বাংলাদেশে অনলাইন মার্কেটিং এর কয়েকটি বাঁধা

বেশ কিছু লেখায় আমি অনলাইন মার্কেটিং এর উপরে আলোকপাত করেছিলাম। বরাবরের মতোই মৌখিক ও সরাসরি মার্কেটিংই বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মার্কেটিং। তবে বর্তমানে এসএমএস মার্কেটিং ও  অনলাইন মার্কেটিং বিশেষ জায়গা দখল করে নিয়েছে। বাংলাদেশসহ যেসব দেশে ই-কমার্সের সুবিধা নাই সেই সব দেশে অনলাইন মার্কেটিং এর অতটা তোর জোড় না দেখলেও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এর সাথে মার্কেটিং এর সম্পৃক্ততা বেড়েই চলছে।
বাংলাদেশে অনলাইন মার্কেটিং এর কয়েকটি বাঁধা
সরাসরি মার্কেটের পন্যগুলো প্রদানের বা তথ্য আদান প্রদানের সুবিধা থাকলেও ব্যাংকের টাকা আদান প্রদান ইত্যাদি বিষয়গুলো সুবিধাজনক না থাকায় এখন বাংলাদেশে মূলতঃ কয়েক ধরনের পণ্যের বা সেবার অনলাইন মার্কেটিং চলছে।

  • ১. ব্র্যান্ডিং (মোবাইল কোম্পানী, ব্যাংক ইত্যাদি)
  • ২. সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান (ওয়েব ডিজাইন ইত্যাদি)
  • ৩. ওয়েব ভিত্তিক পন্য (যেমন- সফটওয়্যার, ওয়েব হোস্টিং, ডোমেইন ইত্যাদি)

এ দেশের অনলাইন মার্কেটিং এবং উন্নত দেশের মার্কেটিং এর পার্থক্যটা এখানেই দেখা যাবে। আর সেই সাথে সমস্যাগুলোও প্রতিফলিত হবে।

১. উন্নত ও নিরাপদ পদ্ধতিঃ

অনলাইন মাকের্টিং ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করতে পারবে এমন উন্নত এবং নিরাপদ কোন পদ্ধতি এখনো এ দেশে নাই। আপনি চাইলেই আপনার বিশাল ট্রিফিকের ওয়েবসাইটের জন্য ভাল বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠাদের মাধ্যমে আয় করা শুরু করতে পারবেন না। কারন আপনার এবং আপনার ওয়েবসাইটের সাথে সঠিক পদ্ধতিতে বিজ্ঞাপন ও তার ফলাফলের ব্যবস্থাপনা নাই। বিশ্বের জনপ্রিয় সব বিজ্ঞপন আদানপ্রদানকারী সংস্থাগুলোও এদেশের বিজ্ঞাপন থেকে তেমন কোন আয় করতে পারে না। এই এলাকার জন্য সেইভাবে বিজ্ঞাপণও প্রকাশিত হয় না।

বাংলা ভাষার ওয়েবসাইটগুলোর জন্যও বিজ্ঞাপনের কোন ব্যবস্থা নেই।

২. বিশ্বাসযোগ্যতাঃ

অনলাইন মার্কেটিং এর সবচেয়ে বড় বাঁধা বিশ্বাসযোগ্যতা। উন্নত বিশ্বে বাড়ির পাসেই কোন প্রতিষ্ঠানের পন্য কিনতে হলেও যেখানে অনলাইনে অর্ডার দেওয়া হয় আর এ দেশে বরং অনলাইনের অর্ডারের পদ্ধতিটার  চেয়ে খারাপ সার্ভিস পেলেও নিজে গিয়ে পছন্দ করে নিতে চায়। অনেকেই অনলাইন অর্ডার সিস্টেমটাতে বিশ্বাস রাখতে পারেন না।

শুধু তাই নয়, এদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো অনেকেই এই পদ্ধতিতে ব্যবসা করতে নারাজ। আর তাই অনলাইন মার্কেটিংটা হয়ে ওঠে আরো কঠিনতর। বাংলাদেশের একমাত্র ডোমেইন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিটিসিএল থেকে ডোমেইন কিনতে হলেও অফলাইন ফরম পূরণ করে নিতে হবে। তারা হয়তো বিশ্বাসই করতে পারছে না।

৩. অজ্ঞতা ও দক্ষতার অভাবঃ

কয়েকটি সেক্টরে অজ্ঞতার অভাব রয়েছে। প্রথমতঃ যারা অনলাইনে অর্ডার দিবেন তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। দ্বিতীয়তঃ যারা অর্ডারর প্রসেসিং করবেন তাদের হতে হবে দক্ষ। উন্নত সাপোর্ট সিস্টেম থাকতে হবে। সমস্যাগুলোর সমাধানের সায্যকারি মনোভাব থাকতে হবে।

