তথ্য সূত্র ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পদ্ধতি

ওয়েব দুনিয়াতে আমরা খোলা আকাশের নিচে বসবাসের মতই দিন কাটাই। এখানে একজনের তথ্য অন্য জন প্রকাশ করতে পারে কোন ঝামেলা ছাড়াই। প্রিন্ট মিডিয়া ও অন্যন্য প্রতিষ্ঠানের সম্পদের মতো এই দুনিয়াতে কঠোর কোন আইন না থাকায় খুব সহজে একজন অন্য জনের তথ্য প্রকাশ করতে পারে। ব্লগের সাথে জরিত অনেকেই কথা বলতে গেলে এক এক জনের উধৃতি, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি প্রকাশ করার দরকার পরে। অধিকাংশ ওয়েবের ক্ষেত্রেই বিনা অনুমোতিতে তা প্রকাশ করা একটা অপরাধ। আবার বিনামূল্যে ছবি ও ভিডিও আপলোডের সাইটগুলোর ক্ষেত্র এ বেপারটি অনেকটা শিথিল। বেশিভাগ ক্ষেত্রে লেখক বা ওয়েবসাইটের মালিক তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করলে তার লেখা বা তার অংশ অন্য কোথাও দেখলে এটার বিরুদ্ধে যায় না। এখন কথা হচ্ছে প্রকৃত পদ্ধতি কি কি? এক এক জন এক এক ভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আজ সেই বেপারেই আলোচনা।

তথ্য সূত্র ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পদ্ধতি

লিখিত তথ্য প্রকাশঃ

ভাষা পরিবর্তন করে একই বিষয় বস্তুকে নিজ নামে প্রকাশ কারা একটি প্রচলন ইন্টারনেটের প্রথমিক দিনগুলো থেকেই চলে আসছে। আর এটাকে সার্চ ইঞ্জিন সহ অনেকেই ধরতে পারে না। আর এভাবে লিখিত তথ্য প্রকাশ করে অনেকেই তথ্য সূত্র প্রকাশ করতে না রাজ। আবার অনেকে তথ্য সূত্র ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। বেশ কিছু জাতীয় পত্রিকা দেখলে বিষয়টি আরও সুন্দরভাবে দেখতে পাবেন। কিছু কিছু পত্রিকা বিদেশী ওয়েব ও পত্রিকা থেকে হুবহু অনুবাদ করে নিজে নামে খবর ছাপাচ্ছে অথচ তথ্যসূত্র প্রকাশ করছে না। আবার তাদের মধ্য থেকে কিছু কিছু পত্রিকা তথ্য সূত্র প্রকাশ করছে।

পরের পোস্ট ই-মেইলে পেতে সাবস্ক্ইব করুন।:

ই-মেইলের লিংকে ক্লিক করে একটিভেট করে নিন। FeedBurner

অনেক পত্রিকা বা ম্যাগাজিন-ই লিখে দেয়, “তথ্য সূত্রঃ ইন্টারনেট/ওয়েব/বিদেশী ওয়েব” । খুব কম সংখ্যকই ওয়েবসাইটের ঠিকানাটা দেয়। তাদের কৃপণতা অথবা অজ্ঞতা অথবা অকৃতজ্ঞতা আমাকে কষ্ট দেয়।

বিভিন্ন ওয়েবসাইটেও অনেক সময় অন্য ওয়েবের লিখিত কনটেন্ট বা তার অংশ হুবহু প্রকাশ করে। কেউ চুরি করার উদ্দেশ্য নিয়ে, কেউ নিজের সংগ্রহের জন্য আবার কেউ আলোচনার প্রয়োজনে এক জনের একটি কথা আরেকটা যায়গায় তুলে ধরে। সে ক্ষেত্রে তথ্য সূত্রটি লেখা/লেখার অংশটি ঠিক নিচের অংশে দিয়ে দেওয়াও উচিৎ। কয়েকদিন আগে কিছু ক্ষেত্রে লেখা চুরি হলেও যে তেমন কোন সমস্যা হবে না তা বলেছিলাম। কারো লেখাংশ প্রকাশ করলে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ দুইটি জিনিস প্রকাশ করার বেপারে কখনো কৃপণতা করা উচিৎ না।

