ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোন

1.প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোন জীবনী

ফ্রান্সের উত্তরভাগের আমির্য়া শহরে ১৯৭৭ সালের ২১ শে ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া মাক্রোঁ পারিন নর্তের বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি সিওঁস প্রো নামক মর্যাদাবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর উপাধি অর্জন করেন। পরিশেষে তিনি ফ্রান্সের খ্যাতিমান একল নাসিওনা দাদামিনিস্ত্রাসিওঁ নামক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জনপ্রশাসন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে ২০০৪ সালে উত্তীর্ণ হন। তিনি ফ্রান্সের আস্পোকসিওঁ জেনেরাল দে ফিনঁস (অর্থসংস্থান পরিদর্শকদের সাধারণ কার্যালয়) প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মচারী হিসেবে এবং পরবর্তীতে রথসচাইল্ড অ্যান্ড কো নামক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ব্যাংকার হিসেবে কাজ করেন। ২০১২ সালের ফরাসি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী ফ্রঁসোয়া ওলেঁদ ২০১২ সালের মে মাসে মাক্রোঁকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের উপ-মহাসচিব পদে নিয়োগ দেন, ফলে তিনি ফরাসি রাষ্ট্রপতির অন্যতম জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টায় পরিণত হন।

পরবর্তীতে ২০১৪ সালের আগস্টে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী মানুয়েস ভালস তাঁকে ফরাসি মন্ত্রীসভাতে অর্থনীতি, শিল্প ও ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দান করেন। এই ভূমিকায় মাক্রোঁ ব্যবসাবান্ধব বেশ কিছু সংস্কার সাধন করেন। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে তিনি মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন এবং ২০১৭ সালের ফরাসি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা শুরু করেন।

যদিও তিনি ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের সমাজতান্ত্রিক দল পার্তি সোসিয়ালিস্তের সদস্য ছিলেন, তিনি তার আদি দল থেকে নয়, বরং ২০১৬-এর এপ্রিল মাসে নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘ অ র্মাশ’ নামক একটি মধ্যপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনের ছত্রছায়ায় নির্বাচনে অংশ নেন।জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকলেও নির্বাচনের প্রথম পর্বে মাক্রোঁ সবচেয়ে বেশি ভোট পান এবং এরপর দ্বিতীয় পর্বে ফ্রোঁ নাঁসিওনাল দলের প্রার্থী মারিন ল্যপেনের বিরুদ্ধে ৬৬% ভোট পেয়ে ২০১৭ সালের ৭ই মে ফ্রান্সের ৫ম প্রজাতন্ত্র পর্বের ৮ম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। মাত্র ৩৯ বছর বয়সী মাক্রোঁ ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ রাষ্ট্রপতি। তিনি বিজয়ী হয়েই এদুয়ার ফিলিপকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দান করেন।

এর এক মাস পরে মাক্রোঁর নেতৃত্বাধীন ” লা রেপ্যুব্লিক অ মার্শ “নামক সদ্যগঠিত রাজনৈতিক দলটি ২০১৭ সালে দলের ফ্রান্সের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।মাক্রোঁ ধর্মনিরপেক্ষতা সংক্রান্ত ফ্রান্সের নিজস্ব মূলনীতি “লাইসিতে” জোরালো সমর্থক।২০২০ সালের ২রা অক্টোবর মাক্রোঁ “ইসলামী উগ্রবাদের” বিরুদ্ধে ফরাসি প্রজাতন্ত্রের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধসমূহকে রক্ষার উদ্দেশ্যে একটি পরিকল্পনা উন্মোচন করেন এবং এই মত দেন যে সারা বিশ্বে ইসলাম ধর্ম একটি “সংকটকালীন অবস্থা” অতিক্রম করছে। তিনি ঘোষণা দেন যে তাঁর সরকার ২০২০-এর ডিসেম্বর মাসে একটি আইন উত্থাপন করবে যা ১৯০৫ সালের একটি আইনকে আরও শক্তিশালী করবে যে আইনে রাষ্ট্র ও ধর্মকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পৃথক ঘোষণা করা হয়। মাঝ-অক্টোবরে একজন ইসলামী উগ্রবাদী অভিবাসী ফরাসি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সামুয়েল পাতি-কে শিরশ্ছেদ করে নৃশংসভাবে হত্যা করলে মাক্রোঁ শার্লি এদ্বো নামক সাময়িকীতে প্রকাশিত ইসলামের নবী মুহাম্মদের ব্যঙ্গচিত্রগুলির প্রকাশের অধিকারের পক্ষে সমর্থন জ্ঞাপন করেন। তাঁর এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বের মুসলমান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন স্তর থেকে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়। একাধিক মুসলমান-অধ্যুষিত রাষ্ট্রের নেতা মাক্রোঁর প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করেন এবং বহু মুসলমান সামাজিক গণমাধ্যমগুলিতে তাদের দেশে ফরাসি পণ্য বয়কট বা বর্জন করার আহ্বান জানায়। তবে ইউরোপীয় রাজনৈতিক নেতারা মাক্রোঁর প্রতি সমর্থন জানান।