অনেকেই ব্লগ লেখতেন। এখন লেখেন না কেন?

অনেক ভাল ভাল লেখক বাংলা ব্লগ ছেড়ে চলে গেছেন। এক সময়ের ব্লগের মাঠ কাপানো লেখককে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না এখন। এমন না যে তারা তারা কমিউনিটি একটিভ না। এমন না যে তারা দুই একটা কথা বলে না, এমন না যে তারা লেখতে পারেন না। তাহলে বাংলা ব্লগাররা লেখেন না কেন?

আমি এ ব্যাপারে কিছু সময় চিন্তা করে এবং ফেসবুকে পোস্ট করে কিছু কারণ জানতে পারি।

picture: pixabay.com

আমরা আসলে কেন লেখতামঃ

আমরা যখন লেখতাম তখন কেন লেখতাম এটা তো ভাবতে হবে। হোয়াট ইন্সপায়ার আজ টু রাইট? তারপর বলতে পারবো কেন আমরা এখন আর লেখি না, লেখালেখির ধারাবাহিকতা কেন হারালাম?

পরের পোস্ট ই-মেইলে পেতে সাবস্ক্ইব করুন।:

ই-মেইলের লিংকে ক্লিক করে একটিভেট করে নিন। FeedBurner

কয়েকটি করানে আমরা লেখতাম-

১. কমিউনিটিঃ আমরা কমিউনিটিকে গুরুত্ব দেই। বাংলা ব্লগের ২০০৫ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত যারা লিখতেন তাদের অনেকে এখন লেখেন না। কারন ধীরে ধীরে তাদের পাঠক কমে গেছে। লেখায় আগে যে পরিমান ফিডব্যাক বা কমেন্ট পাওয়া যেতো তা এখন আর নাই। কমিউনিটি ফ্লপ করার একটা কারন কমিউনিটির লোকজন বা পাঠকরাও ব্যস্ত হয়ে পরেছে। যাদের জন্য লেখা তারা তা না পড়লে তো লেখক লেখার খেই হারাতেই পারে।

২. ফেসবুকঃ ফেসবুকে অল্প কিছু লেখার দারুন ফিডব্যাক আসে যা সিরিয়াস লেখায় আসে না। এ ব্যপারে

জোবায়ের রায়হান ভাই বলেছেন,

ফেসবুকে ছোট ছোট স্ট্যাটাস লিখে যে পরিমাণ লাইক কমেন্ট পাওয়া যায় নোট লিখে সেটা পাওয়া যায় না। তাছাড়া ফেসবুকে গুরুগম্ভীর বিষয়ে লেখা মানুষ পড়ে না, যদিনা চটুল কোন ইস্যু হয়। লোকে টাইমলাইন স্ক্রল করতে করতে যেটুকু দেখা যায় সেটাই পড়ে। আর ব্লগ হচ্ছে বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণী লেখালেখির জায়গা। সেখানে আবার চটুল ছোট লেখা চলে না। আমরা নিউজ-ইস্যু পাগল বাঙালি, ইস্যুর সন্ধানে ফেসবুকেই তাই চলাচল বেশি।

৩. পাঠাভ্যাস কমে যাওয়াঃ পাঠাভ্যাসের পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন হোসেন ভাই। ইউটিউব এবং ডায়নামিক অনেক কনটেন্টের ভিড়ে হয়তো জ্ঞান অর্জনের জন্য আমাদের আর পড়তে হয় না।

হোসেন ভাই বলেন,

কেউ পড়তে চায় না। পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য আমাদের কিছু উদ্যোগ গ্রহন করা উচিত। পাঠক যদি না পরে অথবা কোন আগ্রহ ই প্রকাশ করে তাহলে লেখক অথবা ব্লগাররা আগ্রহ হারাই ফেলে। 🙁

আশা করি সামনে অনেক পাঠক বাড়বে, এবং আমাদের দেশ সমৃদ্ধ হবে।

৪. বাংলা ব্লগ ব্লক ও বন্ধ হওয়াঃ আমার একটি মতামত হলো বাংলা কিছু ব্লগ সরকার কর্তৃক বন্ধ করে দেওয়া। খরচ যোগার না করতে পেরে ব্লগগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া। এটার ফলে অনেক ব্লগারের অনেক লেখা হারিয়ে যায়। আর এত সুন্দর সুন্দর লেখা হারিয়ে লেখক ডিমটিভেট হয়ে লেখা বন্ধ করে দেয়। ব্যান খাওয়ার কারনে অনেক ব্লগারকে ব্লগ লেখা বন্ধ করতে দেখেছি।

ব্লগে রাজনৈতিক প্রভাব ও মনিটরিংও দায়ী। সরকার অফেন্সিভ লেখকদের আইনের আওতায় এনে বিচার করার ধারা যোগ করায় অনেকে মনের ভাব প্রকাশে ভয় পেয়ে যায়। মানতে হবে, সবাই কিন্তু সিরিয়াস লেখক না।

৫. ব্যস্ততা এবং ভিন্ন ইফেকটিভ ক্রিয়েটর হয়ে যাওয়াঃ অধিকাংশ যারা ছাত্রজীবনে এবং ক্যারিয়ারের শুরু দিকে প্রচুর লিখতে দেখেছি তারা পরে আর লেখেন নাই। এটার একটা কারন ব্যাস্ততা। ব্যাস্তাতার কারনে এবং এমন কিছু কাজ করছেন যার প্রভাব সমান সময়ে একটা লেখার চেয়ে বেশি।

৬. ব্লগ চালানোর খরচ ও আয়ঃ অনেকে ব্লগ লিখে আয় করার টারগেটে ব্লগ শুরু করেছিলেন। তারা সবচেয়ে দ্রুত ব্লগিং ছেড়েছে। কারন তারা এটা থেকে আয় বের করতে পারেন নাই। তাছাড়া সাইটের বাৎসরিক খরচ তো আছেই।

আবার কিভাবে লেখালেখিতে ফিরে আসতে পারবো?

এটা আমার আইডিয়া। আপনারাও কমেন্টে আইডিয়া শেয়ার করতে পারেন।

  • ১. নিজেকে মটিভেট করে লেখালেখিতে ফিরে আসতে পারি। লেখাটা আমার নিজের জন্য একটা সম্পদ। ভবিষ্যত প্রজন্মের মধ্যে নিজেকে ছড়িয়ে দেওয়ার পদ্ধতি। বয়স পেলে এখনকার সময়ের লেখাগুলো পড়ে হয়তোবা শেষের সময়গুলো কাটিয়ে দিতে পারবো।
  • ২. যারা পাঠক আছি। তারা প্রতিটি ভাল লেখায় মন্তব্য দিলে এবং শেয়ার করলে লেখক ইন্সপায়ার হবে। আশা করি অনেক লেখক আবার ফিরে আসবে।
  • ৩. নিজেকে সিরিয়াস পাঠক হিসেবে ফিরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করা উচিৎ। ছোট ছোট স্ট্যাটাস পড়ার চেয়ে অনেক বড় ও ধারাবাহিক কনটেন্ট আমাদের জ্ঞানের উৎস হবে। আর এটা স্বাস্থ্যের জন্যও ভাল।