অনলাইন মার্কেটিং-কাস্টমারের সাথে সম্পর্ক

ওয়েবের মার্কেটিং বিষয়টা এখন আর পুরাতন কিছু না। যদিও বাংলাদেশসহ তথ্যপ্রযুক্তিতে অনগ্রসর দেশগুলোতে অনলাইন মার্কেটিং এর প্রভাব খুবই কম, তার পরেও কিছু দিনের মধ্যেই এটি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি মিডিয়া ও মার্কেটিং বাজারে পরিনত হওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে টিউটোরিয়ালবিডিতে চালু হলো নতুন বিভাগ “অনলাইন মার্কেটিং” ।

অনলাইন মার্কেটিং কাস্টমারের সাথে সম্পর্ক
যদিও এ বিষয়ে বেশ কিছু লেখা প্রকাশও হয়ে গেছে।

আমরা অনলাইন মার্কেটিং এর বিচ্ছিন্নভাবে উপরে বেশ কিছু লেখা দেখতে পারি, যেমন-

এখন মূলতঃ অনলাইন মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ কাস্টামার ও তার সাথে সম্পর্কের বিষয়টি আলোচনায় আনবো।

সরাসরি একটি পণ্য বিক্রি করা যতটা সহজ অনরাইন বাজারে বিক্রি করা ততটা সহজ কাজ না। কাস্টমারের সাথে সরাসরি কথপোকথনে যা করা যায় তা কিন্তু অনরাইনে করা যায় না। তাছাড়া সব ধরনের পণ্য বাজারজাত করার জন্য অনলাইন মার্কেটিং গ্রহণযোগ্যও না। আবার পদ্ধতিটিও ভিন্ন।

ধরা যাক আপনার একটি ব্লগ বা পণ্য বিক্রয়ের ওয়েবসাইট আছে। সেখানে বিক্রয় পদ্ধতিটি কিভাবে কাজ করে?

  • প্রথমে আপনার ওয়েবসাইটে লোকজন ভিজিট করবে।
  • পণ্যসমুহ দেখবে এবং পছন্দ করবে।
  • নিয়মিত ভিজিটর হলে সে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করবে।
  • কোন বিনামূল্যের পণ্য থাকলে তার অর্ডার করবে এবং সেবা গ্রহণ করবে।
  • (এমনও হতে পারে পণ্যটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে যেমন- সফটওয়্যার বা ওয়েব হোষ্টিং )
  • কিছু গ্রাহক সরাসরি কিনে নিবে, ফ্রি ভার্শনটি ব্যবহার করবে না।
  • ফ্রি গ্রাহকদের কেউ কেউ মেয়াদ শেষে পণ্যটি কিনে ব্যবহার করবে।

প্রতিটি ধাপেই আগের ধাপের চেয়ে কম সংখ্যক লোক থাকবে, অনেকেই ঝরে যাবে। অনলাইনের মার্কেটটা এমনই হয়।

সেবাগ্রহণকালীণ সময়ে বা সেবা গ্রহণের পরের অবস্থাটি কেমন হতে পারে? এমনও হতে পারে আপনার ক্লাইন্ট নিয়মিতভাবে সন্তুষ্ট হচ্ছেন বা অসন্তুষ্ট হচ্ছেণ। নিচের ছবি দুটি দেখুন-

 সন্তুষ্ট হচ্ছেন বা অসন্তুষ্ট হচ্ছে
 সন্তুষ্ট হচ্ছেন বা অসন্তুষ্ট হচ্ছে

বাংলাদেশে শুধুমাত্র অনলাইন মার্কেট দিয়ে ব্যবসা শুরু করে সফল হয়েছেন এমন লোকের সংখ্যা হাতে গোণা যায়। অনেকের সাথে আমার পরিচয়ও আছে। তাদের মধ্যের বেশ কিছু চমৎকার গুণ দেখতে পেরেছি, আর আমিও সেটা অর্জণ করতে চেষ্টা করছি। আপনি যদি অনলাইনের মার্কেট থেকে সফলতা অর্জন করতে চান তাহলে বেশ কিছু বিষয় অবশ্যই রপ্ত করা উচিত। হয়তো সবগুলো বলাও যাবে না, এক এক জনের ব্যবসায়ীক পদ্ধতি এক এক রকমের। তবে সাধারন বেশ কিছু বিষয় আছে যেমন-

  • ১. যোগাযোগ সহজ করা এবং ক্লাইন্টের কথা শোনা এবং বোঝা।
  • ২. ক্লাইন্টকে সততা বজায় রেখে (ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্য ছাড়া) উপদেশ প্রদান।
  • ৩. উন্নত মানের পণ্য বা সার্ভিস প্রদান।
  • ৪. সহযোগিতার মানুসিকতা।

স্ম্যাশিং ম্যাগাজিন থেকে ব্যাপক আলোচনার পোস্টে Des Traynor বেশ কিছু প্রশ্ন রেখেছেন। আপনার অনলাইন ব্যাবসা ক্ষেত্রে কতটুকু সক্রিয় তাও এই প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে বুঝতে পারবেন।

  • ১. আপনি কি নতুন ক্লাইন্ট খুজছেন? আপনার সাথে নতুনদের যোগাযোগ কি আগের মতোই সহজ? তারা কি যে কোন সময় আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে?
  • ২. পণ্য প্রদানের পর তারা সেটা কিভাবে ব্যবহার করছে সে বেপারে কি খোজ খবর রেখেছেন?
  • ৩. আপনার পণ্যের নতুন ফিচার (থাকলে) সেটা কি তাদের জানিয়েছেন?
  • ৪. সঠিক সময়ে তাদের কাছে কি সঠিক খবরটি পৌছায়?
  • ৫. প্রথম বছর সার্ভিস নেওয়ায় আপনি কি ক্লাইন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন?
  • ৬. কাল যে কাস্টমার হলো বা এক বছর আগে যে কাস্টমার হলো তাদের মধ্যকার পার্থক্য (আপনার পণ্যের বেপারে) বলতে পারবেন?
  • ৭. আপনার বিশজন কাস্টমারের নাম ও তাদের সম্পর্কে কিছু কথা কি হলফ করে বলতে পারবেন?

আশা করা যায় উপরের আলোচনা অনলাইন মার্কেটিং কে নতুনভাবে ভাববার সময় বের করে দিবে। মতামতে লিখুন আপনার মূল্যবান বক্তব্য।

4 thoughts on “অনলাইন মার্কেটিং-কাস্টমারের সাথে সম্পর্ক”

  1. শিক্ষনীয় পোস্ট।
    “অনরাইন” এর জায়গায় “অনলাইন” হবে মনে হয়।

  2. সুন্দর লেখা, তবে অনলাইন মার্কেটিং সকলের দ্বারা সম্ভব নয়। বিশেষ করে আমি জন্য এটা সম্ভব নয় 🙂

Comments are closed.