মোবাইল ব্যাটারী খরচের ট্যাকনিক্যাল বিষয়

মোবাইলের ব্যাটারী খরচ হয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটা সমস্যা। অধিক পারর্ফমেন্সের মোবাইলে অধিক চার্জের দরকার হয় ফলে মোবাইলের আকার বড় হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য অনেক ধরনের ট্যাকনিক্যাল পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হয়েছে মোবাইলের টেকনোলজীতে। আজকে সেই সব বিষয় নিয়েই আমার আলোচনা।

প্রসেসরের বিদ্যুৎ খরচের বিষয় সমুহ

প্রসেসর কোর বেশি হলে ব্যাটারী খরচ সাধারণত বেশি হবে। এমনটাই সাভাবিক ধারণা। কম্পিউটারের ক্ষেত্রে বিষয়টা এরকম হলেও মোবাইলের ক্ষেত্র ভিন্ন।

  • আর্কিটেকচারঃ কম্পিউটারের প্রসেসরের আর্কিটেকচার এবং মোবাইলের প্রোসেসররের আর্কিটেকচার ভিন্ন। তার মানে ২ গিগাহার্জ গতি কম্পিউটারকে দিতে যে পরিমান বিদ্যুৎ খরচ হবে তার চেয়ে অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ হবে মোবাইলের ক্ষেত্রে।
  • ইনস্টাকশন সেটঃ এটার আরেকটা কারন ইনস্ট্রাকশন সেট। x86 এবং ARM প্রসেসরের ইনস্ট্রাকশন সেটই ভিন্ন রকমের। তার মানে একই প্রোগ্রাম উভয়টাতে চলবে না।
  • প্রসেস সাইজঃ প্রসেসরের ক্ষুদ্র অংশ হলো সেমিকন্ডাক্টর এবং একটা সর্বনিন্ম সাইকেল পরিমান ডাটা প্রসেস করতে পারে এমন অংশের আয়তনের উপর নির্ভর করে বিদ্যুৎ খরচ। একটু ব্যাখ্যা সাপেক্ষ তাই বলছি- পেন্টিয়াম ওয়ানের একটা ক্লক সাইকেল প্রসেস করার প্রতি ইউনিটের সাইজ ছিল .25 মাইক্রোমিটার। পেন্টিয়াম সেভেনের প্রথম জেনারেশনের প্রসেসরের প্রসেস সাইজ ছিল ৪৫ ন্যানোমিটার, বর্তমানে ৮ জেনারেশনের প্রসেসরে এটি ১৪ ন্যানোমিটার। একই সময় স্ন্যাপড্রগন মোবাইল প্রসেসরের প্রসেস সাইজ ১২ ন্যানোমিটার। সেমিকন্ডাক্টর সাইজ ছোট হলে বিদ্যুৎ খরচের পরিমানও কমে।
  • স্লিপিং কোরঃ ইদানিং অনেক বেশি কোরের মোবাইল প্রসেসর তৈরী হচ্ছে। চাইলে উচ্চগতির কম কোর রাখা যেতো সেটা না করে কম গতির ও উচ্চগতির কোর মিলিয়ে প্রসেসর ডিজাইন করা হচ্ছে। এটার সুবিধা হলো কিছু কোরকে স্লিপিং মুডে রাখা যাতে বিদুৎ খরচ কম হয়। (বাস্তবে স্লিপিং কোর কিন্তু ঘুমায় না)। এই পদ্ধতির প্রয়োগ এখনো ডেস্কটপ কম্পিউটারের ইন্টেল প্রসেসরে ব্যবহুত হয় নাই।
  • ভিন্ন ভিন্ন প্রসেসরঃ এপলই সর্বপ্রথম ভিন্ন ভিন্ন প্রসেসর ব্যবহার শুরু করে। গ্রাফিক্সের জন্য (জিপিইউ) এবং সেন্সরগুলোর জন্য আলাদা প্রসেসর বিদ্যুৎ খরচ বেশ কমাবে। এপলের কিছু সেন্সর মোবাইল বন্ধ থাকা অবস্থায়ও সচল থাকে তখন সেন্সর ডাটা ভিন্নভাবে সংরক্ষিত হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত পড়াসুনা করতে চাইলে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন। ভিন্ন প্রসেসরের সুবিধা যখন ডিসপ্লে বন্ধ থাকবে তখন জিপিইউ কম বিদ্যুৎ গ্রহণ করবে।

আরো দেখতে পারেনঃ

ডিসপ্লের ধরন ও কেন ওরা এত ব্যাটারী খায়?

