ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের সহজ ও কার্যকর নির্দেশনাঃ প্রথম পর্ব

সুধীজনেরা আমার এই লেখনীর সর্ব প্রথমে আমি আপনাদের সবাইকে জানাচ্ছি আমার বিনম্র নমস্কার।

আজকে আমি আলোচনা করব, বর্তমান সময়ের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় কর্ম মাধ্যম, যেটিকে ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং বলা হয়ে থাকে। পরম করুণাময়ের ইচ্ছায় এবং আমার পরিবার ও পরিচিতজনদের সহযোগিতায়-অনুপ্রেরণায় আমি গত দীর্ঘ সাত বছর ধরে এই মুক্ত পেশাজীবীকা অথবা ফ্রিল্যান্সিং পেশায় নিয়োজিত রয়েছি। তো প্রায়ই আমাকে একটা প্রশ্নের সম্মুখীন বিশেষভাবে হতে হয়। এ প্রশ্নটা আসলে বিভিন্ন স্তরের লোকদের কাছ থেকে আমি পেয়ে থাকি। ছোট-বড়, পরিচিত-অপরিচিত অনেকেই এই মুক্ত পেশাজীবী বা ফ্রিল্যান্সার বিষয়ে জানতে এবং কাজ করতে আগ্রহী। তো এই জন্যই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমার জানা সমস্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে আমি মোট তিনটি পর্বে ফ্রিল্যান্সিং এর বিষয়ে যথাসম্ভব বিস্তারিত জানাতে চেষ্টা করব। যে জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে খুব সহজেই একজন মুক্ত পেশাজীবী হিসেবে বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসে নিজেদেরকে সফল ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। আমি যে সকল তথ্য আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব এবং যে যে নিয়মে আপনাদেরকে কাজ করার পরামর্শ দেবো তা খুবই সহজ এবং আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি শুধুমাত্র একটুখানি আন্তরিকতা,শুধু এটুকুই প্রয়োজন আপনাদের মুক্ত পেশাজীবী হিসেবে নিজেদের ক্যারিয়ারকে দাঁড় করানোর জন্য। তো আর অপেক্ষা কেন চলুন শুরু করে দেই।

প্রথম পর্বঃ আউটসোর্সিং অথবা ফ্রিল্যান্সিং এর প্রারম্ভিক শর্তসমূহ, কিভাবে প্রোফাইল করতে হবে, কোথায় প্রোফাইল করতে হব্, পেমেন্ট মেথড কিভাবে ভেরিফাই করব এবং প্রোফাইল কে কার্যকর করার জন্য কি কি করনীয়।

দ্বিতীয় পর্বঃপ্রোফাইল সঠিকভাবে তৈরি হওয়ার পরে কি কি ধরনের কাজ গুলো আসলে নতুন অবস্থায় করা সম্ভব এবং যে কাজগুলোকে পরবর্তীতে আমরা স্থায়ী চাকরি হিসেবে বেছে নিতে পারব। সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরে কিভাবে আমরা দ্রুত আমাদের উপার্জিত অর্থ কে নিরাপদে হাতে নিতে পারি।

তৃতীয় পর্বঃ বর্তমান বিশ্বের ব্যস্ত অনলাইন মার্কেটপ্লেসে অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা ভাবে কিভাবে আমরা নিজেদেরকে উপস্থাপন করব এবং কিছু কিছু বিশেষ নিয়ম যেগুলো অনেকেই সম্মুখে করতে না বলেন, কিন্তু নিজেরাই আবার সে গুলোকে প্রয়োগ করে নিজেদের ক্যারিয়ারকে সফল করে থাকে।

তো আর কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক আজকের আমাদের প্রথম পর্বঃ

