ওয়েব হোস্টিং ব্যবসাঃ প্রবেশের পদ্ধতি

বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তি বিকাশের অনেকগুলো বাঁধা থাকলেও বেশ কিছু বাঁধাকে অতিক্রম করার সহজ কিছু পদ্ধতি আছে। একটু ধর্য্য ও সাহসিকতার প্রয়োজন। এর আগে বলেছিলাম ব্লগ থেকে টাকা আয়েব প্রচেষ্টা করা উচিৎ। এটার কারন হলো আপনি একদিন লেখালেখি ছেড়ে দিতে পারেন যদি আপনি এই কাজটিকে টাকা আয়ের পথ হিসেবে তৈরী করতে পারেন তাহলে হয়তো আপনাকে অন্য দিকে সময় দিতে হবে না। পেশা ও নেশা এক সূত্রে বেঁধে গেলে কাজটি আরো দ্রুত সফলতার মুখ দেখবে।

অনলাইন জগতে অনেকেই বিভিন্ন বাঁধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে নিয়মিত থাকছেন। আর বিভিন্নভাবে নিজের ক্যারিয়্যার গড়ার চেষ্টা আছেন। এই বিষয়টা ভাল। কারন ক্যারিয়্যার গড়তে পারুক বা না পারুক অনেক কিছু শিখতে পারবে এটা নিশ্চিত। আমি আমার ছোট ভাই বোনদের কম্পিউটার হাতে দিয়ে বলতাম, “কম্পিউটারটা নষ্ট করো।” তারা কী-বোর্ড ও মাউসের মাধ্যমে নষ্ট করার নানান প্রচেষ্টা করে  নষ্ট করতে ব্যর্থ হতো। কিন্তু এই প্রচেষ্টা মধ্যেও বেশ কিছু জিনিস শেখা হয়ে যেতো। মূলতঃ কোন কিছু করার প্রচেষ্টার সময়টাতেই নতুন কিছু শেখা হয়।

ওয়েব হোস্টিং ব্যবসায় প্রবেশ

অনেকে ব্লগ পড়তে পড়তে নিজেও ব্লগ লিখতে শিখেছে, অনেকে তাদের নিজের ওয়েবসাইট বানাতে গিয়ে ওয়েব ডিজাইন শিখেছে। আমি বেশ কিছু ওয়েবসাইট হোষ্ট করতে গিয়ে ওয়েব হোষ্টিং প্রদান করা শুরু করি। সেই বেপারেই আলোচনা করি। নিজের কয়েকটি ওয়েবসাইট হোষ্ট করতে গিয়ে প্রাথমিকভাবে আমি মেডিয়াটেম্পলের শেয়ার প্লান নেই যেখানে  মাসে আমাকে ২০ ডলার করে দিতে হতো। বেশ কয়েকজন বন্ধুর অনুরোধে তাদের জন্যও একই মানের সারভারে সাইটগুলো হোষ্ট করি। অনেকেই আমাকে ওয়েব হোস্টের জন্য অনুরোধ করে এবং তাদের জন্য আমি হোস্টিং প্রদান করলেও সেই সময় তাদের নিজস্ব সি-প্যানেল দিতে পারি নি। এটা একটা সমস্যা। তারপর, শেয়ার সারভার থেকে সরে আসতে হয় আমাকে। আমি চাচ্ছিলাম সিপিউ এবং র‌্যাম এর একটি নিজস্ব অধিকার যেখানে আমার প্রসেসর ও র‌্যামের উপরে অন্য কেউ অংশিদার হতে পারবে না। এ জন্য কিন্তু ভিপিএস বেশ উপযোগি। শেয়ার বা রিসেলার  প্যাকেজগুলোতে অন্য সাইটের ট্রাফিকের কারনে নিজের সাইট জ্যামে পড়ে যায়। আর তাই অনেক টাকার একটা রিস্ক আমাকে নিতে হয়। প্রথম ভিপিএস সারভার পরিচালনা করতে বেশ ভালই লাগছিল।  ডব্লিউএইচএম এর লাইসেন্সের জন্যও প্রতি মাসে ১০ ডলার বেশি দিতে হয় আমাকে। নিজস্ব সি-প্যানেল ও ডব্লউএইচএম (ওয়েব হোস্ট ম্যানেজার) সহ রিসেলার হোষ্টিং প্রদানও শুরু করি।

