ওয়েব হোষ্টের সাপোর্ট সিস্টেমের গুরুত্ব

ওয়েব হোষ্ট কেনার সময় ডিস্ক স্পেস ও ব্যান্ডউইথকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার যতই প্রবনা থাকুক না কেন, সাপোর্ট সিস্টেমটি কি তা সম্পর্কে ভাবনা চিন্তা না করে কিনে নিলে ঝামেলায় পড়তে হতে পারেন। আর এই বিষয়ে যারা নতুন তাদের জন্য কয়েকটা কথা বলতে হবে, যাতে পরবর্তিতে সমস্যায় না পরেন।

বেশিভাগ ভাল মানের হোষ্টিং প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বেশ ভাল সাপোর্ট সিষ্টেম থাকে। সব সময় অনেকগুলো যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করবেন। হোষ্টিং প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাপোর্ট সিস্টেমকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

  • ১. নিজস্ব টিকেটিং সিষ্টেম
  • ২. ই-মেইল
  • ৩. সরাসরি চ্যাটিং
  • ৪. ফোন নম্বর (টোল ফ্রিও হতে পারে)
  • ৫. সামাজিক নেটওয়ার্ক

১. নিজস্ব টিকেটিং সিষ্টেম

যে সব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব টিকেটিং সিস্টেম আছে সেখানে ওয়েব হোষ্ট বিষয়ক আপনার সমস্যার কথা লিখে দিলে একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই জবাব দেয়। মেডিয়াটেম্পলে সাপোর্টে যোগাযোগের ৫ মিনিটের মাথায় জবাব পেয়েছিলাম। হোষ্টগেটরে ১০ মিনিটের বেশি সময় লেগেছিল। বাংলাদেশি প্রভাইডার (যারা মূলতঃ ডেডিকেটেড সারবার বা ভিপিএস বা রিসেলার একাউন্ট কিনে ব্যবসা করছে) তাদের অনেকের সাপোর্ট সিষ্টেম বেশ দুর্বল হয়। অধিকাংশেরই নিজস্বটিকেটিং সিষ্টেম নেই আর তাই অনেককে সমস্যায় পড়তে শুনেছি।

২. ই-মেইলঃ

সব ধরনের সার্ভিসের সাথেই ই-মেইলে যোগাযোগের পদ্ধতিটি রয়েছে। তবে কতসময় পরে ই-মেইলের জবাব দেয় সেটাই দেখার বেপার। হোষ্টিং প্রভাইডারের একাধিক ই-মেইল ঠিকানা থাকলে টুকে রাখুন। কখনো হোষ্টিং এ সমস্যা দেখা গেলে ই-মেইলে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

ওয়েব হোষ্টের সাপোর্ট সিস্টেমের গুরুত্ব

৩. চ্যাটিং

খুব বড় হোষ্টিং প্রতিষ্ঠান না থাকলে সাধারনত সরাসরি চ্যাটিং এর ব্যবস্থা করে না । তবে সরাসরি চ্যাটিং এর মাধ্যমে সাথে সাথে ফিডব্যাক পাওয়া যায়। আর তাই সরাসরি চ্যাটিং প্রক্রিয়াটি কতটা সক্রিয় তা দেখে নিবেন। হোষ্টিং কেনার সময় সার্ভিসের বেপারটা ভাল ভাবে দেখে না কিনলে নিজের সাইটে সমস্যা হলে বিপদে পরবেন।

অনেকে অবশ্য তাদের নিজস্ব সাইটে চ্যাটিং এর ব্যবস্থা করেন না। ইয়াহু ম্যাসেঞ্জার, গুগল টক বা ফেসবুক এর মাধ্যমে তাদের সাথে চ্যাটি করতে পারেন।

ছোট ছোট সমস্যা সমাধানের জন্য যেমন-ওয়েবসাইট ট্রান্সফার, ডিএনএস পরিবর্তন, নিজস্ব ডেডিকেটেড আইপি নেওয়া ইত্যাদি কাজে আপনি এক্সপার্ট না হলেও অনেক সময় সাপোর্টের লোকজন আপনার হয়ে অনেক কাজই করে দিতে পারে। আর তাই যোগাযোগের বেপারটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিৎ।

৪. ফোন নম্বর

যদি এমন হয় যে বাংলাদেশ থেকে আপনার সাইট দেখা যাচ্ছে না। এমন কি আপনার একাইন্টেও ঢোকা যাচ্ছে না। অথবা হোষ্টিং একাউন্টসহ হ্যাকারের হাতে চলে গেছে। তখন কি করবেন? সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করেও অনেক কিছুই জানতে পারবেন। অনেক প্রভাইডারররা টোলফ্রি মোবাইল নম্বর দিয়ে থাকে। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে আপনি ফোন করবেন অথচ আপনার মোবাইল থেকে কোন টাকা কাটবে না। তাদের সেই ধরনের ব্যবস্থা আছে।

বাংলাদেশের কোন রিসেলারের কাছ থেকে হোষ্টিং কেনার পরে তার অফিসের ফোন ও মোবাইল নম্বরটি সংরক্ষন করে রাখুন। সাইট ডাউন হলে সরাসরি জানিয়ে দিন। সমাধানের বেপারে আলাপ আলোচনা করুন। প্রভাইডারদের সাথে ভাল ব্যবহার করুন, যতক্ষন তাদের সার্ভিস ব্যবহার করবেন ততক্ষন আপনি তাদের কাছে দায় বদ্ধ। তারাও তাদের ব্যবসর সুনামের জন্য চেষ্টা করবে ভাল সার্ভিস দিতে, সার্ভিসের বেপারে বড় ধরনের সমস্যা  বা প্রতারনা করলে ব্লগে তাদের সমালোচনা করুন। সবাই হোষ্টিং প্রোভাইডার সম্পর্কে জানতে ও সচেতন হতে পারবেন।

