সৃষ্টিশীলতা বনাম মার্কেটিং: দুই প্রান্তের কাজ

বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কাজের আভিজ্ঞতা থেকে বলছি। মার্কেটিং টিম থাকে অনেক পরিশ্রমী, কঠিন কাজটিকে আদায় করে নেওয়ার বেপারে দৃঢ় প্রত্যয়ী, স্মার্ট ও মিশুক প্রকৃতির লোক। আর সৃষ্টিশীল টেকনিক্যাল লোকগুলোও অনেক পরিশ্রমী তবে কাজের অবস্থানটা এমন হয় যে তাদের পরিশ্রমের একটি পদ্ধতি আছে। একটা সময় এত বেশি ব্যাস্ত আরেকটা সময় থাকে কর্মহীন। নিজের স্মার্টনেস বা চলাফেরার বেপারে তাদের অতটা আহামরি নজর থাকে না। একজন ক্রিয়েটিভ লোক তার নিজের সৃষ্টির মধ্যে ক্রিয়েটিভিটি প্রকাশ করে, বাহ্যিক দৃষ্টিনন্দন তার কাছে গুরুত্ববহ না।

সৃষ্টিশীলতা

সৃষ্টিশীল ব্যক্তি অনেক সময় আসামাজিক। তাদের নিজের মধ্যে লুকিয়ে থাকার প্রবণতা বেশি। নিজেকে নিয়ে ভাবনাটা অনেকের ক্ষেত্রে এত কম যে কিছু কিছু পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে না। সৃষ্টি সুখের উল্লাসে তারা নিজের ভেতরে অনন্দ অনুভব করে। কাজেরtechnical_img ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্নতা, একাগ্রতার মূল্য তাদের কাছে অনেক বেশি।

একজন সৃষ্টিশীল মানুষ কি কি বিষয় ঘৃনা করে – জানেন কি? অপ্রয়োজনীয় জ্ঞানহীন আড্ডা তার কাছে একেবারেই অহেতুক মনে হয়। অনেকের সাথে পরিচয়ের চেয়ে কয়েকজন একই ধরনের (যে ধরনের সে) লোকের সাথে কথা বলতে নিজের বিষয় ও সৃষ্টি সম্পর্কিত আলোচনা করতে তার কাছে ভাল লাগে।

টেকনিক্যাল লোকজন এইভাবে নিজেকে বড় মনে করে যে, সৃষ্টির পেছনে তার হাত রয়েছে। তার রয়েছে গভীরতর জ্ঞান।

মার্কেটিং

online-marketing-graphযারা মার্কেটিং এর সাথে জড়িত তারা অযথা আলাপের অগোচরে তাদের পন্য বা সেবা বিতরনের সুবিধা আদায়ে ব্যস্ত থাকে। অনেক লোকের সাথে মিশে তারা খুব সহজেই লোকজন সম্পর্কে একটা সাধারন ধারণা করতে পারে। আর অধিকাংশ মার্কেটিং এজেন্ট এর মধ্যে দেখেছি নিজের জিনিসটা আদায় করার বেপারে দৃঢ় প্রত্যয়ী। মার্কেটিং এর লোককে নিজের স্মাটনেস নিয়ে চিন্তা করতে হয়। সামাজিকতা, ভদ্রতা ও কোন ব্যক্তিকে এটা নির্দিস্ট গন্তব্যে নিয়ে গিয়ে তার পণ্য বা সেবা গ্রহনে উদ্ভুদ্দ করে।

মার্কেটিং এর লোকেরা নিজেকে অনেক বেশি সামাজিক, ক্ষমতাবান ও আয়ের উৎস বলে মনে করে।

মার্কেটিং এর লোককে আবার কিছু শ্রেনীর লোক ভয় পায়, কোন ফাঁকে কথার আড়ালে নিজের পণ্যের প্রচার শুরু করে দেয়!

এই দু’টি যখন একসাথে

টেকনিক্যাল ও মার্কেটিং কে তেল ও পানি সাথে তুলনা করা যেতে পারে, যারা একে অপরের সাথে মিশে না। আর এরই কারনে নিজের একটি ওয়েবের কাজ ও তার প্রচারের বেপারটাতে হিমশিম খেতে হয়। যে দিন কাজ বেশি হয় সেদিন প্রচার কম হয়। প্রচারে নামলে হয় না সৃষ্টি। যারা নিজের ওয়েবের প্রোমোশনের বেপারে চিন্তা করে তারাও বিপাকে পরে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় দেখতে পারেন।
১. বড় বড় বিজ্ঞানীরা সৃষ্টি করেছেন। প্রচার করেন নি এমনিতেই প্রচার হয়ে গেছে। প্রয়োজনই মানুষের মাঝে এনে দিয়েছে সেই বিজ্ঞানীকে।
২. একই মানের পণ্য – যেটি বেশি প্রচার হয় সেটি বেশি বিক্রি হয়।

তাই ওয়েবে কনটেন্ট এবং প্রচারের একটা মাপকাঠি থাকতে হবে। সামঞ্জস্যতাহীন প্রচার ওয়েবের প্রসারে কাজে নাও লাগতে পারে।

2 thoughts on “সৃষ্টিশীলতা বনাম মার্কেটিং: দুই প্রান্তের কাজ”

  1. আমি মার্কেটিং পারিনা………… বোধয় লিখতেও পারিনা………হয়ত কোন দিন পারব……….দেখি আল্লাহ কি দেন……..

  2. বিষয় টি অতন্ত সঠিক এবং সেই সাথে বাস্তববাদি। আমরা একই রুমে দু জন দুই রকম।

Comments are closed.