ইলুমিনাতি প্রিতিঠান ও দাজ্জাল এর গোপন রহস্য

ইলুমিনাতি - আবদুল কাইয়্যুম আহমেদ | Buy Iluminat - Abdul Qaiyum Ahmed  online | Rokomari.com, Popular Online Bookstore in Bangladesh

১।ইলুমিনাতি প্রিতিঠান কি ও এর উৎপত্তি

ইলুমিনাতি প্রতিষ্ঠিত হয় ১ মে ১৭৭৬ সালে, ইঙ্গলস্ট্যাড এ। এটি প্রতিষ্ঠা করেন খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত অ্যাডাম ওয়েইশপ্ট। যিনি ছিলেন ইঙ্গলস্ট্যাড বিশ্ববিদ্যালয় এর “ক্যাথলিক গির্জা আইন” বিভাগের প্রথম অধ্যাপক। সংগঠনটির সর্বপ্রথম সদস্য ছিলেন ওয়েইশপ্ট এবং তার ৪ জন ছাত্র। “আউল অব মিনার্ভা” ছিলো তাদের প্রতীক।প্রচুর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মতে শক্তিমান সিক্রেট সোসাইটি ইলুমিনাতি মূলত এ বিশ্বের সকল প্রধান ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করে।ফ্রেঞ্চ বিপ্লবের সূচনাও ইলুমিনাতির হাতেই।

ইলুমিনাতি পর্ব : ০১ ইতিহাস ও তাৎপর্য - Brainstorm

নেপোলিয়নের ওয়াটারলু যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ করে ইলুমিনাতি। ষড়যন্ত্রতত্ত্ব আর ইলুমিনাতি যেন একই মুদ্রার দুটো পিঠ। কিন্তু কী এই ইলুমিনাতি? কীভাবেই বা তারা এলো? কতটুকই বা কঠিন বাস্তব আর কতটুকুই বা কল্পনা? চলুন ঘুরে আসি এই সিক্রেট সোসাইটির জগৎ থেকে। ঘটনার শুরু বলা চলে জার্মানির দক্ষিণপূর্বের রাজ্য ব্যাভারিয়াতে। ব্যাভারিয়া আবার জার্মানির বৃহত্তম রাজ্য।

ইলুমিনাতি চিহ্ন গুলো - ইলুমিনাতি কি ও ইহুদী চক্রান্ত | Facebook

দেখুন ইলুমিনাতির সিক্রেট সিম্বলগুলো কীভাবে কাজ করে। - YouTube

সেখানের ইঙ্গলস্ট্যাড ইউনিভার্সিটির খ্রিস্টীয় আইন ও ব্যবহারিক দর্শনবিদ্যার প্রফেসর ছিলেন অ্যাডাম ওয়েইশপ্ট। শয়তানের উপাসনার মাধ্যমে স্বার্থ হাসিল করে ইলুমিনাতি। ইহুদিদের ষড়যন্ত্রতত্ত্ব মতে ইলুমিনাতির এক চোখা প্রতীক প্রমাণ করে যে ইলুমিনাতি হলো সেই সংঘ যারা একচোখা দাজ্জাল।

ইলুমিনাতি: বিশ্ব যাদের নিয়ন্ত্রণে | blog.bdnews24.com - pioneer blog for  citizen journalism in bangladesh

কিংবা বাইবেল মতে ৬৬৬ বা এন্টিক্রাইস এর আগমনের পথ সুগম করছে।ইলুমিনাতির সঠিক উদ্ভব কারণ এখনো বিশ্লেষকদের কাছে পরিষ্কার নয়। নতুন পৃথিবী গড়া তাদের মূল লক্ষ্য হলেও আপাতদৃষ্টিতে তারা ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছান্ন সমাজের বিরুদ্ধে গুপ্তভাবে যথেষ্ট সোচ্চার। বিশেষভাবে ধারণা করা হয় মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার ধর্মীয় নৈতিক স্খলন গুলো এদের দ্বারাই প্রকাশ্যে আসে। ধারণা করা হয় এই ঘটনাগুলির সূত্রপাত থেকে ঘটনাপ্রবাহে জনসম্মুখে আসা- সকল ক্ষেত্রেই অদৃশ্যভাবে ভূমিকা পালন করে। যেমন ধরা যাক হিন্দুধর্মের একটি বিলুপ্ত কুসংস্কার হল সতীদাহ প্রথা।

১।ইলুমিনাতি প্রিতিঠানের কার্যক্রম

এই একবিংশ শতাব্দীতেও এমন কোন ঘটনা হয়ত ঘটবে তাও আবার ওই ধর্মের কোন এক পুরোহিতের দ্বারা।