আমরা ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য বিভিন্ন অনলাইন পপুলার মার্কেটপ্লেসগুলো রয়েছ্ সেগুলোতে পোস্টকৃত বিভিন্ন বাস্তবধর্মী এবং সঠিক অর্থ প্রদানকারী কাজ করে থাকবো। এই অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোর কিছু রয়েছে নির্ভরযোগ্য আবার কিছু রয়েছে ভূয়া। আর এই জন্যই আমরা ঠিক কোন মার্কেটপ্লেসে কাজ করব তা খুব ভেবেচিন্তে আমাদেরকে নির্ণয় করতে হবে। আমি নিজে সর্বপ্রথমে কাজ শুরু করি ওডেস্ক এ। এরপর একটা সময় তার নামকরণ পরিবর্তন করে এবং বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে বাজে ওয়ার্কারদের জন্য তারা অনেক ভালো এবং পুরনো দীর্ঘদিনের কর্মীদেরকে তাদের মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করা থেকে বিরত করেন। আর এ জন্যই আমি এরপর বাধ্য হয়ে ফ্রিলান্সার কোম্পানিতে যোগদান করি এবং তারপর থেকে বর্তমান পর্যন্ত সফলতার সাথে এই মার্কেটপ্লেসে কাজ করে যাচ্ছি এবং এখন পর্যন্ত আমার অভিজ্ঞতায় আমি তাদেরকে অন্যতম একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং কার্যকরী অনলাইন মার্কেটপ্লেস হিসেবে বিবেচনা করি। আমি নতুনদের সকলকে এই কোম্পানিতে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করি। কারণ এতে যোগদান করা, এরপর কাজ করা এবং পরিশেষে উপার্জিত অর্থ হাতে নেয়া সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ। তাদের ওয়েবসাইটের এড্রেস হচ্ছেঃ www.freelancer.com

প্রথমে লিঙ্কে দেয়া ওয়েবসাইটে গিয়ে “আই ওয়ান্ট টু ওয়ার্ক” এ অপশনটি কে ব্যবহার করে নিজেকে একজন কর্মী হিসেবে রেজিস্টার করে নেবেন যা একটি অত্যন্ত সহজ প্রক্রিয়া। বিশেষভাবে উল্লেখ্য এখানে যে তথ্যগুলো প্রদান করবেন তা যেন অবশ্যই আপনার ভোটার আইডির সঙ্গে মিল থাকে তাছাড়া পরবর্তীতে টাকা হাতে পেতে অনেক সমস্যা পোহাতে হয়। কেউ যদি পূর্বে অ্যাকাউন্ট করে থাকেন তো সে ক্ষেত্রে নতুন করে আর অ্যাকাউন্ট করবেন না। কারণ এটি কাজ করবে না। একাউন্ট এর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে আপনার নিজ অ্যাকাউন্ট পরিবর্তন করার অংশে চলে যান এবং সেখানে গিয়ে নিজের প্রোফাইলে একটি অত্যন্ত প্রফেশনাল টাইটেল দিন। প্রোফাইলের ছবি হিসেবে ব্যবহার করবেন খুবই হাস্যজ্জল এবং সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ড এর একটি ছবি যেখানে আপনাকে দেখেই যেকোনো ব্যক্তির একটি ইতিবাচক ভাবনা মনে উদয় হবে। মনে রাখবেন আমাদের এই মার্কেটপ্লেস কোনভাবেই যারা ফর্মাল ওয়ার্কার তাদের জন্য নয়, এজন্য কোন প্রকার ফর্মাল কোট টাই পরা, এমন না দেয়ার চেষ্টা করবেন। এই ধরনের ছবিগুলোকে ক্লায়েন্টরা পছন্দ করেন না। টাইটেল এর পরেই নিজের বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত লেখনি লিখতে হয়। এখানে আপনার সমস্ত বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা কে তুলে ধরার চেষ্টা করবেন। আপনি ঠিক কি রকম মন মানসিকতার লোক তা জানানোর চেষ্টা করবেন, আপনি সঠিক কতটা সময় এক সপ্তাহে কাজ করতে পারবেন এবং এই মুহূর্তে আপনি কাজ করার জন্য উপযুক্ত রয়েছেন কিনা, আপনি ঠিক কয়টা থেকে কয়টা পর্যন্ত কাজ করেন- এই বিষয়গুলো লিখবেন। পরিশেষে একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন আপনার পুরো লেখাটার মাঝে একটি যেন ইতিবাচক ভাব তৈরি হয়।যেন যেকোনো ক্লায়েন্ট আপনার হাতে তাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যক্তিগত কাজ নিশ্চিন্ত হয়ে দিতে পারে।

