ঠিক মতো ঘুম না হলে যে ১৬ টি ক্ষতি হতে পারে

ঘুম দূর করতে আমরা ছোট বেলা থেকেই ব্যস্ত ছিলাম। তারা তাবি ঘুমিয়ে গেলে বাবা মা বকা দিতেন। অফিসে বা স্কুলে ঘুমিয়ে পড়া বড় রকমের অপরাধ। কিন্তু ঘুম দূর করতে তরতে এটা একটা রোগে পরিনত হয়। তাই ঘুমকে দূর না করে প্রাপ্তা বয়স্কদের দিনে ৭ থেকে ৯ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন।

হালকা ঘুম বা পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বিভিন্ন রকমের রোগ বালাই হয়। কয়েকটি সোর্স থেকে স্টাডি করে আমি তথ্যগুলো শেয়ার করছি ।

১. ক্যান্সারঃ

গবেষণার দেখা গেছে যারা রাতে ডিউটি করে এবং ঘুমের সমস্যা হয় তাদের নারীদের মধ্যে ব্রেস্ট ক্যান্সার বেশি। অন্যান্য ক্যান্সারও কম ঘুমের কারনে হতে দেখা যায়। যারা রাতে কাজ করে তারা দিনে ঘুমায়। দিনে অনেকে আলোর মধ্যে ঘুমায় যা রাতের ঘুমের মতো নির্বিঘ্ন হয় না। নিরবিচ্ছন্ন ঘুম না হওয়াও ক্ষতিকর।

২. ত্বকে বার্ধক্যের ছাপঃ

ঠিক মতো ঘুম না হলে ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ চলে আসবে। রোদে বা আঘাতে ত্বকের যে ক্ষতি হয় রাতে ঘুমে তার অনেক অংশই পরিপূর্ণ হয়। সঠিক পরিমান ঘুম না হলে তা অপূর্ণ থেকে যায়। ত্বকের যত্নে শুধু ঘুমই না খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া ত্বকের যত্নও নিতে হবে।

৩. আবেগ নিয়ন্ত্রণঃ

ধরুন আপনার ধুমপান করতে মন চাইছে, কিন্তু জানেন যে এটা ক্ষতিকর এ জন্য করছেন না। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এটা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। মদ পান , যৌন আকাংক্ষা ইত্যাদি চরিতার্থ করার জন্য অবৈধ পথ গ্রহনকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। নিয়মিত কম ঘুমালে অনেকের ইমপাল্স কন্ট্রোল মানসিক রোগ হয়ে যেতে পারে।

৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাঃ

ঘুমালে শরীর নিজে নিজেকে ঠিক করে। বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গের ক্ষত ঠিক হয়। কম ঘুমালে সেই সুযোগও কম হয়। কোন একদিন ঘুম কম হলে সুযোগ বুঝে বিশ্রাম নিবেন তাহলেও কিছুটা উপকার হবে- অবশ্য সব সময় না ঘুমিয়ে তন্ত্রাচ্ছন্নতা ক্ষতিকর।

৫. একাকিত্বঃ

যারা দিনে ঘুমায় এবং রাতে জেগে থাকে তাদের একাকিত্ব গ্রাস করে। অধিকাংশ লোক দিন কাজ করে সেই সময় আপনি ঘুমালে অনেককে পাবেন না। আবার দিনে ঘুমানোর জন্য নিজেকে সরিয়ে নিবেন । একাকিত্ব গ্রাস করার সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যাবে।

৬. মেজাজ খারাপ হওয়া ও অন্যের প্রতি অহেতুক বিরক্ত হওয়া

অতি ব্যস্ত বা কাজের চাপে থাকলে সাধারণত আমাদের মেজাজ খারাপ হয়। কিন্তু আমরা স্বাভাবিকভাবেই দেখি রাতে ঠিক মতো ঘুম না হলে অন্যের প্রতি বিরক্ত হই। অনেকের বিরক্ত হওয়া অভ্যাসে পরিনত হওয়ার পেছনে কম ঘুমানো দায়ী।

৬. মেজাজ খারাপ হওয়া ও অন্যের প্রতি অহেতুক বিরক্ত হওয়া

অতি ব্যস্ত বা কাজের চাপে থাকলে সাধারণত আমাদের মেজাজ খারাপ হয়। কিন্তু আমরা স্বাভাবিকভাবেই দেখি রাতে ঠিক মতো ঘুম না হলে অন্যের প্রতি বিরক্ত হই। অনেকের বিরক্ত হওয়া অভ্যাসে পরিনত হওয়ার পেছনে কম ঘুমানো দায়ী।

৭. নিদ্রারোগ (Alzheimer’s) হওয়াঃ

ডিম আগে না মুরগী আগে এরকম অবস্থা। কম ঘুমাতে ঘুমাতে এমন একটা অবস্থা হয়ে যাবে যে আপনার সুযোগ থাকা সত্বেও ঘুম আর আসবে না। অনিয়মিত জীবন যাপনের কারনে এটা রোগে পরিনত হবে। তাই নিয়মিত কম ঘুমানো মারাত্বক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

