অনলাইনে আয় নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা

অনলাইনে আয় নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা
অনলাইনে আয় এ বিষয়টা এত কমন হয়ে গেছে যে যে কোন ব্লগে প্রবেশ করলেই এই টপিকটা চোখে পড়ে , আমি যে এর খারাপ বলছি তা নয় বিষয়টা আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে কারন এখনও অনেক ছাত্র-ছাত্রি আছে এস,এস,সি পাশ করার পরও বাড়ি থেকে টাকা নেয় পড়ালেখা খরচ চালাবার জন্য । আমি মনে করি অনলাইনের মাধ্যমে আয় করে কোন মতে পড়ালেখা খরচ চালানো যায় । তাই বলে আমি বলছি না এর থেকে ২০,৩০ হাজার টাকা রোজগার করে বাড়িতে পাঠান আর নিজ লেখাপড়া করেন আর লেখাপড়ার বারোটা বাজান। কথাটি অনেকটা খারাপ শোনা গেলেও এটি সত্য যে বেশী টাকা রোজগার মানে বেশি সময় ব্যয় করা , আর অল্প বয়সে একবার যার মনে টাকার লোভ ধরে যায় তার কিন্তু অবস্থা ভয়াবহ খারাপ বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। তাই আমার পরামর্শ অনলাইনে আয় করতে চান সে তো ভালো কথা এতে আপনাকে কিছুটা পরনির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে না , এতে আপনার বাবামাও কিছুটা বাঁচবেন । পড়ালেখা বয়সে যে কত খরচ বাবা মা-ই ভালো ঠিক পায়। এখন আপনি হয়ত বলবেন এ লোক দেখি দুই দিকে থাকে টাকা রোজগার করাকে লোভি বলে আবার বামাকে সাহায্য করতে বলে । আসলে ভাই আমার মুল কথা আপনি এমন বেশী সময় নষ্ট করবেন না যাতে আপনার পড়ালেখার কোন ক্ষতি না হয় , কারন পড়ালেখাই আগে । কিছু লোক আছে যারা পড়ালেখা চাঙ্গে উঠিয়ে দিয়ে অনলাইনে ১২-১৪ ঘন্টা লাইনে থেকে ১০-২০ হাজার টাকা রোজগার করছেন , এমনকি ভেবেও বসেছেন আর লেখাপড়ার কি দরকার পাশ করে ৫-৭ হাজার টাকা বেতন পাবো তার চেয়ে এটাই ভালো ।

আমি তাদের কে বলবো তারা মূর্খ কারন এই ফ্রিল্যান্সার পেশা কিছুদিন নাও থাকতে পারে হয়ত দেখা গেল সেই কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে এটা উঠিয়ে দিতে পারে তখন আপনার কি হবে আপনার একূলও গেল আর ওকূল ওটা আপনি ভালো জানেন। তবুও আশার বাণী যতক্ষন আছে ততক্ষনই ভালো । আবার কিছু লোক আছেন অনলাইনে আয় করতে চান কিন্তু অপেক্ষা করার সময় নাই , যা করবো তাড়াতাড়ি , তাদের দিয়ে কিছু হবে না।

অনলাইনে বিভিন্নভাবে আয় করা যায়

  • ব্লগে এ্যাড দিয়ে ( এটি অনেক ঝামেলার কারন আপনাকে ভালো ব্লগার হতে হবে )
  • পিটিসি ( আমার কাছে এটি অপন্দের )
  • ফ্রিল্যান্সিং সাইট থেকে আয় ( আমার কাছে সবচেয়ে পছন্দের )

সবুরে মেওয়া ফলে এই কথা যারা মানেন তাড়াই ফ্রিল্যান্সিং সাইট থেকে আয় করতে পারবেন।