ব্লগিং জগতে আমার একটা পরিচিতির কারনে অনেকেই আমার কাছ থেকে সার্ভিস গ্রহণ করেন । আল্লাহর রহমতে এখন পর্যন্ত সবাই-ই সারভার নিয়ে সন্তুষ্ট আছেন। কিছু দিনের মধ্যেই ডেডিকেটেড এ প্রবেশ করার আশা আছে।

ব্লগিং ও ব্যবসা এই দুইটা জিনিসে বিশেষ একটা পার্থক্য আছে। তা হলো ব্লগিং এ প্রায় সবাই নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে। কিন্তু ব্যবসাক্ষেত্রে বিষয়টা ভিন্ন, অনেকেই তাদের ব্যবসায়ীক কর্মকান্ড অন্যের কাছে প্রকাশ করে না। এটা তে ব্যবসায়ীক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যাপার রয়েছে। আমি মূলতঃ ওয়েব হোষ্টিং ব্যবসার বেপারে আদ্য-পান্ত সমস্যা গুলোকে তুলে ধরার চেষ্টা করবো। যাতে আপনাদের কারো এই বেপারে আগ্রহ থাকলে এগিয়ে যেতে সুবিধা হয়। এক এক জনের জীবন দর্শণ এক এক রকমের। আর তাই এক এক জন এক একভাবে নিজের ব্যবসাকে উপরের দিকে তুলে নিতে পারেন। আমার আভিজ্ঞতা যে আপনার কাজে লাগবে তা নয়। তবে বেশ কিছু জিনিস জানাতে চেষ্টা করবো যা হয়তো কাজে লাগবে।

দেশি হোস্টিং নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা

কিছু দিন আগের দেশি হোষ্টিং এর সমস্যা নিয়ে একটি পোষ্ট লিখেছিলাম আমার প্রিয় বিজ্ঞানপ্রযুক্তি ব্লগে।  তার কিছু অংশই এখানে আবার তুলে দিলাম।

এ পর্যন্ত তিন ধরনের সমস্যার কথা বাংলাদেশের হোস্টিং গ্রহণ কারীদের কাছে শুনেছি।

shared_hosting_provider

১. যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় সার্ভিস না পাওয়া

কোন একজন বাংলাদেশি লোকাল হোস্টিং প্রভাইডারের কাছ থেকে ডোমেইন ও হোষ্টিং নিলেন এবং দেখলেন কিছু দিন পরে তাকে আর অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে না। মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেন এবং নম্বরটি বন্ধ বা কোন কারনে ধরছে না।

আপনার হয়তো ব্যান্ডউইথ বাড়ানো দরকার বা ডোমেইনটির নেমসারভার পরিবর্তণ দরকার, অথবা ডোমেইনটি অন্য কারো হোষ্টিং এ ব্যবহার করতে চাইছেন অথবা ডোমেইনটি ট্রান্সফার করতে চাইছেন। তাকে এটা বলার পর সে ইনএকটিভ থাকলো এবং আপনার কাজটি করে দিল না।

২. ডোমেইনের কন্ট্রোল

সারাজীবন আপনার ডোমেইনের কন্ট্রোলটি নিজের কাছে রাখার একটি চেষ্টা করেন অনেকে। এর কারন হলো আপনি তার কাছে দায় বদ্ধ থাকবেন। আর ডোমেইনটিকে ট্রান্সফার করার বেপারে কখনোই তারা সহযোগিতা করবে না। এমনও হতে পারে ডোমেইন এক্সপেয়ার হওয়ার পরে আপনার ডোমেইনটি সে কিনে রাখবে এবং পার্ক করে রাখবে। যখন আপনি ডোমেইনটি কিনতে চাইলে বিশ দাম হাকাবে।

