সম্রাট বাবর

1.সম্রাট বাবর এর জীবনী জন্মকাল

Interesting stories Mughal emperor Babur - Anandabazar

সম্রাট বাবর এর পরো নাম হচ্ছে জহিরুদ্দিন মোহসম্মদ বাবর। ছোটবেলাতে আদর করে সবাই বাবর বলেই ডাকত।যিনি হচ্ছেন ভারত উপমহাদেশের মূগল সম্রাজ্যর প্রতিষ্ঠাতা।মগলসম্রাজ্য বলতে আমরা সাধারনত সম্রাট আকবর অথবা সম্রাট শাজাহানের শাসন আমলকে বুঝে থাকি।সম্রাট বাবরের জন্মদিন হচ্ছে বিশেষ একটি দিন।আর সে দিনটি হচ্ছে ১৪ই ফেব্রুয়ারি।আমরা সবাই জানি ১৪ ই ফেব্রুয়ারি হচ্ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।সম্রাট বাবর জন্মগ্রহন করে ১৪৮৩ সালে ১৪ই ফেব্রুয়ারি ফারগানা প্রদেশের আন্দিজা নামক স্থানে।আর এই আন্দিজা নামক স্থানটি বর্তমানে উজবিক স্থানে অবস্থিত।তিনি ছিলেন ফারগানা রাজ্যের শাসনকর্তা উমর মির্জার বড় পূত্র।তার মা ছিলেন কুতলুক মিজাম আনাম।তিনি ইউনুস খানের কন্য ছিলেন। সম্রাট বাবর তার বাবা মায়ের দুই বংশের হওয়ায় তিনিও দুই বংশের ছিলেন। এবং সম্রাট বাবর ভিবিন্ন ভাষাও পারতেন।

সম্রাট জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর এর শাসন আমল - Whole worlds history

তিনি চাগাতাই ভাষায় তার জীবনি লিখেছেন।এবং সম্রাট বাবর হচ্ছে ইতিহাসে প্রথম জিনি নিজেই তার আত্নজীবনী রচনা করেছিলেন।এছাড়াও কবিতা লেখতেও তিনি বেশ পারর্দশী ছিলেন।অবসর সময়গুলোতে তিনি কবিতা রচনা করতেন। ছোটবেলা থেকেই বাবর ছিলেন সুন্দর চেহারা এবং সুন্দর গঠনের অধিকারি।এবং তার সাথে তার শক্তিও ছিল অনেক। মল্য যুদ্বে খুব সহজেই কাবু করে দিতে পারতো সার্মথবান ব্যাক্তিকে।তার এই শক্তির কারনেই সবাইতাকে বাবর বলে ডাকতো।আর বাবর এর ফাসি অর্থ বাঘ।অর্থাৎ তিনি ছোট বেলা থেকে বাঘের মতো শক্তির অধিকারি ছিলেন। এছাড়াও বাবর সাতার কাটতেও বেশ পারর্দশি ছিলেন।এমনকি তিনি উওর ভারতের গঙ্গা নদীটি দুইবার পাড়ি দিয়েছেন।১৪৯৪ সালে বাবর ফারগানার সিংহাসনে আরহন করেন।কিন্তু তার চাচা সহ অন্যান্য শত্রুরা তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য অনেক ষড়জন্ত্র করে।এবং এক সময় তারা সফল ও হয়ে যায়। আর যে কারনেই সম্রাট বাবরের একটা বড় সময় কেটে যায়। তার শত্রুদের মাঝে কিছু ভালো মানুষ ও ছিল যার জন্য আবার রাজ্য ফিরে পায়। তার ছোট কাল থেকে ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে তিনি তৈমুললং এর রাজধানী সমরকন দখল করতে চায়। তার জন্য তার সৈনিকদের সেই ভাবে তৈরি করেছেন।

