তথ্য প্রযুক্তির চাকরীতে বিরম্বনা সইতে হতে পারে

নতুন কোন জিনিস পৃথিবীতে আসলেই পুরাতনের মধ্যে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে-

১. নতুন জিনিসটিতে অনেক সুবিধাজনক জিনিস আছে আমাদেরকে এ সুবিধাগুলো ভো করতে হবে। মানুষ মাত্রই উৎসুক। শিশুরা নতুন ধরনের কোন খেলনা পেলেই আগ্রহ দেখায়,নতুন কোন জায়গায় এলে হা করে তাকিয়ে পরিবেশটা দেখে নেয়। যুবক শ্রেনীর ছেলে মেয়েদের হাতে নতুন নতুন প্রযুক্তি পন্য হয়তো এত দ্রুত বিস্তার লাভের পেছনে মানুষের এ সহজাত প্রবৃতিটি কাজ করে। নতুনের সাথে নিজেকে কিছুটা মানিয়ে নিতে নিজের মধ্যে কিছু পরিবর্তন আনতে হয়, কিছু শিখতে হয়-অনেকেই নিজেকে বদলে নেন-অনেকের গা ভাসানোর স্বভাব (অনেকটা আমার মতো) নিজেকে বলাতে অনেক সময় লেগে যায় তাদের।

২. আরেকটি বেপার আমি প্রায় সবার মাঝেই দেখেছি নিজের মতো করে পেতে চায় সবাই। নিজের প্রভাবটাকে অন্যের মধ্যে আনন্দ‌ই আলাদা। নতুন জিনিসটির অনেক কিছুতেই তারা নিজের প্রভাব না খাটানোর কারনে, নিজের মতো করে না পাওয়ার কারনে নতুনের বিরোধীতা সহ সমালোচনার ঝড় তোলেন। অবশ্য এটা একেবারে খারাপ-তা আমি বলবো না ,কারন নতুন অনেক বিষয়ই আছে বা আসছে যা আমাএর জীবনে মারাক্তক ক্ষতি বয়ে আনতে পারে অথচ আমরা তা বুঝতে পারি না।

এবার দেখা যাক, এ দুইটি বেপার সংঘর্ষ লাগার ও আইটির চাকরীজিবী হিসেবে কি কি ঝামেলা পোহাতে হতে পারে। বাস্তব জীবনে আমি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অল্প অল্প সময়ের জন্য আইটির চাকরী করতে গিয়ে বেশ কয়েক জায়ায় ধাক্কা খেয়েছি।

শেখানো

নব্য পাস করা ছেলে আমি। অফিসের সবাই আমার চেয়ে সিনিয়র,বেতনও পায় বেশি। যেহেতু আমি কম্পিউটারকে কিছু কিছু চিনেছি তাই যে কোন ছোট খাট সমস্যার সমাআনের জন্য আমাকে ডাকলে আমি তার সমাধান দেয়ার চেস্ট করতাম। মাঝে মাঝে নতুন নতুন বিষয় তাদেরকে শিখানো হতো -নিজের আগ্রহে । যেহেতু আমি তাদের চেয়ে নিচের পোস্টে চাকরী করি এবং কম বেতন পাই তাই তাদের কেউ কেউ আমাকে আদেশের সুরে সাহায্য করতে বলতো-এ বেপারটা আমার ব্যক্তিত্বের বিরোধী মনে হতো । তবে কেউ কেউ, আমাকে অনুরোধও করতো-সহায়তার জন্য। আমার আরও এক বন্ধুরও এমনই ব্যক্তিত্বের সমস্যা হয়েছে-তথ্য প্রযুক্তির কাজে এসে। অনেক ইন আগে মোতাহার হোসেনের একটি লেখায় পড়েছিলাম যার অর্থ অনেকটা এমন ছিল “চাকরী করে যদি তোমার নিজস্বতা নষ্ট হয় তাহলে চাকরী করার দরকার নেই। ” দের বছরের চাকরীতে তৃতীয়বার বেতন বাড়ার মাসেই চাকরীটা ছেড়ে দিলাম। স্কুলের স্যার বলতো “এক বেঞ্চে সব সময় বসলে পড়ালেখাও এক রকম থাকে। পরিবর্তন আনো।” আমার এক স্যার (অফিসের বস) বলতো “চাকরী ছাড়ার সাহস অর্জন করলেই ভাল চাকরী হতে পারে।”