১. লেখকের নাম ও লেখকের ওয়েব সাইট ঠিকানাঃ

লেখকের নামটি অনেক ওয়েবে খুজে পাওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে কিছুই করার নাই। লেখাটি যেখানে প্রকাশ হয় লেখকের ওয়েবসাইটের ঠিকানা সেটা নাও হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বড় বড় ব্লগে ছোট ছোট ব্লগ মালিকগণ লিখে থাকে। তাদের ওয়েবের নামটি একটু ভালভাবে খুজে দেখেই পেতে পারেন। বেশিভাগ বড় ব্লগে লেখকের নাম, তার সম্পর্কিত তথ্য, ওয়েব ঠিকানা, টুইটার ও ফেসবুক একাউন্ট ইত্যাদি থাকে সেখান থেকে তাদের ওয়েব লিংকটি সংগ্রহ করে নিতে পারেন।

২. লেখাটির লিংকঃ

যে লেখাটিতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন সেটি কোন স্পন্সর পোষ্টও হতে পারে। হতে পারে লেখক টাকার বিনিময়ে লেখাটি সেই সাইটে প্রকাশ করেছেন। তাই কৃতজ্ঞতা শুধু লেখককেই দেখালে চলবে না। লেখা প্রকাশিত সাইটের সেই লেখাটির ব্যাক (ক্লিক করা যায় এমন এবং ডু ফলো) লিংক প্রকাশ করুন। সম্ভবতঃ এটা সেই সাইটের জনপ্রিয়তা ও প্যাজ র‌্যাংক বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

ছবি ও ভিডিওঃ

ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে ছবিটির লিংক প্রকাশ করা আবশ্যক। ছবিটি যদি কোন ওয়েব সাইট মালিকের হয় সে ক্ষেত্রে ছবিটি সাইটের যে পাতা থেকে নেওয়া হয়েছে তার লিংক প্রকাশ করা উচিৎ। ছবিটি কোন ফটোগ্রাফারে হলে একই ভাবে তার নাম, তার ছবি এলবামের লিংক ও ছবিটি যে পাতা থেকে নেওয়া হয়েছে তার লিংক প্রকাশ করা উচিৎ।ঠিক নিচের মতো, অথবা টুটপ্লাসের এই পোষ্টির মতে করে। এখানে ফটোগ্রাফারের ফ্লিকার এলবাম লিংক লেখকের নামের সাথে ও ছবিটির লিংক ছবিটির সাথে যুক্ত করা আছে।

নিচের ছবিটি ও তার জন্য কৃতজ্ঞতা কিভাবে প্রকাশ করা হয়েছে তা দেখুনঃ

City Lights by irishmanlost

ভিডিওর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করা যেতে পারে।

আশা করা যায় এতে করে অন্তত নিজের দায় বদ্ধতা কিছুটা লাঘব করা যাবে…। আপনাদের মতামত আশা করছি।

আরও পড়ুনঃ

2 thoughts on “তথ্য সূত্র ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পদ্ধতি”

  1. অনেক জায়গা থেকে তথ্য সূত্র প্রকাশ করা একটা ঝামেলার বিষয়। তবে একটু সচেতনতার সাথে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন। কোন কোন লেখায় আমি ১০টিরও অধিক কৃতজ্ঞতাসূত্র উল্লেখ করতে দেখেছি। আর অধিকাংশ ভাল ব্লগগুলো সবগুলো ছবিরই সূত্র দিয়ে দেয়। তবে অনেক জায়গা থেকে শিখে তার সম্মিলিত ব্যবহারে ও নিজের মতে কাজ করে লিখলে ও তথ্যসূত্র ভূলে গেলে কিছু করার নাই। সবচেয়ে বড় কথা হলো-কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মানুসিকতা থাকতে হবে।

  2. হু! কিন্তু একটা সমস্যা। আমি যখন প্রগ্রামিং কিংবা টিজনিউজ এর ওপর লিখি তখন তো ৫-৭ ওয়েব সাইটে একই বিষয় নিয়ে পড়ি তারপর লিখি। আর ফটোশপ টিউটোরিয়াল লিখলে ভিডিও দেখি ব্লগও পড়ি। এত গুলোর তথ্য সুত্র প্রকাশ করবো কি ভাবে।
    তাছড়াও কিছু কিছু প্রজেক্ট আমি বহু দিন আগে প্রাকটিস করেছি। এগুলোর বেলায় কি করবো?

Comments are closed.