ব্লগ প্রোমশনের বেশ কয়েকটি ঐচ্ছিক পদ্ধতি

ব্লগে ভিজিটরকে ধরে রাখা বেশ কষ্টসাধ্য কাজ। বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকগুলো পদ্ধতি অবলম্বন করলেও বেশ কিছু অপশনাল পদ্ধতির মাধ্যমে ব্লগে অপ্রত্যাশিত ভিজিটর আসতে পারে। এ পদ্ধতির সঠিক প্রয়োগে ব্লগে ভিজিটরদের সাথে আন্তরিকতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হতে পারে। নিচে কয়েকটি পদ্ধতি আলোচনা করা হলোঃ

১. ই-বুক প্রকাশ

একটা সময় ছিল যখন আমার বাসায় ইন্টারনেট সংযোগ ছিল না। সাইবার ক্যাফেতে কাজ করতাম। সাইবার ক্যাফেতে ঘন্টা হিসেবে টাকা নেয় আর তাই দ্রুত ব্রাউজিং করতাম। এক সাথে অনেকগুলো উইনডো খুলে পড়তাম। একটা পাতা পড়ার সময় আরেকটা পাতা লোডিং এ রাখতাম। তারপরও খরচ অনেক বেশি হতে দেখে আরেকটা বুদ্ধি করলাম। শুধু পাতাগুলো সেভ করে পেনড্রাইভে নিয়ে যেতাম। মেইল পাঠানো আর চেক করার কাজটা সেরে ফেলদাম দ্রুত।

আমি জানি বাংলাদেশে এমন অনেক পাঠক আছে যারা মৌলিক তথ্যটি খুজে পেতেই শুধু ইন্টারনেটের দ্বারস্ত হয়। তাদের জন্য আপনার সাইটটিকে স্মরনীয় করে রাখতে ই-বুকের তুলনা নেই।

কিছু পাঠক দেখেছি যারা ব্লগে ব্লগে ঘুরে বেড়াতে একদম অপছন্দ করে। তারা শুধু ডাউনলোড পাগল। বিভিন্ন বই ডাউনলোডের পর ডাউনলোড করা, সময় সুযোগ হলে সেই বই পড়ে দেখে-অনেকে প্রিন্টও করে রাখে।

আপনি হয়তো অনেক পোষ্ট আপনার ব্লগে লিখেছেন তার কোন ধারাবাহিকতা নেই। পাঠক বুঝতে পারে না যে কিসের পরে কি পড়বে। এলোমেলোভাবে পড়ার কারনে কিছুই বুঝতে পারছে না।

ই-বুক প্রকাশ করার মাধ্যমে আপনার ওয়েব ঠিকানাটা ইন্টারনেট বিহীন কম্পিউটারেও রেখে দিতে পারেন। ব্লগে সাবক্রাইবার বাড়ানোর জন্যও অনেকে ই-বুক প্রকাশ করে এবং বলে যে ই-মেইল সাবক্রাইব করলে বইটি বিনামূল্যে পাবেন। এ পদ্ধতিটি অনেকের কাছে বাজে লাগলেও আমার কাছে বেশ ভাল মনে হয়।

আর যদি ভাল লেখক হোন এবং অনেক বই লেখার যোগ্যতা থাকে তবে কয়েকটি বই ফ্রি ও কয়েকটি বই আমাজানের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারেন। আমি ইদানিং লিউ বাবাতুয়া’র ভক্ত হয়ে পড়েছি। তিনি তার সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইটে কোন বিজ্ঞাপন বসান নি, অথচ বই থেকেই সম্ভবতঃ বেশ ভাল আয় করছেন।

২. মিটআপের অংশগ্রহণ ও মিটআপের আয়োজন করা

আমার বাংলা স্যার বলতো ব্যক্তি হিসেবে আমি একজন Introvert বা আত্নকেন্দ্রিক। Extrovert হতে অনেক চেষ্টা করছি, পারছি না।

অনেকগুলো বাংলা ব্লগেই মিটআপের আয়োজন হয়। প্রথমআলোব্লগের প্রথম মিটআপে আমি গিয়েছিলাম। অনলাইনের লোকের সাথে অফলাইনে এভাবে দেখা হয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়েছিল। সেই সব ব্লগারদের অনেকেই এখন আর ব্লগ লিখেন না, কেউ কেউ নিজের ব্যক্তিগত ব্লগ বানিয়ে নিয়েছেন।
২০ ফেব্রুয়ারী ২০০৯ প্রথমআলোব্লগের পিকনিকের আয়োজনেও আংশগ্রহণ করি। সেখানে গিয়ে অনলাইন কমিউনিটির কয়েকজন ওয়েব ডেভলপারের সাথেও পরিচয় হয়। তাদের একজনের মাধ্যমেই টিউটোরিয়ালবিডি’র ডোমেইনটি কিনে নেই।