এরপর আসি পোর্টফোলিও তৈরি করার বিষয়ে -এমনভাবে তৈরি করবেন যাতে আপনার কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। এক্ষেত্রে দেয়া তথ্য সঙ্গে বাস্তব কাজের মিল থাকতেই হবে এমনটা নয়। কিন্তু প্রতিটা পোর্টফোলিও দেখে যেকোনো ক্লায়েন্ট যেন বাস্তবসম্মত বলে মনে করতে পারেন। কিছুটা বুদ্ধি খাটান, এখানে ট্রিক্সের অনেক সুযোগ রয়েছে। যেকোনো পোর্টফলিও যুক্ত করার পূর্বে সেগুলোর ব্যবহার করার ট্যাগ সম্বন্ধে খুবই সতর্ক থাকতে হবে কার্ এখানকার ভুলটা আপনার সম্পূর্ণ পোর্টফোলিও সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করবে। ধরুন আপনি একটা ওয়েব ডিজাইনের পোর্টফোলিও দিয়েছেন, কিন্তু সেখান ট্যাগ বসিয়ে রাখলেন শুধু গ্রাফিক্স ডিজাইন অথবা শুধু ডাটা এন্ট্রি। সেক্ষেত্রে এটি100 ভাগ কার্যকর হলো না কারণ এখানে মার্কেটে প্রধান ডিমান্ড এর কাজ হচ্ছে, ওয়েব ডেভলপমেন্ট অথবা ওয়েব ডিজাইন। এইটা কে সর্বপ্রথম ট্যাগ ব্যবহার করা সমীচীন হবে। গ্রাফিক ডিজাইন এবং ডাটা এন্ট্রি মূল কাজেরই অংশ। পোর্টফোলিওতে ব্যবহার করা ছবিটি রয়েলিটি ফ্রি অথবা রয়েলিটি বিশিষ্ট, যেকোনো টি হতে পার্ এক্ষেত্রে কোন সমস্যা নেই। শুধু খেয়াল রাখতে হবে ছবিটি যেন সম্পূর্ণ প্রাসঙ্গিক এবং অত্যন্ত আকর্ষনীয় হয়, যার মাধ্যমে পোর্টফোলিওর ৫০% পার্সেন্ট আইডিয়া পাওয়া যায়। এরপরেই চলে আসে আমাদের শিক্ষাগত, প্রশিক্ষণরত এবং আমাদের কোন লেখনি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে বিবরণ দেওয়া। শিক্ষাগত ক্ষেত্রে ভাল প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যাবহার করবেন। নিজস্ব কোন ওয়েবসাইট থাকলে সেই সাইটের মূল অ্যাড্রেস না দিয়ে সেই সাইটটির পরিচিত যে নাম তা দিতে হবে। যেমন vsuvo.com এর পরিবর্তে শুধু vsuvo ব্যবহার করা।

শিক্ষাগত প্রতিষ্ঠানের পাসের সাল এমনভাবে উল্লেখ করতে হবে যাতে আপনার কাজ করার যথেষ্ট বয়স হয়েছে তা প্রমাণিত হয়। এর পাশাপাশি আপনার বাড়তি কারিকুলার অ্যাক্টিভিটির বিষয়ক লেখা আপনি লিখতে পারেন। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আমাদের যে কোন ফোন নাম্বার ভেরিফাই করা, ফোন নাম্বার ভেরিফিকেশন শুধুমাত্র তখনই করবেন যখন আপনার প্রোফাইলের অন্যান্য সকল কাজ সমাপ্ত হবে কারণ ফোন নাম্বার একবার ভেরিফাই হয়ে গেলে আপনার প্রোফাইল এর সমস্ত তথ্য লক হয়ে যায় যা পরবর্তীতে পরিবর্তন করা অত্যন্ত জটিল একটা বিষয়। তো এভাবেই আমাদের প্রোফাইলের ডাটাএন্ট্রি জাতীয় যে সমস্ত কাজ রয়েছে তা মোটামুটি শেষ হয়ে গেল।