এবার আমার অভিজ্ঞতার কথা বলি তার আগে আমি আমার সম্বন্ধে কিছু বলি

আমি তাওহিদুল ইসলাম ডাকনাম রাজীব , এলাকার মানুষ আমাকে বিজ্ঞানী / দয়ার সাগর বলে ডাকে কারন আমি ২০০৪ সালেই কম্পিউটারের উপর একটু অভিজ্ঞ হই যার কারনে আমাদের বাজারে যারই কম্পিউটারে সমস্যা হোক সেখানেই আমি হাজির । সযত্নে এবং ফ্রি তে কাজ করে দিতাম যার ইচ্ছা হত দিত নাইলে নাই এই কারনেই আমি আমার এলাকায় বিজ্ঞানী / দয়ার সাগর নামে পরিচিত । সবচেয়ে মজার কথা বাজারে আমার নাম বললেই কমলোক চিনবে বিজ্ঞানী / rm2334 বললে সহজেই চিনবে। প্যাচাল বেশি হয়ে গেল বলে ক্ষমা চাচ্ছি।

এখন ২০১০ এ আমি জানুয়ারী মাসে ঢাকায় আসি অনলাইনে আয় নিয়ে বাড়ি থেকে অনেক কিছুই জানলাম এবার আসল ক্ষেত্রে এসে দেখি কি হয়। বাড়ি থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে রওনা হলাম ঢাকার উদ্দেশ্যে। ঢাকা পৌছালাম শরীর অনেক উত্তেজিত কারন অনলাইনে আয় করবো কি যে আনন্দ লাগছে ।
যাক আসলাম টাকা ভালোই খরচ করচি আয় তো করবোই ।

এদিকে অনলাইনে দেখেছি ফ্রিল্যান্সিং সাইট থেকে আয় করা কত সোজা এখানে এসে দেখি তার উল্টো । কাজ বিড করি আমাকে আর বায়ার রিপ্লে করে না ১ দিন যায় ২ দিন যায় এভাবে ৩ মাস পর হঠাৎ বায়ার আমাকে রিপ্লে করে আমিও তাকে রিপ্লে করি কাজটা পেয়েও যাই , আচ্ছা কাজটা কম্প্লিট করি বায়ারকে জমা দেই কিন্তু একি বায়ার দেখি আমাকে আর রিপ্লে করে না পরে টের পেলাম আমার কষ্টই বৃথা বায়ার আমার সাথে চিটারি করেছে । মন আমার ক্রমেই ভেঙ্গে যাচ্চে , এদিকে টাকাও শেষ বাড়িতে টাকা চাইলেও লজ্জা লাগে কারন বাড়িতে সেই আকারে ভাব নিয়ে এসেছি অনলাইনে আয় করবো , কিন্তু দেখচি উল্টো । আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল অনলাইন থেকে আমি আয় করবই

দুঃখের বিষয় আমাকে এই থেকে আয় করতে গিয়ে ৩ বেলাই আমাকে না খেয়ে থাকতে হয়েছে অনেকদিন কারো কাছ থেকে সাহায্য নেই নাই যে আমি দেখি এবার নিজে কাজ করে কিছু পাই নাকি , হয়ত এখন আপনাদের মনে এসে গেছে অলরেডী যে ৫ হাজার টাকা এনে ঢাকা শহরে এতদিন চলা যায় নাকি , এর মধ্যে আমি ৩০০০ টাকা বেতনে একটা ছোট চাকরীতে ঢুকি চাকরীটার নাম বলবো না

দিন যায় অপেক্ষা করি জুন মাসে মনে একটা কুবুদ্ধি এলো মেয়ে নামে আইডি বানালাম , এ্যাপ্লাই করতে থাকলাম , রিপ্লে পেলাম আমিও রিপ্লে করলাম কাজও পেয়ে গেলাম কাজ শেষে টাকাও পেলাম । মনে আর আনন্দ আর ধরে না আমাকে আর পায় কে । আরো কয়টা আইডি বানালাম এভাবে ভালোই কাজ পেলাম। আমি এখন সফল , সেই চাকরীটাও ছেড়ে দিয়েছি । এখন আমি অনলাইনে ১৪-১৭ ঘন্টা কাজ করি [ নোটঃ আপনাদের নিষেধ করে আমি কেন এতকক্ষন থাকি সে কথা এখানে বললাম না , তাই বলে আপনাদের অনুরোধ ভেবে বসবেন না যে আমি এত টাকা রোজগার করি আর কেউ করবে কেন?]