৩. হোষ্টিং একাউন্ট বাতিলঃ

অবাক করার মতো একটা সমস্যা  এটি। একবছরের জন্য হোষ্টিং নিলেন আথচ ছয় মাস পড়েই একাউন্ট বন্ধ। তার পরে বলল আরো টাকা দিতে হবে। না হলে সাইট চলবে না।

বাংলাদেশী কোন লোকাল প্রভাইডারের কাছ থেকে হোষ্টিং কিনার ক্ষেত্রে

এরকম সমস্যায় খুব কম লোক পড়লেও ধোকাবাজির ঝামেলা এড়াতে অবশ্যই প্রফেশনাল এবং ব্যবসায়ীক সুনাম আছে এমন লোকের কাছ থেকে হোষ্টিং কেনা উচিৎ। বেশ কিছু জিনিস দেখে হোষ্টং নিবেন।

  • সবসময় অনলাইনে পাবেন কিনা?
  • মোবাইলে যোগাযোগ করেত পারবেন কিনা?
  • ই-মেইলের জবাব দ্রুত পান কিনা?
  • সামাজিক নেটওয়ার্কে তাকে দেখা যায় কিনা?
  • অনলাইনে তার অবস্খান ও পরিচিতি কেমন?

এই সব সমস্যার সমাধান করার মতো সাহসিকতা থাকলে ওয়েব হোস্টিং ব্যবসায় প্রবেশ করার জন্য আপনাকে আমন্ত্রণ জানাই। এবং এই ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো শিখে নিতে পারেন।

পরের পর্বে জানতে পারবেনঃ

কারা কারা এই ব্যবসায় বেশি লাভবান হতে পারে?

5 thoughts on “ওয়েব হোস্টিং ব্যবসাঃ প্রবেশের পদ্ধতি”

  1. সর্ব প্রথম আপনার সুন্দর পোস্ট লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আশা করি ভাল আছেন। আমি জুমলা নিয়ে ওয়েব সাইট তৈরি করতে চাই কিন্তু জুমলার উপর ভাল কোন টিটোরিয়াল নাই। তাই প্রথম থেকে অথাৎ জুমলা লোকাল পিসিতে xampp দিয়ে জুমলা ইনস্টলেশন করা যায় তারপর সার্ভার পিসিতে এছাড়া লোকাল পিসিতে কিভাবে জুমলাকে বাংলা করা যায়। তাই আমার অনুরোধ দয়া করে একটি পূর্ণাঙ্গ টিটোরিয়াল আমাদের উপহার দেন।

  2. আপনার হোষ্টিং এর উদ্দ্যোগটা আপনার লাভের জন্য হলেও আমাদের মত মানুষদের সহজেই কম মুল্যে পাচ্ছি। আপনাকে ধন্যবাদ এমন সার্ভিস প্রদানের জন্য।

  3. #”দেশি হোস্টিং নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা” তে যা বললেন তাতে .১% ও ভুল নাই। আমার পরিচিত একজন লোক ডোমেইন কিনতে গেছিল eicra.com থেকে। একটা ডমেইন কিনে ৩-৪ দিন আগে। ওরা বলছে এক কথা আর করছে আরেক জিনিস। ডোমেইন প্যানেলের কিছুই দেয় নাই। ওদের সাইট থেকে কন্ট্রোল করতে হবে। তাও মানা যেত যদি DNS record ঠিক মত চেঞ্জ হত। এখন ওরা বলতেছে ওদের কাছ থেকে হোস্টিং নিতে হবে।

    #আনলিমিটেড স্পেস এবং ব্যান্ডউইডথ নিলে আমার মাসে কত খরচ হতে পারে ??

Comments are closed.