৪. রাষ্ট্রিয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবঃ

বাংলাদেশের সরকারী মাধ্যমগুলো এখনো ডিজিটলীকরণ করা হয় নি। আর তাই অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল পদ্ধতি অবলম্বণ করলে তাদের ব্যবসায়ীক নিয়মের ভেতরে আনার পদ্ধতিও জটিল হবে। আর মার্কেটের পণ্যসমুহকে অনলাইনের এসকল প্রসেসিং এর লজিস্টিক ও সরকারী অনুমোদনের বেপারও ঝুলিয়ে রাখা হয়। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোও ই-কমার্স সাইটের লেনদেনের কোন দায়ীত্ব নিবে না। আর সেটা না হলে অনলাইনে শুধুমাত্র অফলাইন পন্যের বা সেবার সামান্য মার্কেটিং ছাড়া আর কিছুই হবে না।

অনলাইন মার্কেটিং এর সাথে সম্পৃক্ত আমার কিছু লেখাঃ

4 thoughts on “বাংলাদেশে অনলাইন মার্কেটিং এর কয়েকটি বাঁধা”

  1. অনলাইনে আয় করুন বেকারত্ব দুর করুন ১০০% নিশ্চিত
    অনলাইনে আয় এখন একটি অতি পরিচিত বিষয় হয়ে গেছে। সবাই আয় করার জন্য নানা সাইটে দৌড়ে মরছে কিন্তু বেশিরভাগ সাইট স্ক্যাম। তাই দিনের পর দিন কাজ করে তারা টাকা পাচ্ছেন না বা যারা নতুন সবাই নিশ্চিত আয় করতে পারেন অনলাইন মার্কেটিং এর মাধ্যমে।
    প্রশ্ন :কিসের মার্কেটিং করব?
    উত্তর:Internet Calling Card,Mobile Phone a Recharge (Flexi Load) ,(খুচরা ও পাইকারী বিক্রয়)
    প্রশ্ন :কার কাছে মার্কেটিং করব?
    উত্তর:প্রবাসী ও তাদের আত্নীয়-স্বজনদের কাছে।
    প্রশ্ন :কিভাবে করব?
    উত্তর:yahoo bd chat room / face book /blog / forum এ
    প্রশ্ন :কি বলব?
    উত্তর: কুশল বিনিময়ের পর জানতে চাবেন যে,আপনি কি প্রবাসী বাংলাদেশী? প্রবাস থেকে সস্তায় বাংলাদেশে আত্নীয়-স্বজনদের সাথে কথা বলতে চান? বাংলাদেশে আত্নীয়-স্বজনদের মোবাইলে (যে কোন অপারেটর এর) তাৎক্ষনিক (১৫-৪৫ সেকেন্ড) রিফিল/ ফ্লেক্সি লোড করতে চান?চাইলে আমার থেকে নিতে পারেন ইত্যাদি।
    প্রশ্ন :দরদাম কি রকম হবে?
    উত্তর: Calling Card দাম উঠানামা করে তাই ক্রয় মূল্য উল্ল্যেখ করলাম না তবে প্রতি Calling Card কমপক্ষে ৫০ টাকা লাভে বিক্রয় করবেন। অটো ফ্লেক্সি লোড আমার থেকে ২% কমিশনে ক্রয় করতে পারবেন। আপনি ২% অতিরিক্ত বা ১% অতিরিক্ত বা ০% বা ১% বিক্রয় করবেন ক্রেতা ও বিক্রির পরিনাম অনুযায়ী।
    প্রশ্ন : মাসিক কত টাকা আয় হতে পারে?
    উত্তর:নিয়মিত ৫-৬ ঘন্টা অনলাইনে মার্কেটিং করলে মাসিক আয় ৫০০০ টাকা থেকে ১০০০০০ টাকা হতে পারে।(নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রবাসীদের থেকে জেনে নিন )
    প্রশ্ন :কি কি লাগবে?
    উত্তর:কম্পিউটার+ ইন্টারনেট সংযোগ+সততা+ নিয়মিত ৫-৬ ঘন্টা অনলাইনে মার্কেটিং(7pm-12pm)
    সকল বিস্তারিত: saifullah.gpcic@yahoo.com
    008801715244224

  2. সরকার পর্যায়ে যেসকল লোক কাজ করছেন তারা খুব একটা দক্ষ লোক নন, অনেক সময় তাদেরই অবহেলার কারণে অথবা অজ্ঞতার কারণে আমাদের অনলাইন মার্কেটিং বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে…

  3. ভাল পোস্ট। বাংলাদেশ যেকোন উন্নত বিশ্ব থেকে তথ্য প্রযুক্তিতে ১৫/২০ বছর পিছিয়ে আছে। নিকট ভবিষ্যতে যে খুব দ্রুত গতিতে আগাতে পারবে, তেমন লক্ষন দেখা যাচ্ছে না।

    এখন যদি সরকার ইকর্মাসের প্রতি ১০০% মনোযোগও দেয়, তবুও ইকর্মাস আগাতে পারবে না। কারণ আমাদের ইন্টারনেটে স্পীড নেই, বিদ্যুতের সংকট, যাতায়াত ব্যবস্থার দুরাবস্থা ইত্যাদি ইত্যাদি।

Comments are closed.