এবার আমাদেরকে একটি ফ্রিতে পরীক্ষা দিতে হবে যাকে ফ্রিল্যান্স রেডিনেস টেস্ট বলে অর্থাৎ আপনি ফ্রিল্যান্স ওয়েব সাইট ব্যাবহার করে কাজ করার জন্য আদৌ উপযুক্ত কিনা তার একপ্রকার প্রমাণ দেন। এই পরীক্ষাটি বিনা পয়সাতেই দেয়া যায়। তাদের প্রদান করা সকল তথ্য সর্বপ্রথমে পড়ে নিয়ে তারপরে পরীক্ষাতে বসতে হবে। এক্ষেত্রে খুব ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। খুবই সহজ।

পরীক্ষা দেয়ার পর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ তা হচ্ছে আমাদের একটি পেমেন্ট মেথড ভেরিফাই করা। আর এই কাজটি আমরা করব অনলাইন টাকা লেনদেনের প্রতিষ্ঠান স্ক্রিলের মাধ্যমে তাদের ওয়েবসাইটের ঠিকানাঃ skrill.com এই ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের একটি একাউন্ট করে নেবেন। অ্যাকাউন্টটি যেন পার্সোনাল একাউন্ট হয়। এখানে আপনার নিজের ভোটার আইডি কার্ডের এপিঠ-ওপিঠ স্ক্যান করা কপি তাদেরকে সেন্ড করতে হবে এর পাশাপাশি আপনার যেকোন একটা লোকাল ব্যাংকের ব্যাংক স্টেটমেন্টের স্ক্যান করে তাদেরকে পাঠিয়ে দিতে হবে। তারা এক থেকে তিন কর্মদিবসের ভিতরে আপনার একাউন্ট টি ভেরিফাই করে দিবে। এরপর বিভিন্ন জনপ্রিয় অনলাইন যে সমস্ত ওয়েবসাইট রয়েছে যারা ডলার-কেনা-বেচা করে তাদের কাছ থেকে যৎ সামান্য ডলার কিনে আপনার এই স্ক্রীল অ্যাকাউন্টে ডিপোজিট করবেন। এরপর আপনার freelancer.com একাউন্টে গিয়ে ডিপোজিট অপশন থেকে আপনার এই স্ক্রিল এ তৈরি করা একাউন্টের ইউজার নেম পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আপনার একাউন্টের ডলার কে আপনি freelancer.com এ ডিপোজিট করবেন। এই পদ্ধতির মাধ্যমে আপনি দেন এন্ড দেন আপনার একটি ভেরিফাইড পেমেন্ট মেথড আপনার ফ্রিল্যান্স অ্যাকাউন্ট এ যোগ হয়ে যাবে যাতে আপনি পরবর্তীতে আপনার উপার্জনকৃত টাকা উইথড্র করতে পারবেন। যদিও আমরা দ্রুত টাকা পাওয়ার জন্য এই মেথড কে ব্যবহার না করে আমাদের লোকাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরবর্তীতে ব্যবহার করব।