Amazon.com: The Dark Path: Conspiracy Theories of Illuminati and Occult  Symbolism in Pop Culture, the New Age Alien Agenda & Satanic Transhumanism  (Audible Audio Edition): Isaac Weishaupt, Isaac Weishaupt, Isaac Weishaupt:  Audible

এই সম্পূর্ণ ঘটনা এবং এর বিরুদ্ধে জনমত উথ্বাপনে এদের প্ররোচনাকে অনেকেই কলকাঠি হিসেবে ধারণা করেন। কিছু বিশেষজ্ঞ এরকম সংগঠনকে এবং এদের কার্যক্রমকে কাল্পনিক মনে করেন।নতুন করে বর্তমান সময়ে এটি আবার আলোচিত হতে শুরু করেছে ড্যান ব্রাউন এর “অ্যাঞ্জেলস অ্যান্ড ডিমনস” উপন্যাসের মাধ্যমে। মানুষ মনে করে থাকে ইলুমিনাতি সদস্যরা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করে। তবে তার কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই।ঘটনার শুরু বলা চলে জার্মানির দক্ষিণপূর্বের রাজ্য ব্যাভারিয়াতে। ব্যাভারিয়া আবার জার্মানির বৃহত্তম রাজ্য। সেখানের ইঙ্গলস্ট্যাড ইউনিভার্সিটির খ্রিস্টীয় আইন ও ব্যবহারিক দর্শনবিদ্যার প্রফেসর ছিলেন অ্যাডাম ওয়েইশপ্ট।ইউনিভার্সিটি তখন সম্পূর্ণই জেসুইট প্রভাবে, অর্থাৎ পুরোই খ্রিস্টীয় আইনকানুন মেনে চলে। যে কেউ যার কিনা খ্রিস্টধর্মের প্রতি আনুগত্য কিছুটা কম তাকেই পোহাতে হত নানা সমস্যা।

A Comprehensive Guide to the Illuminati, the Conspiracy Theory That  Connects Jay-Z and Queen Elizabeth

অ্যাডাম তখন চিন্তা করলেন এমন এক গুপ্ত সংঘের যার মাধ্যমে তিনি“আলোকায়ন” করতে পারবেন। আর এ গুপ্ত সংঘের সদস্য হবেন একদম চূড়ান্ত পর্যায়ের যারা বুদ্ধিজীবী তাঁরাই।তখন কিন্তু আরেক গুপ্ত সংঘ ইতোমধ্যে ছিল যার নাম ফ্রিমেসনরি। প্রথমে তিনি তার সংঘের নাম রাখলেন “Bund der Perfektibilisten”।১৭৭৬ সালের ১ মে তিনি তার চার সন্তানকে নিয়ে সংঘস কাজ শুরু করলো।আর সংঘের প্রতীক হলো গ্রিক জ্ঞানদেবী মিনারভার পেঁচা।১৭৭৮ সালের এপ্রিল মাসে সংঘের নাম হলো ইলুমিনাতি। যার অর্থ “যারা কোনো বিষয়ে বিশেষ ভাবে আলোকিত বা জ্ঞানার্জনের দাবী করে”। সে সময় সংঘের সদস্য ছিল ১২। সচ্চরিত্র খ্রিস্টান ছিল তাদের কাম্য এবং সকল প্রকার ইহুদী আর মূর্তিপূজক ছিল নিষিদ্ধ এই সংঘে। এমনকি নারী, ধর্মগুরু এবং অন্য সিক্রেট সোসাইটির সদস্যরাও নিষিদ্ধ ছিল। স্বাগত জানানো হত ধনী, শিক্ষানবিশ আর ১৮-৩০ বছরের তরুণদের।ধীরে ধীরে ইউরোপ জুড়েও ছড়িয়ে পড়তে লাগল ইলুমিনাতির শাখা। ১৭৮২ সালের দিকে ইলুমিনাতি-তে তিনটি শ্রেণীর সূচনা করা হয়।১৭৮৪ সালের শেষে, মোট সদস্য হয়ে যায় ৬৫০ যদিও অ্যাডাম দাবি করেন সংখ্যাটা আড়াই হাজার। ব্যান আসলো ১৭৮৫ সালের ২ মার্চ। অ্যাডাম পালিয়ে গেলেন আর ইলুমিনাতির প্রচুর নথিপত্র সরকারের হাতে এসে গেল এবং দু’বছর বাদে সরকার সেটা প্রকাশও করে দিল। এরপর যে ইলুমিনাতির কী হলো ইতিহাস আমাদের তা নিশ্চিত করে বলে না।

Leave a Comment