৮. স্ট্রোকঃ

যাদের স্ট্রোক হয়েছে তাদের অর্ধেকেরই ঘুমের সমস্যা পাওয়া গেছে। এটা না যে শুধু ঘুমের সমস্যার জন্যই স্ট্রোক হয়, তবে ঘুম একটা কারনও। ঘুম ভেঙে যাওয়ার সাথে হৃদপিন্ডের সম্পর্ক আছে।

weight

৯. ওজন বেড়ে যাওয়াঃ

ঘুম কম হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন হয়। ঘুম কমানোর জন্য অনেকে চা ও কফির সাথে দুধ ও চিনি বেশি খেয়ে থাকে। অনেকে স্পাইসি জাতীয় খাবার বেশি পছন্দ করে ফলে ওজন বেড়ে যায়।

১০. ব্যাথাঃ

যাদের রাতে ঘুম কম হয় তাদের শরীরের জয়েন্টে ব্যাথা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে ঘুম না হওয়ার সাথে ব্যাথা বেশি হওয়ার সম্পর্ক আছে। তাছাড়া বিছানার কারনেও শরীর ব্যাথা হয়। অনেক বেশি সময় বসে থাকলেও ব্যাক পেইন বেশি হয়। ব্যাক পেইনের রুগীকে দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময় সমান বিছানায় কিছু সময় শুয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

১১. মনযোগ কমে যাওয়াঃ

পড়ালেখা বা গবেষণায় প্রচুর চিন্তা করতে হয়। চিন্তার গভীরতার জন্য প্রচুর ঘুম দরকার। বাচ্চাদের পড়ালেখায় মনোযোগের জন্য তাদের পর্যাপ্ত ঘুমের পরিবেশ দেওয়া উচিৎ। কথিত আছে, ঘুম থেকে উঠে পড়তে বসলে তা সহজে মনে থাকে।

১২. ডায়াবেটিকসঃ

কম ঘুমের কারনে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায়। ওজন বৃদ্ধির সাথে সাথে টাইপ ২ ডায়াবেটিকস এর সম্ভাবনা বাড়ে। এই আটিকেল টিতে তা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

১৩. গ্যাস্ট্রিকঃ

রুগিদের প্রায় তিন ভাগের একভাগেরই গ্যাস্টিক নামে পরিচিত রোগে আক্রান্ত। মূলতঃ এটি Gastroesophageal reflux disease বা GERD. হজমে সমস্যার কারনে এটি হয়। খাওয়ার পর তা বিভিন্ন এনজাইমের মাধ্যমে হজম প্রক্রিয়া চলে।

দিনের বেলা যারা ঘুমায় এবং রাতে যারা কাজ করে এবং অনিয়মিত জীবন যাপন করে তাদের ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেশি দেখা গেছে। এই রিপোর্টটিতে গ্যাস্টিক হওয়ার অনেকগুলো কারন উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে ঘুম না হওয়া বা ইনসোমিয়াও একটি অন্যতম কারন।

১৪. মাথা ব্যথাঃ

যাদের মাথা ব্যাথা তাদের অর্ধেকের বেশি লোকের ঘুমের সমস্যা হয়। অনেক দির্ঘ্য সময় কাজ করে গেলে এবং রাতে দেরীতে ঘুমালে মাথায় অনেক চাপ পড়ে। কাজের সময় মাঝে মাঝে ব্রেক দেওয়া এবং রাতে তারাতরি ঘুমিয়ে যাওয়া মাথাব্যাথা কমতে সহায়তা করে।

১৪. যৌন ক্ষমতা কমে যাওয়াঃ

যৌণ কার্যক্রমের সাথে ঘুমের সম্পর্ক এমন যে একে অপরের পরিপুরক। ঠিক মতো ঘুম না হলো যৌন কার্যক্রমের ক্ষমতা হ্রাস পায় আবার ঠিক মতো যৌন চাহিদা না মিটলেও ঘুমে সমস্যা হয়। এ বিষয়ে বেশ কিছু গবেষণাও হয়েছে।

১৫. হেলুসিনেশনঃ

ঠিক মতো ঘুম না হলে এবং ভিন্ন ভিন্ন সময় ঘুমালে হেলুসিনেশন হতে পারে। হেলুসিনেশন বলতে কোন একটি অবজেক্টের অবস্থান না থাকলেও তা আছে বলে মনে হওয়া। যাদের ইতিমধ্যে মানুষিক সমস্যা রয়েছে তাদের ঘুম না হলে হেলুসিনেশনের সম্ভাবনা আরো বেশি হয়।

১৬. স্মৃতি শক্তি কমে যাওয়াঃ

কম ঘুমালে স্মৃতি শক্তিও কম হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে একেবারে সকাল সকাল স্কুল শুরু না হয়ে একটু দেরীতে শুরু হলে ফলাফল তুলনামূলক ভাল হয়।

যারা লিখতে সহায়তা করেছেঃ