ঘুমের বিশ তথ্য, এক পরীক্ষা

Sleep

এই লেখাটি পড়ে শেষ করার আগেই কি আপনার তন্দ্রা এসে হানা দেবে ? যদি তাই হয় তবে বলতে হয়, আপনি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমোচ্ছেন। কিংবা আপনার ভালো ঘুম হচ্ছে না, যদিও আপনি মনে করছেন আপনি ঠিক মতোই ঘুমোচ্ছেন। ওটোয়া হসপিটাল স্লিপ সেন্টারে ঘুম বিষয়ক প্রযুক্তিবিদ ক্যাথি লাটলি ব্যাবল্যান্ড বলেন, পূর্ণবয়স্ক লোকের অর্ধেক লোক হয় প্রয়োজনীয় সময় ঘুমায় না, নয়তো চোখ বন্ধ থাকলেও তাদের ভালো ঘুম হয় না। তার কথা হচ্ছে মানুষ দীর্ঘমেয়াদে ঘুমবঞ্চিত থাকে। আপনি দিনে ৬ থেকে ৭ ঘন্টা ঘুমোবার পরও যদি পরিশ্রান্তি অনুভব করেন, তবে ধরে নিতে আপনার ঘুমে কোন সমস্যা আছে। সমস্যাটা কত তীব্র তা জেনে নিন নিচে বর্ণিত পরীক্ষাটি নিজে নিজে সম্পন্ন করে। এই পরীক্ষাটির নাম Epworth Sleepiness Scale| এর মাধ্যমে আপনি জেনে নিতে পারবেন আপনার ঘুমের গুণগত মান।

এ পরীক্ষার জন্য আপনাকে নিচে উল্লিখিত আটটি পরিস্থিতিতে আপনার ঘুম বা তন্দ্রা আসার সম্ভাবনার মাত্রা হিসাব করতে হবে। পরিস্থিতি আটটি হলো :

  • ১. বসে থাকা বা পড়ার সময়;
  • ২. টেলিভিশন দেখার সময়;
  • ৩. জনসমাগম স্থলে অলস বসে থাকার সময়;
  • ৪. যাত্রী হিসাবে ১ ঘন্টা গাড়িতে বসে থাকার সময়;
  • ৫. বসে কারো সাথে কথা বলার সময়;
  • ৬. বিকালবেলা শুয়ে বিশ্রাম নেবার সময়;
  • ৭. কোন নেশা পান না করে দুপুরের খাবারের পর বসে থাকার সময়;
  • ৮. গাড়ী চালানোর সময় যানজটে কয়েক মিনিট আটকে থাকার সময়।

প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনার ঘুম আসার সম্ভাবনা যাচাই করুন এবং সে অনুযায়ী স্কোর পয়েন্ট গুনে নিন। যদি ঘুম আসার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে স্কোর পয়েন্ট শূন্য। সামান্য সম্ভাবনা থাকলে স্কোর পয়েন্ট ১। মোটামুটি সম্ভবনার জন্য স্কোর পয়েন্ট ২। মোট স্কোর পয়েন্ট ০-৬ হলে আপনি পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমোচ্ছেন। ৭-৮ হলে আপনি গড়পরতা ঘুমোচ্ছেন। স্কোর পয়েন্ট ৯ কিংবা তারচেয়ে বেশী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ঘুম নিয়ে বিশ তথ্য :