কে কত বিদ্যুৎ খেয়েছে তার ম্যাপ সহজেই স্মার্টফোন থেকে দেখা যায়। (আমি লেখাটা একেবারে কম বুঝ ব্যক্তিদের জন্য লিখেছি তাই একটু গোড়া থেকে বলি।)

ডিসপ্লে সবচেয়ে বেশি ব্যাটারী খরচ করে এমনটাই আমরা দেখি। সহজ কথায় বলি-

  • ১. বেশি সময় ডিসপ্লে চললে গ্রাফিক্যাল প্রসেস করার জন্য এবং র‌্যামের ব্লকগুলো চলার জন্য বিদ্যুৎ খরচ হয়।
  • ২. ডিসপ্লে আলোকিত হতে বিদ্যুৎ করচ হয়। কালো অংশের জন্য খরচ হয় না। এজন্য বলা হয় অন্ধকার থিম ব্যবহার করুন।
  • ৩. এলসিডি ডিসপ্লে সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ খরচ করে, এলইডি বেশি খরচ করে।
  • ৪. ডিসপ্লে রেজুলেশন বেশি হলে বেশি প্রসেস করতে হয় ভিন্ন ভিন্ন পিক্সেলকে আলোকিত করতে হয় তাই বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়।

সেন্সর বিদ্যুৎ খরচ করে যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনঃ

মোবাইলে অনেক অনেক সেন্সর যোগ হয়েছে এখন, আরো নতুন এমন কিছু আসবে যা আমরা জানি না। জিপিএস সেন্সর, ম্যাগনেটো মিটার, জাইরোস্কোপ, লাইট সেন্সর, এনএফসি ইত্যাদি সেন্সরগুলো বিদ্যুৎ খরচ করে যায়।

যারা খুব কম কাজে মোবাইল ব্যবহার করেন, তারা বাড়তি সেন্সর বন্ধ রাখতে পারেন।

চলন্ত এপসঃ

কিছু এপস সবসময় চলতে থাকে, ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থেকে আপডেট নিতে থাকে। এরুপ এপসের মধ্যে মেইল এবং ফেসবুক কমন। এ ছাড়াও মোবাইল কোম্পানির এপস এবং অপারেটিং সিস্টেম নিজে সময়ে সময়ে সিনক্রোনাইজ হয়। বিভিন্ন ক্লাউড স্টোরেজও ব্যাগ্রাউন্ডে একটিভ থেকে কাজ করে যেতেই থাকে। এরা আপনার প্রসেসরকে সচল রাখে, র‌্যাম ব্যবহার করতেই থাকে।

কখন সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে?

যখন কোন ডিভাইজের সবগুলো অংশ সর্বোচ্চ পাফর্মেন্স করবে তখন বিদ্যুৎ বেশি খরচ হবে। ভিডিও চলার সময় ডিস্প্লে সবচেয়ে বেশি ব্যাবহার হয়। আর গেম খেলার সময় অনেক অনেক হিসাব করতে হয় প্রসেসর ও জিপিইউকে (যদি থাকে), একই সাথে ডিস্প্লেও কাজ করে। তাই প্রসেসর অনেক বেশি গরম হতে দেখবেন। থ্রিডি গেমে ম্যাথমেটিক্যাল হিসাব আরো বেশি, তাই কম র‌্যাম এর মোবাইলে অনেক গেমই চলে না। প্রতিটি মুভমেন্টে থ্রিডি অবস্থান হিসাব করতে হয়, মেমরীতে সংরক্ষণ করে তা ডিপ্লেতে পাঠাতে গিয়ে অনেক বেশি কাজ করতে হয় মোবাইল বা কম্পিউটারকে।

Picture Source: