ফটোগ্রাফীর ইতিহাস (১৮২৫-১৯০৭)

১৮৩০ সাল থেকে তিলে তিলে গড়ে ওঠা ফটোগাফীর ইতিহাস বিগত দশ বছরে ব্যাপক ভিত্তিক রূপ লাভ করে। এখন ফটোগ্রাফী বলতে কোটি লোকের চাহিদা আর প্রিয় সখ হিসেবে আক্ষায়ীত। শত শত কোটি টাকার লেনদেন হয় ফটোগ্রাফী পন্য বিক্রয়ের মাধ্যমে। সামাজিক নিরাপত্তা থেকে দৈনন্দিন আচার অনুষ্ঠান সহ সব জায়গায়ই ছবি প্রয়োজন। হয়তো বা ফটোগ্রাফারদের অনেকেই জানে না তার ক্যামেরার সাটার স্পিডের কথা, জানে না ফটোগাফীর ইতিহাস আর জানে না Henri Cartier-Bresson বা even Annie Leibovitz এর মতো নিবেদিত প্রানের কথা যাদের মাধ্যমে আজ এ ফটো রাজ্য।

আজ আমরা সেই ফটোগ্রাফীর ইতিকথার দিকেই যাচ্ছি।

আরও পড়ুন: ২০ টি ধুয়া ফটোগ্রাফি এবং কিছু টিউটরিয়াল কালেকশন

ক্যামেরা অবস্কুরা

ফটোগ্রাফী ব্যাপারটি জানার আগেই মানুষ দেয়ালে বা কাগজের টুকরাতে ছবি আকতে জানতো। ফটোগ্রাফীর কয়েক শতাব্দি আগেই ছবিকে কাগচের মাধ্যমে প্রকাশ করার ব্যবস্থাপনা করা হয় যাকে ক্যামেরা অবস্কুরা (ল্যাটিন শব্দ Camera Obscura ) বলা হয়।ধারণা করা হয় এটি ১৩ থেকে ১৪ শতাব্দির ঘটনা হবে। তবে দশম শতাব্দিতে হাসান ইবনে হাসান ক্যামেরা অবস্কুরা কার্যপ্রনালী ব্যাখ্যা করেন যেটিই মূলত: বর্তমান এনালগ ক্যামেরার ভিত্তি।

ক্যামেরা অবস্কুরা মূলত: একটি চারদিকে ঘেরা অন্ধকার বক্স এর এক দিকে একটি ছোট বৃত্তাকার আলো প্রবেশের জন্য সাটার দিয়ে ঘেরা যা বন্ধ করা বা খোলা যায়। আলোর সূত্রানুযায়ী আলো প্রবেশের পর তা বক্সটির অপর পাসের দেয়ালে উল্টো প্রতিবিম্ব তৈরী করতো। বর্তমান এনালগ ক্যামেরা আর ক্যামেরা অবস্কুরার মধ্যে মূল পার্থক্য হলো-সেখানে দেয়ালে প্রতিবিম্ব তৈরী করে আর এনালগ ক্যামেরায় ফিল্ম প্রতিবিম্ব তৈরী করে।

ফটোগ্রাফী অনেকটা চিত্রকলার মৃত্যুর কারন। ১৬ শতাব্দিতে Leonardo, Michelangelo ইত্যাদির মতো অনেক শিল্পির হাত ধরে চিত্রকলা উত্তোরোত্তর বৃদ্ধ পেতে থাকে। ইটালীর পন্ডিত Giovanni Battista della Portacentury ক্যামেরা অবস্কুরার মাধ্যমে খুব সহজে ছবি আকার পদ্ধতি বর্ণনা করেন। এ ক্ষেত্রে ক্যামেরাটি একটি বড় ঘরের মতো ছিল। (ছবিতে দেখুন)

ক্যামেরার আবিস্কার:

ফ্রান্সের আবিস্কারক Joseph Niepce ১৮২৫ সালে প্রথম ছবি তোলেন। ছবিটি তোলতে আট ঘন্টা সময় লাগে। এ সময়ে সূর্য পূর্ব থেকে পশ্চিমে যায় তাই ছবিতে একটা অংশ আলোকিত হয়ে ওঠে। আসলে এটা কোন এক্সবিশনের জন্য তোলা হয় নি,ফটোগ্রাফীটা নয় বরং টেকনিক্যাল বেপারটিই বেশি প্রাধান্য পায়।

তখন ছবি তোলাটা সবার জন্য সহজ হলেও তা প্রিন্ট করাটা ছিল অত্যন্ত জটিল ও ব্যায়বহুল একটি কাজ।

১৮৩৯ সালে স্যার জন হারসেল প্রথম গ্লাস নেগেটিভ তৈরী করতে সক্ষম হোন। সে বছরই ফটোগ্রাফী (গ্রিক শব্দ fos যার অর্থ আলো grofo যার অর্থ লেখা) শব্দটি ব্যবহৃত হয়। ফটোগ্রাফী সেই সময় থেকে আরাম্ভ হলেও তা মানুষের মধ্যে বিস্তার ও জনপ্রিয়তা লাভ করতে অনেক সময় লেগে যায়।

তখন ফটোগ্রাফী বলতে কোন ব্যক্তি বা পরিবারের ছবিই বুঝাতো।

১৮৮৮ সালে “You press the button, we do the rest” এই শ্লোগানটি নিয়ে.কোডাক ক্যামেরা প্রথম বাজারে আসে।

১৯০১ সালে মধ্যবিত্তদের জন্য কোডাকের আরেকটি ক্যামেরা বাজারে আসে। এটি দিয়ে শুধু মাত্র সাদাকালো ছবি তোলা যেতো। তবে এখন পর্যন্ত এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি টেকনোলজী।

১৮৬৪ সালে ফ্রান্সের Louis Ducos de Hauron এবং Charlec Cros Practical রঙিন ছবি তোলার পদ্ধতির উপর প্যাটেন্ট তৈরী করেছিলেন।

সবশেষে ১৯০৭ সালে রঙিন ছবি তোলার ক্যামেরা বাজারে আসে। এটি দিয়ে লাল,সবুজ ও নিল রঙের আলোর প্রতিবিম্ব থেকে নেগেটিভ করা যেত, পরবর্তিতে তা থেকে পজেটিভ বের করা হতো।

১৮৬১ সালে বিখ্যাত বিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েল (যিনি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডের উপর কাজ করেছেন) প্রথম রঙিন ছবি তোলেন।

তথ্য সূত্র

আরও পড়ুন: ভ্রমনের ছবি তোলার উপর ছোট ছোট ৭টি টিপস

4 thoughts on “ফটোগ্রাফীর ইতিহাস (১৮২৫-১৯০৭)”

  1. Pingback: ফটোগ্রাফীর ইতিহাস (১৯৩৫-১৯৮০) « সহেলের ব্লগ

  2. ধন্যবাদ মোস্তাফিজুর রহমান ও লাকি এফএম ভাই। ফটোগ্রাফী এখন একটি পেশা ও নেশায় পরিনত হয়েছে। সাথে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন সুকৌশল আর ছবি ইডিটঙের..জটিল জটিল কাজ।

  3. মোস্তাফিজুর রহমান

    বস্, অনেক কিছু জানলাম, জেনে ভাল লাগল, ফটোগ্রাফির আরও ইতিহাস ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে জানালে খুশি হব। ধন্যবাদ (^_^)

Comments are closed.