  • ১. দীর্ঘমেয়াদী নাক ডাকা রোগের চিকিৎসা হচ্ছে । এটি একটি সার্জিক্যাল প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে নরম তালু ও গলার কোষগুলো আঁটসাঁট করে দেওয়া হয়।
  • ২. আরেকটি বিকল্প উপায় হচ্ছে তালুতে রাসায়নিক ইনজেকশন করে নরম কোষকে শক্ত করে দেওয়া। এর নাম ।
  • ৩. ২০০২ সালের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল অভিমত প্রকাশ করেন, ভেড়া গণনা অনুশিলন করলে অনিদ্রা কেটে যাওয়ার ধারণাটি পুরোপুরি ভুল, বরং এ মানসিক কর্মটি এতই অবসাদের যে, এর ফলে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
  • ৪. একটি তোষক বা জাজিমের গড় বয়স ১০ বছর। এসময়ে এগুলোর মাঝে নোংরা উপাদান জন্ম নেয়। তোষকের ব্যাকটেরিয়া সংক্রান্ত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই ব্যাকটেরিয়া শিশুদের আকস্মিক মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
  • ৫. বিছানায় পূর্ণবয়স্ক একটি ছাড়পোকা না খেয়ে এক বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
  • ৬. ২০০৪ সালে আমেরিকায় সাড়ে তিন কোটির বেশী রোগীর প্রেসক্রিপশনে ঘুমের বড়ির পরামর্শ ছিল। এরপর ২০-২৪ বয়সী ঘুমের বড়ি খাওয়া রোগীর সংখ্যা এই চার বছরে দ্বিগুনে পৌঁছেছে।
  • ৭. তন্দ্রাচ্ছন্ন কারনে আমেরিকায় বছরে এক লাখ গাড়ি দূর্ঘটনা ঘটে। গাড়িচালক সেলফোনে কথা বলার ফলে এ হার ৬ শতাংশ বেড়েছে।
  • ৮. শরীরে রয়েছে ঘুম থেকে জাগার একটি এলার্ম ক্লক। এর ফলে মানুষ ইচ্ছামতো সময়ে স্বাভাবিকভাবে ঘুম থেকে জাগতে পারে। স্ট্রেচ হরমোন adrenocorticotropin-Gi পেছনে কাজ করে। সম্ভাব্য জাগার সময়ের ১-২ ঘন্টা আগে এই হরমোনের মাত্রা বাড়তে শুরু করে।
  • ৯. এক লাখ পূর্ণ বয়স্ক লোকের উপর ছয় বছর ধরে এক সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে যারা রাতে ৬-৭ ঘন্টা ঘুমায় তাদের মৃত্যুহার কম ৮ ঘন্টা করে যারা দৈনিক ঘুমায় তাদের চেয়ে।
  • ১০. ১৯৬৪ সালে ১৭ বছর বয়সী ব্যান্ডি গার্ডনার জেগে ছিল ২৬৪ ঘন্টা ১২ মিনিট। এটা কর্মকৃত থাকার সবচেয়ে বড় বিশ্ব রেকর্ড।
  • ১১. ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে মিল রেখে স্পেন একটি প্রচারণা অভিযান চালু করেছে। আর তা হলো প্রচলিত মধ্যাহ্নকালীণ নিদ্রা এবং বৈকালিক সল্প সময়ের ঘুম পরিহারের।
  • ১২. স্পেনীয়রা বৈকালিক সল্প সময়ের ঘুমের কারনে ইউরোপীয়দের তুলনায় রাতে গড়ে ৪০ মিনিট কম ঘুমায়। কর্মস্থলে দূর্ঘটনা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্পেনেই সবচেয়ে বেশী।
  • ১৩. কথায় আছে, যারা জেগে ঘুমায় তাদের কখনও জাগানো যায় না।
  • ১৪. তিমি ও ডলফিন অর্ধেক জেগে ও অর্ধেক ঘুমিয়ে কাটায়। এদের মস্তিষ্কের অর্ধাংশ পর্যায়ক্রমে ঘুমে থাকে।
  • ১৫.স্বপ্ন দেখা প্রবল বৈদ্যুতিক কর্মকান্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট , যা মস্তিষ্ক মূলে ঘুমের সময় প্রতি ৯০ মিনিটে একবার করে আঘাত করে।
  • ১৬. সারাজীবনে একজন মানুষ গড়ে ছয় বছর স্বপ্ন দেখে কাটায়। তার স্বপ্নের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৬ হাজার। কিন্তু আমরা এখনও জানিনা মানুষ কেন স্বপ্ন দেখে।
  • ১৭. আমেরিকায় ৫০ লাখ শিশু রাতে বিছানায় প্রস্রাব করার রোগে ভোগে।
  • ১৮. ঘুমাতেও অনেকে ভয় পায়। এ ভীতি রোগের নাম Somniphobia|
  • ১৯. এ পর্যন্ত কোন সেলিব্রেটি পাওয়া যায় নি যিনি ঘুমভীতি রোগে ভুগছেন।
  • ২০. ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল কালাম বলেছেন, ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন আসলে স্বপ্ন নয়, আসল স্বপ্ন হচ্ছে জেগে স্বপ্ন দেখা। যে স্বপ্ন আপনাকে ঘুমাতে দেবে না।

3 thoughts on “ঘুমের বিশ তথ্য, এক পরীক্ষা”

  1. সম্পুর্ণ পোস্ট পড়ার আগেই কি ঘুমিয়ে পরেছিলেন নাকি? আপনার ইনানি বীচের ছবিটি দারুন হয়েছে। কবে যে যাব ইনানি বীচ…
    পরে কথা হবে ..একটু ঘুমিয়ে নেই….

  2. টিউটরিয়ালবিডিতে আপনাকে স্বাগতম,রুবাইয়্যাত আহসান।
    পরীক্ষাটা আমি করে দেখবো। ঘুমের ব্যাপারে আমরা অনেকেই উদাসহীন(যদিও খাওয়া দাওয়ার বেপারে সচেতন)। স্বপ্নের বেপারটা আসলেই জটিল।

Comments are closed.