আমার লেখার দ্বিতীয় পর্বে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখবো। স্ক্রিল এ তথ্য প্রদানের পূর্বে খুব সতর্কভাবে আপনার প্রদানকৃত তথ্যগুলোকে চেক করে দেখবেন, কারণ স্ক্রিল একবার কোন ডাটা রিজেক্ট করলে সাধারণত পরবর্তীতে আর একাউন্ট করতে দেয় না। এরপরে সর্বশেষ ধাপে, আমাদের প্রোফাইলের প্রতি ঘন্টায় আমরা কি পরিমান টাকার বিনিময়ে কাজ করব তা বসানো। প্রাথমিকভাবে নতুন যারা কাজ করতে এসেছেন তাদেরকে আমি পরামর্শ দেবো প্রথমে অল্প পরিমাণ টাকার বিনিময়ে কাজ করে যথেষ্ট পরিমাণ ভালো ফিডব্যাক অর্জন করার জন্য। কারণ এটা বাস্তবসম্মত এবং খুবই কার্যকর। এভাবে প্রাথমিক দিকে আপনার টাকা উপার্জনের পরিমাণে কম হলেও কিছুদিনের ভেতরেই আপনার প্রোফাইলটি যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠবে, যথেষ্ট পরিমাণ ইতিবাচক ফিডব্যাক এর কারণে। যার ফলে পরবর্তীতে আপনার কাজ পাওয়া নিয়ে কোন টেনশন করতে হবে না। এরপর ধীরে ধীরে আপনার অর্জিত যোগ্যতার উপর ভিত্তি করে একবারে টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি না করে কিছু কিছু করে টাকার পরিমাণ বাড়ানো। এই যেমন ধরুন 3 থেকে 4 অথবা 5 ডলার। এভাবে সবসময় ক্লায়েন্ট পেতে সুবিধা হয়। আরেকটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন, বিদেশি ক্লায়েন্টরা যথেষ্ট পরিমাণে ভালো কোয়ালিটির যখন কাজ পায় তখন নিজে থেকেই টাকার পরিমা্ণ আপনার করা আশার চাইতে অনেক বেশি পরিমাণে বৃদ্ধি করে দেয়। প্রায়ই আমি দেখেছি আমার নিজেকে আওয়ারলি পেমেন্ট বা টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি করার জন্য ক্লায়েন্টদেরকে কখনো বলতে হয়নি। তারা কিছুদিন আমার কাজের গুণগত মান বিশ্লেষণ করে নিজে থেকে ৫ বা ১০ ডলার পর্যন্ত বর্তমানের চাইতে টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি করে দেয় এজন্যই আমি বলব টাকার পরিমাণের বিষয়ে বেশি ভাবনা চিন্তা না করে কাজের কোয়ালিটির দিকটা বেশি মনোযোগ দেওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর এভাবেই আপনার একটি 100 ভাগ সম্পন্ন ফ্রিল্যান্স প্রোফাইল তৈরি করা হয়ে গেল। যা ধীরে ধীরে আপনি সময় নিয়ে আরও উন্নত করতে পারবেন পরবর্তীতে। আপনার এই প্রোফাইল দিয়ে এখন আপনি বিড করা এবং ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কাজ গ্রহণ করা, সর্বশেষে উপার্জিত অর্থে হাতে নেয়ার জন্য আপনি প্রস্তুত।

এখানেই আমি আমার লেখনীর প্রথম পর্বের সমাপ্তি টানছি, যেখানে আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ব্যাপারে বিস্তারিত ও কার্যকর তথ্য দিয়েছি।

প্রথম পর্বঃ আউটসোর্সিং অথবা ফ্রিল্যান্সিং এর প্রারম্ভিক শর্তসমূহ, কিভাবে প্রোফাইল করতে হবে, কোথায় প্রোফাইল করতে হব্ পেমেন্ট মেথড কিভাবে ভেরিফাই করব এবং প্রোফাইল কে কার্যকর করার জন্য কি কি করনীয়।

মুক্ত পেশাজীবীকা অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সিং-এর বিষয়ে আপনাদের যেকোন প্রশ্ন অথবা জিজ্ঞাস্য থাকলে আমায় জানাবেন। আমি চেষ্টা করবো আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং সঠিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে, আপনাদের সমস্যার সমাধান করতে।

মুক্ত পেশাজীবীকার মতো একটি বিশ্বমানের উন্নত পেশায় এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের যুবসমাজ এ আমার একান্ত কাম্য। আমার বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে, আমার পেশাগত ওয়েবসাইট “www.vsuvo.com” ভিজিট করতে পারেন অথবা ফেসবুকে আমাকে পাবেন “Suvashis Sarkar Suvo” এই নামে।

1 thought on “ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের সহজ ও কার্যকর নির্দেশনাঃ প্রথম পর্ব”

  1. It’s a very informative writing. Another news:
    যারা আউটসোসিং ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ করেন, তাদের ইংরেজী জানা একান্ত দরকার।ইংরেজি যেহেতু বিদেশী ভাষা, তাই আমাদের অনেকে ইংরেজিতে দূর্বল । আমি চেষ্টা করেছি খুব সহজে ইংরেজি শেখাতে। যারা ইংরেজিতে weak, তাদের জন্য আমার ভিডিওগুলো হতে পারে নতুন উপহার।উপহার।ভিডিওগুলো দেখে যদি উপকৃত হন,তাহলে কমেন্ট এবং subscribe করতে অনুরোধ রহিল।

Comments are closed.