৫. সামাজিক নেটওয়ার্ক

ইদানিং অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের সাপোর্ট সিষ্টেমকে ফেসবুকে অন্তর্ভূক্ত করে ফেলেছেন। তাদের প্রতিষ্ঠানের একটি পাতা বা দল থাকে যেখানে সব সময় তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। হোষ্টিং প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ফেসবুক পাতা লাইক করে নিন। জেনে নিন তাদের বিভিন্ন সময়ের অফার ও সমস্যা, সমাধান ও বর্তমান অবস্থান।
অনেক সময় সারভারে মেইনট্যানেন্সের কাজ চলাকালিন সময়ে আপনাকে তার খবর জানিয়ে দিতে পারে- এই নেটওয়ার্কে।

আশা করা যায় ওয়েব হোষ্টিং কেনার আগে ও পরে এই বেপারগুলো খেয়াল রাখলে সারভার বিষয়ের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান পেতে পারবেন সহজেই।

সাপোর্টের বেপারে জানবেন কিভাবে?

আপনি কোন হোষ্টিং সার্ভিস গ্রহণ করার আগে গুগলে সার্চ দিয়ে তাদের হোষ্টিং এর নামের সাথে bad, poor support, problem ইত্যাদি শব্দ যোগ করে সার্চ দিন। তাদের কোন সাপোর্টের সমস্যার কথাটা বেড়িয়ে আসতে পারে বিভিন্ন ব্লগ ও ফোরাম থেকে।

আর একই হোষ্টিং যারা ব্যবহার করছেন তাদের কাছেও সরাসরি জানতে পারেন।

আশা করা যায় এই লেখাটি নতুনদের কাজে লাগবে। আমার হোষ্টিং বিষয়ক অন্যন্য লেখা পড়ার আমন্ত্রন রাইলো এবং এবং টিউটোরিয়ালবিডির হোষ্টিং সার্ভিস গ্রহণ করে আমাদের এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারেন।

হোষ্টিং বিষয়ক অন্যান্য লেখাঃ

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনে ওয়েব হোষ্টিং এর ভূমিকা

ক্লাউড হোস্টিং কি? এর সুবিধা এবং অসুবিধা

ওয়েবসাইট ডাউন হলে কি করবেন?

ভিপিএস হোস্টিং বিষয়ক তথ্যভান্ডার

ধারাবাহিক সি-প্যানেল টিউটোরিয়াল

9 thoughts on “ওয়েব হোষ্টের সাপোর্ট সিস্টেমের গুরুত্ব”

  1. Wow, wonderful blog layout! How long have you been blogging for? you made blogging look easy. The overall look of your web site is great, let alone the content!. Thanks For Your article about ওয়েব হোষ্টের সাপোর্ট সিস্টেমের গুরুত্ব | টিউটোরিয়ালবিডি .

  2. আমি অত্র সাইটে রেজিষ্টেশন করেছি। কিন্তু ছবি সংযুক্ত করতে পারি নি। ছবি কি ভাবে সংযুক্ত করতে পারবো ? যেন আমার ছবি সকলেই দেখতে পারে। দয়াকরে জানালে উপকৃত হবো।

  3. আমি আপনার কাছে োয়েবে বাংলা কি ভাবে লিখে তা জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আপনাদের এখানে মন্তব্য করার স্থানে unijy ক্লিক করে বাংলা লিখতে পারছি। কোন সমস্যা হয় না। কিন্তু আপনার পরামশ মতো অভ্র এর বিশেষ সুবিধা জানালে উপকৃত হবো। তাছাড়া আমি োয়েব ডেভেল্পেমেন্ট শিখতে আগ্রহী, কিভাবে োয়েব ডেভেল্পেমেন্ট শিখতে পারি তা জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো।

  4. টিউটো ভাই সাপোর্ট কিন্তু আপনি বেশ দ্রুতই দেন। 😀
    ডোমেইনটা ফাইনাল করেছি। আপনার সাথে দ্রুতই যোগাযোগ করব। 🙂

  5. োয়েব সাইটে বাংলা লিখতে পারিনা। কি ভাবে বাংলা লিখেবা তা জানালে উপকৃত হবো

  6. বেশ তথ্যবহুল পোস্ট, ভবিষ্যতে সবার আগে কোম্পানী সাপোরট কেমন দেয় সেটাই আগে দেখবো…

  7. হোস্টিং নিয়ে চিন্তা করা তো ভীষণ কঠিন! মাঝে মাঝে মনে হয় “ফ্রি ব্লগারই” ভালো। তবে নিজের কোন স্বাধিনতা নেই।

    1. @শিবলী, ফ্রি ব্লগার অনেক অনেক ভাল। গুগলের দেওয়া নীতিমালা সহ্য করে চললে তো কোন সমস্যা দেখি না। তবে নিজস্ব ডিজাইনের বেপারে একটু আক্ষেপ থেকে যাবে। আর যারা ব্লগ ভিন্ন সাইট বানাতে চায় তাদের জন্যও একটু সমস্যা। ছোট ওয়েব সাইটের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা কমই হয়। সব যন্ত্রনা হলো হাই ট্রাফিক সাইট নিয়ে।

Comments are closed.