টেকটিউনসের প্রথম মিটআপে অংশ নেই। সেখানে গিয়েও কয়েকজনের সাথে পরিচয় এবং তা থেকে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়। তারা আমাকে টেকটিউনসের একজন লেখক ও টিউটোরিয়ালবিডির প্রতিনিধি হিসেবে দেখে। এটা সত্য যে, বাস্তবে যারা আমাকে দেখেছে তারা আমার কোন পোষ্ট পড়ার সময় আমার ছবি চোখে ভেসে ওঠে, ঠিক যেমন বাস্তবে আমার দেখা ব্লগারদের মুখ ভেসে ওঠে তাদের পোষ্ট পড়লে। পরিচয়টা যত গভীর ও আন্তরিক তত বেশি আবেদন সৃষ্টি করতে পারে লেখাটি।
এর পর আরো কয়েকটি অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। চট্টগ্রামে চলে আসাতে ঢাকার ও খুলনার কয়েকটা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারি নি।

ইংরেজী ব্লগে মিটআপ খুব সহজ বেপার না। বাংলা ব্লগগুলোতে ৮০ ভাগের বেশি ভিজিটর বাংলাদেশ থেকে আসে তাই সহজে একটা আয়োজন করা যায়। তবে বড় ওয়েবসাইটগুলোর কয়েকটি অনেকগুলো দেশে একই সময়ে মিটআপের আয়োজন করে থাকে। অনেকে আবার অনলাইন কনফারেন্সের আয়োজন করে। এরকম অনুষ্ঠানের কথা অনেক দিন মনে থাকে। কারো মনের গভীরে প্রবেশ করতে পারলে আপনার কথা ভাববে, ব্লগটা অন্তত ভিজিট করবে, অন্যকে আপনার ব্লগের কথা বলবে।

৩. কর্মশালার ও সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ

ক্লাসরুমে স্যারের সাথে বসে একটা বিষয় বুঝে নেওয়া আর বই পড়ে বুঝে নেওয়া রাত-দিন পার্থক্য। এমন কিছু প্রশ্ন থাকে যা প্রশ্নকারীও সঠিকভাবে প্রশ্ন করতে পারে না। আবার অনেক প্রয়োজণীয় প্রশ্নও ব্লগে করা যায় না পাছে কেউ বোকা ভাবে। শিক্ষনীয় ব্লগগুলোতে কর্মশালার আয়োজন করলে পাঠকরা উপকৃত হতে পারে।

পিএইচপি গ্রুপের আয়োজনে কিছুদিন আগেই একটা কর্মশাল হয়ে গেল। হাসিন হায়দার সহ অনেকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। টেকটিউনসের প্রথম মিটআফের দিনও হাসান ভাইয়ের সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের উপর একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। আশা করা যায় এরকম কর্মশালা ব্লগের উন্নয়ন কাজে দিবে। কর্মশালা থেকে আরেকটা সুবিধাও পাওয়া যেতে পারে। বড় ধরনের আয়োজন হলে পত্র-পত্রিকায় খবর আকারে প্রকাশ হতে পারে তাতে করে ওয়েবসাইটটির নামের সাথে অনেকে পরিচিত হবে। এক্ষেত্রে অফলাইন প্রচারের সুযোগ তৈরী হতে পারে।

সেবামূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করা একটা সামাজিক দায়িত্ব। অনেক সময় এক কাজটি করা সম্ভব নাও হতে পারে। নিজের ব্লগ ও ব্লগের কমিউনিটি নিয়ে ভাল কোন কাজে এগিয়ে যাওয়া যায়। বাংলা কমিউনিটি ব্লগের অনেকেই বিভিন্নভাবে জনসচেতনা ও সাহায্য সহযোগিতা করে থাকেন।

৪. প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার প্রদান

বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে পড়ালেখার একটা প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা হলে বেশ ভাল মনোযোগ সৃষ্টি হতো। ব্লগের কমিউনিটির জন্যও এরকম কিছু আয়োজন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সুপ্ত প্রতিভা জাগ্রত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তাছাড়া একটা চেতানাও কাজ করে।আর সবচেয়ে বড় যে বেপার সেটা হলো- সাইটের পাঠক ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রণকারী সবার মধ্যে যোগাযোগ ও আন্তরিকতা বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুনঃ

*ছবিগুলো ফ্লিকার থেকে নিয়ে ফটোশপে সম্পাদনা করা

5 thoughts on “ব্লগ প্রোমশনের বেশ কয়েকটি ঐচ্ছিক পদ্ধতি”

  1. ফ্লিকার নিয়ে একটা টিউটরিয়াল লিখেন……(রিকোয়েস্ট)
    আজও জিনিষ্টার সঠিক ব্যবহার শিখতে পারলাম না…..

    1. @ইমরান, ফ্লিকার ফটোগ্রাফারদের বিশ্বসেরা কমিউনিটি যেখানে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ছবি আপলোড ও শেয়ারের ব্যবস্থা আছে। এটি বর্তমানে একটি ইয়াহু সার্ভিস, অর্থাৎ ইয়াহু একাউন্ট দিয়েই লগইন করা যায়। এখানে অনেকগুলো ফটোগ্রাফার গ্রুপও আছে। ফ্লিকারের প্রিমিয়াম সার্ভিস গ্রহন করলে ছবি আপলোডের সিমাবদ্ধতা থাকে না। ফ্লিকারের আরেকটি সুবিধা হলো ছবি ফিড আকারে ব্লগে দেখানো যায়।
      ফ্লিকারের বেপরে টিউটোরিয়ালের প্রয়োজন নেই বলে মনে করি, তাই লেখারও ইচ্ছা নাই।

Comments are closed.