিন ডি এর ব্যবস্থা করে দেয়।

এই ব্যায়ামের পদ্ধতিটি বলিঃ

  • চশমা বা অন্য কোন গ্লাস থাকলে খুলে ফেলুন।
  • সূর্যের দিকে মুখ রেখে বসুন।
  • ূর্যের দিকে মুখ রেখে বসুন।
  • চোখ বন্ধ করুন। সূর্যবরাবর মুখ নিন।
  • বাম দিকে মাথা ঘুরান, যতটা যায়। এবার চোখ খুলুন। এতটা বাম দিকে যাবে যে সূর্যের সরাসরি আলো চোখে পড়বে না।
  • হাত দিয়ে চোখ ঠেকে রেখে সূর্যের দিকে তাকান। ১০ মিনিটের মতো এই ব্যায়ম করতে পারেন।

৫. পাল্মিং

সানিং এর বিপরীত বলা চলে। মোটামুটি অন্ধকার ঘরে। হাত দিয়ে চোখ ঢেকে রাখুন। হালকা চাপ দিন। কিছুক্ষণ পর হাত ছেড়ে দিন। চার দিকে তাকান। এভাবে কয়েকবার করেন।

৬. চোখের পুষ্টিঃ

চোখের জন্য নানান ধরনের ভিটামিন, মিনারেল ও পুস্টি দরকার হয়। তার তালিকা এবং কোন কোন খাবারে পাওয়া যায় তা নিচে দেখতে পারেন।

pixels.com

ক. বেটা ক্যারটিনঃ জিংক, ভিটামিন সি ও ই প্রয়োজন হয়। গাজর, মিস্টি আলু, পালং শাক এ পাবেন।

খ. Bioflavonoids or Flavonoid: সাইট্রাস, সয়া, জাম ইত্যাদি।

গ. লুটেইন ও জেক্সাথিন (Lutein and Zeaxanthin): পালং শাক, পুইশাক, শালগম শাক ইত্যাদি।

ঘ. ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডঃ সামুদ্রিক মাছ যেমন স্যামন এবং বিভিন্ন ধরনের বাদাম।

ঙ. সেলেটিয়ামঃ চিংড়ি, কাকড়া, বাদামি চাউল।

চ. ভিটামিন এঃ মুরগির কলিজা, গরুর মাংস, দুধ ও ডিম।

ছ. ভিটামিন সিঃ কাচা মরিচ, লেবু, কমলা, ব্রোকলি

জ. ভিটামিন ডিঃ সার্ডিন মাছ, সেমন মাছ, দুধ। নিয়মিতো সূর্যের আলোতে থাকা।

ঝ. ভিটামিন ইঃ সূর্যমুখির বীজ, আমলকী ইত্যাদি।