উন্নয়ন

প্রথমেই বলেছি- কেউ পরিবর্তনের গাইবে কেউ নিজের অস্তুত্ব টিকিয়ে রাখতে পরিবর্তনের জোয়ারকে বাধা দেয়ার চেস্টা করবে। প্রযুক্তির চাকরী করতে ইয়ে এমন সমস্যায় অনেকেই পড়েছেন। কয়েকিন আগে একজন বলেছেন তার চাকরী জীবনের কষ্টের কথা।

“ ”

ধরুন আপনার প্রতিষ্ঠানে কোন একাউন্ট সফটওয়্যার বা ইনভেন্টরী সফটওয়্যার বা নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট নেই, আপনি তার ব্যবস্থা করতে চাইছেন। নতুন কোন ডেভলপমেন্ট করতে অনেকেই আপনাকে স্বাগতম জানাবে। কেউ কেউ আপনাকে বাধা দিতে পারে। বাধা দেয়ার পদ্ধতি এমন হতে পারে-

১. এ গুলো করতে অনেক টাকা প্রয়োজন। অফিস কখনো এত টাকা বাজেট দিবে না। তাছাড়া আপনি যা করতে চাইছেন তা ছাড়াই তো ভালই চলছে। শুধু শুউ টাকা অপচয় হবে।

২. এটি ডেভলপ করলে এর জন্য লোক নিয়োগ করতে হবে। এ বিষয় গুলো যেহেতু অনেকেই জানে না তাই করা সম্ভব নয়।

৩. এখনো এ সব ডেভলপমেন্টের সময় আমাদের আসে নাই। অনেক প্রতিষ্ঠানেই আছে তবে তা আমাদের মতো নয়, তাদের    ***     আছে যা আমাদের নেই। ইত্যাদি।

পরিচালনা

অনেক কিছু আপনি করে ফেললেও একটি জিনিস আপনার করতে অনেক কষ্ট হবে যা আমার হয়েছিল তা হলো পরিচালনা করা। আধুনিক অফিসে আইটি এডমিনের হাতে থাকে অনেক ক্ষমতা। যেটা বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানেই নেই। একটি উইনডোজ ২০০৩ সারভারের মধ্যের একটা নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই আপনি বিড়াট ক্ষমতার মালিক হয়ে যেতে পারেন। প্রত্যেক ক্লাইন্ট কম্পিউটার আপনার সারভার থেকে ইউজার পাসওয়ার্ড চেক করে লগইন করা সহ সব কম্পিউটারের পারমিশন সেট করে দিতে পারেন। যা আপনার ক্ষমতা থাকবে সর্বোচ্চ । আর এটাতে অনেকের আপত্তি থাকতে পারে। আমি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৫টি কম্পিউটারকে ডোমেইনের আওতাধীন আনতে গিয়ে অনেক অফিসার ও ম্যানেজারের অসম্মতি পেয়েছিলাম, এজন্য যে তারা স্বাধীনভাবে নিজের কম্পিউটার ব্যবহার করতে চায়। আইটির লোকের কাছে তারা তাদের নিয়ন্ত্রন দিতে চায় না।

বিভিন্ন কারনে অকারনে প্রোফেশনাল জীবনে একজন তথ্যপ্রযুক্তির চাকরীর সাথে জরিত ব্যক্তিকে বিরম্বনা সইতে হয়। তবে একটা জিনিস সবচেয়ে তৃপ্তির তা হলো সবাই প্রযুক্তি ভালবাসে। মার্কেটিং,একাউন্টস,এডমিন,এইচ আর ইত্যাদি সব বিভাগই বর্তমানে (কোথাও ভবিষ্যতে) তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের অংশ।

1 thought on “তথ্য প্রযুক্তির চাকরীতে বিরম্বনা সইতে হতে পারে”

  1. ছোট ছোট অভিজ্ঞতা গুলি জীবনের চলতি পথে অনেক সময় অনেক বেশি প্রয়োজনীয় মনে হয়। যে কারো জীবনেই প্রাপ্তি বা না পাওয়ার তিক্ততা সবই আমাদের অভিজ্ঞতার ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে। আপনার জীবনের অভিজ্ঞতাগুলি আমাদের জন্য পথনির্দেশনা স্বরূপ।

    ধন্যবাদ
    শুভ কামনা রইল

Comments are closed.