জুন মাসে আমার আয় হয়েছিল ৬,৫৭৮ টাকা জুলাই মাসে ১১,৮১৯ টাকা এই মাসে আশা করছি ২২ হাজার টাকা হবে। হয়তো এতক্ষণে অনেকেই ভেবে বসেছেন আরেক পাগল আসছে প্রলাপ বকছে , কথাটি সত্যি আমি এই টাকা রোজগার করেছি কারন আমি যে অমানবিক পরিশ্রম করেছি এটা টার ফল। আসল কথাই বলা হয়নি আমি কাজ করি ওডেস্কে

অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং থেকে যারা আয় করতে চান তাদের জন্য আমার পরামর্শঃ

  • সময়ের সঠিক ব্যবহার
  • ধৈর্য ধারন করা
  • ফ্রেশ আইডি বানানো ( মেয়েদের নামে আইডি বানাতে পারেন তা যেন ফেকের মত না হয় )
  • ভুল তথ্য না দেয়া যেমন আপনি যা পারেন তাই উল্লেখ করুন
  • একই কভার লেটার ব্যবহার না করা
  • বায়ারের সাথে খারাপ ব্যবহার না করা
  • বায়ারের রিপ্লে ম্যাসেজের জবাব অতি তাড়াতাড়ি দেওয়া
  • বায়ারের প্রদত্ত আইডি পাসওয়ার্ড নিয়ে বেশী ঘাটাঘাটি না করা
  • আওয়ারলি কাজে বায়ারের ক্ষতি না করে কাজটা তাড়াতাড়ি সম্পাদন করা , অনেকে আছে কাজ ধীরে ধীরে করে টাকা বেশী খাওয়া এতে বায়ার ক্ষুদ্ধ হয়
  • কাজটা নেওয়ার আগে বায়ারের ফিডব্যাক দেখে নেওয়া উচিৎ

পরর্বতীতে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং সাইটে কাজ করতে হয় তা নিয়ে আলোচনা করবো আমার সাথেই থাকবেন

ছবিসূত্র
পরবর্তীতে আমার ব্লগে প্রকাশ করেছি http://bn.rm2334.com/?p=477

5 thoughts on “অনলাইনে আয় নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা”

  1. চরম একটা ফালতু সাইট হল, মিনিট ওয়ারকারস (minuteworkars.com) কারন আমি ওটাতে একটা একাউন্ট করার পর বেশকিছুদিন কাজ করে (১৯ ডলার ) পেমেন্ট এর সময় একাউন্ট ব্যান করে দেয়, কারন রেপুটেশন নাকি কম। যাইহোক minuteworks এ কাজ করলে খুবই সাবধানে করবেন, শুভরাত্রি।

  2. @শাওন + @টিউটো ভাই আপনাদের দুইজনকেই ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য। আশা করি আমার সাথেই থাকবেন , এই প্রত্যাশায়..

  3. @শাওন: টাকা আয় কঠিন হলেও অনলাইনে জ্ঞান অর্জনটা সহজ। অনেকে প্রথম থেকেই টাকা আয় করতে চায়, নিজে কিছু না শিখেই। শিখতে পারলে আয় হবেই-এই ব্রত নিয়ে লেগে থাকতে হয়। শাওন ভাই, আপনার আড়াই বছরের অভিজ্ঞতার কিছু অংশ আমাদের সাথে শেয়ার করলে ধন্য হতাম।

  4. তাওহিদ ভাই, সত্যি আপনার ধৈর্য্যে প্রশাংশা না করে পারলাম না। আপনি আরো সফল হউন এটাই আশা করি। আর আমি গত ২.৫ বছর থেকে আউটসোর্সিং করি, টাকা আয় করা যে কত সোজা!!!! তা হারে হারে বুঝতে পারছি। এই লাইনে অনেক ত্যাগ ও ধৈর্য্য ধারন করতে হবে তাবেই সফলতা আসবে, যেমনটা আপনার ক্ষেত্রে হয়েছে। ভাল থাকবেন। 🙂 🙂

  5. আসলে টাকা আয় করাটা একেবারে সহজ কাজ না। সবাই কিন্তু ধয্য ধারণ করে কাজ করার ক্ষমতাও রাখে না। আপনার ফ্রিল্যান্সিং অভিজ্ঞতা অনেকের অনুপ্রেরণা দিবে বলে মনে করি।

Comments are closed.