২।স্ম্রাট বাবর এর জিবনের গ্রুত্ব পূর্ণ সময়কাল

বাদশাহ বাবর: যুদ্ধের ডামাডোলে কেটেছে যার জীবন - ইতিবৃত্ত

একসময় সর্মকনের সৈনিকদের মাঝে বিবেধ লাগলে সে সুযোগে সর্মকন দখল করে নেয়।এরপর সার রাজ্যে কিছু সমস্যা দেখা দিলে সে রাজ্যে চলে যায় এবং এই দিকে আবার তারা সর্মকন দখল করে ফেলে।এর ফলে তাদের মধ্যে একটি দন্ধের তৈরি হয় যা উভয়ের মধ্যে তুমুল যুদ্ব ঘটে।ঐবং সেই যুদ্বে বাবর পরাজিত হয়।যুদ্বে সে পরাজিত হলে সর্মকন এবং ফারগানা উভয়ই তার হাত থেকে হাত ছাড়া হয়ে যায়।এবং তাকে রাজ্য হারা হয়ে জাজাবর হয়ে থাকতে হয়। ১৫০৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কিছু সৈনিক নিয়ে আবার যুদ্ব করে এবং আবার তিনি সর্মাকন দখল করে।এরপর আবার এই রাজ্য দুইটি হাত ছাড়া হয়ে যায়।তারপর তিনি ভারত রাজ্যে জয়ের লক্ষে তার সন্তানদের তৈরি করেন।

মুঘল সম্রাট বাবরের জীবন কাহিনী ও মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস । সম্রাট বাবর কেন  ভারত আক্রমণ করেন। Mughal - YouTube

এরপর ১৫২২ সালে তিনি কান্দাহার জয় করে।১৫২৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পানজাবের দিলাল পুর দখল করে।এসময় দিল্লির শাসক ছিলেন ইব্রাহিম নদী।অবশেষে তিনি ১৫২৫ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয় বারের মতো ভারত বিজয়ের লক্ষে কাবুল থেকে রোওনা দেয়।১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে তাকে প্রথম বারের মতো বাধা দেয় দৌলত খা লদী।এই যুদ্বে দৌলত খা পরাজিত হয়। এই পানি পথে যুদ্বে অল্প সংখ্যক সৈন্য নিয়ে ও বিশাল দলকে হারিয়ে দেয় বাবর। তিনি এই যুদ্বে কামান ব্যবহার করে।আর এই যুদ্বে বাবর ভারতে প্রতিষ্ঠা করেন বাবর সম্রাজ্য। বাবর না থাকলে ভারতে এত বৈচিত্র হয়তো আমরা দেখতে পেতাম না। ভারতে সবকিছুতেই মগলদের অবদান অপরিশীম বলে মনে করে ভারতের ব্রিশিষ্ট ইতিহাসবীদ মুখিয়ার।মুখিয়ারের মতে বাবরে চিন্তা ধারায় কখনো হার না মানার একটা মানসিকতা ছিল।সম্রাট বাবর একদিকে যেমন ছিলেন সুদক্ষ অধিনায়ক এবং অপরদিকে ইসলাম পালনের দিকেও ছিল একনিষ্ট।তিনি প্রাথমিক জীবনে মধ্য পান করলেও এক সময় তিনি তার ভুল বুঝতে পারেন এবং পরে শপথ করে যে সে আর কখনো মধ্য পান করবেন না।

যেখানে বাবরি মসজিদের বরাদ্দ জমি চান মুসলিম নেতারা | Patheo24
somraat babur ar mohul

তিনি রাজত্য চালানোর সাথে সাথে তার পরিবারের প্রতি ছিলেন নিষ্ঠাবান।তার মা এবং নানির সঙ্গে গভির সর্ম্পক ছিল তেমনি বোনের কাছেও বাবর ছিলেন একজন আর্দশ ভাই।এবং ছেলে হুমায়ুনের প্রতি ছিল গভীর ভালোবাসা।তিনি তার সন্তান হুমায়ুনের জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত উৎসগ করে দিতে চেয়েছিল।যা ইতিহাসে লেখা রয়েছে।সম্রাট বাবর মৃত্যুর আগে তার সন্তানকে ওয়াসিয়ত নামা লেখে যায়। যার মধ্যে তিনি তার সন্তানকে ভালো মন্দর আদেশ দিয়ে যায়।তার ছেলের জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসগ করে ১৫৩১ সালে ৫ই জানুয়ারি মৃত্যুবরন করে।

Leave a Comment