বায়োপ্লাস্টিকের ব্যবহার পৃথিবীকে সুন্দর করতে পারে

অনেক হালকা আথচ বেশ টেকসই এবং দামে সস্তার কারনে প্লাস্টিক খুব খুব জনপ্রিয়। যেদিকে তাকাই প্লাস্টিকের ছড়াছড়ি। আসবাবপত্র, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিকস ও বাজার ও বিভিন্ন পন্যের প্যাকেট প্লাস্টিক দিয়ে তৈরী।

প্লাস্টিক পচে প্রকৃতিতে মিশতে প্রকার ভেদে ৬০ থেকে ৪০০ বছর লেগে যেতে পারে। আর দিন দিন প্লাস্টিকের পরিমান বেড়েই যাচ্ছে। প্লাস্টিকের ব্যবহারে জমির উর্বরতা কমছে-পানি চলাচল করতে পারছে না। ময়লা পচনে এবং প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে পারছে না। আর প্লাস্টিক ও মাইক্রো প্লাস্টিক খেয়ে মারা যাচ্ছে নদী ও সমুদ্রের মাছ ও প্রানী। একটা ভয়াবহ প্রাকৃতিক সমস্যা প্লাস্টিক।

বায়োপ্লাস্টিক হতে পারে এই সমস্যার সমাধান। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন, আশা করা যায় আশার আলো পাবো।

Image by Elias Shariff Falla Mardini from Pixabay

বায়োপ্লাস্টিক কি?

বায়ো-প্লাস্টিক আসলে প্লাস্টিক না। বিভিন্ন প্রকারের প্রাকৃতিক পদার্থের মাধ্যমে প্লাস্টিক পন্য তৈরী করা যায় যা প্রাস্টিকের মতোই কাজ করবে তবে অল্প দিনেই প্রকৃতির সাথে মিশে যাবে।

বায়ো প্লাস্টিক ব্যবহারের উপকারিতাঃ

  • পৃথিবীতে কার্বন ডাই অক্সাইড বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করবে।
  • উৎপাদনের ক্ষেত্রে কম পরিমানতাপ ও বিদ্যুৎ লাগবে তাই এটি শক্তি বাচাবে।
  • মাটিতে মিশে গিয়ে মাটির উর্বরতা বাড়াবে, প্লাস্টিকের কারনে পয় নিস্কাশনে সমস্যা সৃষ্টি হয় তা হবে না কারন প্রকৃতির সাথে খুব সহজেই বায়ো-প্লাস্টিক মিশে যায়।
  • খাবারের প্যাকেটটি বায়োপ্লাস্টেকর হলে মান ভাল থাকবে।

বিভিন্ন ধরনের বায়ো-প্লাস্টিকঃ

বিভিন্ন ধরনের উপাদান দিয়ে বায়োপ্লাস্টিক তৈরী হয়। কোনটা খেয়ে ফেলা যায় এবং আমাদের শরীরের খাদ্য উপাদান হিসেবে কাজ করে। কোনটা আবার পানির উপস্থিতিতে মিলিয়ে যায়, কোনটা ওয়াটার প্রুফ।

১. স্টার্চ ভিত্তিকঃ বায়োপ্লাস্টিকের প্রায় ৫০ ভাগই স্টার্চ থেকে উৎপাদিত হয়। এটাকে thermo-plastical starch বলা হয়। বিভিন্ন উপাদান যেমন Polylactic acid, Polybutylene Adipate Terephthalate, Polybutylene Succinate, Polycaprolactone, and Polyhydroxyalkanoates ইত্যাদির মিশ্রনে তৈরী হয় স্টার্চ ভিত্তিক বায়ো-প্লাস্টিক।

সেলুলোজ থেকে তৈরী প্যাকেট যা সহজেই মাটিতে মিশে যাবে। ছবি উইকিপেডিয়া

২. সেলুলোজঃ সেলুলোজ বায়ো প্লাস্টিকের সাথে স্টার্চ মিশিয়ে সহজেই পানি ও বাতাস ধারণকরতে পারে এমন মেটেরিয়াল বানানো যায়। স্বচ্ছ হওয়ায় বিভিন্ন প্যাকেট বানানো যেতে পারে। সহজেই কম্পোস্টে পরিনত করা যায়।

৩. প্রোটিন থেকেঃ প্রোটিন যেমন সয়া বা গম থেকেও বিভিন্ন হালকা বকসো তৈরী করা যায়। অবশ্য প্রোটিন পানি শোষণ করে তাই পানির স্পর্শ লাগবে এমন কাজে এগুলো ব্যবহার করতে হবে।

বাংলাদেশে উৎপাদিত সোনালী ব্যাগ। Picture daily-sun.com

৪. পাটঃ বাংলাদেশের গবেষকরা পাট থেকে সোনালী ব্যাগ তৈরী করেন যা সহজেই মাটিতে মিশে যাবে খুব শিগ্রই এটি বাজারে দেখা যাবে ইনশাল্লাহ।

আরে বিভিন্নভাবে প্লাস্টিকের ক্ষতি থেকে পৃথিবীকে রক্ষার চেষ্টা চলছে, চলছে গবেষণা। আশা করা যায় খুব শিঘ্রই পলিথিনের জায়াগায় বায়ো-প্লাস্টিক চলে আসবে।