লেখার গতিবিধি কোথায়, কোন দিকে?

আপনার লেখাকে কি কেউ নিয়ন্ত্রণ করে? আপনি নিজে কি কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন? হয়তো বা অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করা দরকার অথবা নিজেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন। কারো কথার ধরন যেমন আপনার কথার ধরনকে পাল্টে দিতে পারে আবার কারো লেখার প্রভাবও অন্যের লেখায় প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তবে ইদানিং কালে আমি আমার নিজের লেখায় বেশ কিছু প্রভাব লক্ষ্য করেছি।

প্রথম দিকে টিউটোরিয়ালবিডি ব্লগটিকে চালু করার সময় মূলতঃ স্ক্রিনশট দিয়ে দিয়ে কাজের ধারা বর্ণনা করার দরকার পরে আর সেটাই করে গিয়েছি। নিজের চিন্তার কোন জায়গা সেখানে দেই নি। নিজের কথাগুলোকে ঢেকে রেখেই লিখে গিয়েছিলাম।

কিছু দিন ব্লগ লেখা আর সামান্য ফ্রন্ট ইন্ড ডিজাইনে নিজের উপর আস্থা আসার পর একটু চিন্তাশীল লেখা লেখার ক্ষমতা অর্জন করি। সেই সময়ের লেখাগুলোকেই আমার ভাল লেখা মনে হয়েছে।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি ব্লগটিকে এগিয়ে নিতে আমাকে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে কাজ করে যেতে হয়। সেখানে মানুষের আগ্রহের বেপারটি আমার কাছে প্রাধান্য পায় এবং সাম্প্রতিক বিষয়গুলোর উপরে অনেকটা অনুবাদের মতো করে খবরগুলো লিখতে থাকি। অবশ্য সেখানেও আমার পছন্দের বিষয়ই প্রাধান্য পায়।

টিউটোহোস্ট চালুর পর সেখানে আমার ক্লাইন্টদের জন্য বাংলায় ওয়েব হোস্টিং টিউটোরিয়ালের প্রয়োজন দেখা দেয়। আমি তাদের জন্যও কিছু লিখি।

বাংলা ব্লগে এসে আরেকটা বিষয় আমার লেখাকে নিয়ন্ত্রণ করে- তা হলো যা আমি জানতাম না এবং বাংলা ব্লগে একসময় খুজে বেড়াতাম। বলতে দিঁধা নাই আমি সি-প্রোগ্রামিং, ফটোগ্রাফী, সি-প্যানেল এ বাংলা ব্লগে কোন লেখা খুজে না পেয়ে এই বিষয়ে প্রথম আমিই লেখা শুরু করি। আর আমি অনেক সময়ই লেখা থেকে দূরে চলে যাই, কিন্তু লেখা লেখি বন্ধ করে দেব এই ভাবনা কখনো মনের মধ্যে রাখি নি।

ইংরেজী প্রোফেশনাল ব্লগের বেপারটা একটু আলাদা। অনেকে আরো কয়েকটা কারনে লেখায় পরিবর্তন নিয়ে আসে। যেমন-

১. লেখার পরিমান বৃদ্ধি

লেখার সাথে এখন টাকার সরাসরি সম্পর্ক হয়ে গেছে।  নিয়মিত না লিখলে ব্লগের ভিজিরটও নিয়মিতভাবে কমতে থাকে। আর এ জন্যই লেখার প্রয়োজনেই লেখা হয়।

২. মার্কেটিং এর জন্য

অনেক প্রতিষ্ঠানের এখন ব্লগ রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক ব্লগের প্রয়োজনও অবশ্য আছে। আর সেই প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে লেখা হয়ে থাকে। অনেক সময় সেই ব্লগে প্রতিষ্ঠানের খবর বা পণ্যের রিভিউও থাকে।

৩. সার্চ ইঞ্জিন বান্ধব

যেহেতু লেখা ও সেই লেখার ট্রাফিকের উপরে আয়ের বেপারটা নির্ভর করে তাই সার্চ ইঞ্জিনের ক্ষধা মেটানোর জন্য অনেকে কনটেন্টের শিরোনাম, কীওয়ার্ড ইত্যাদি টারগেট করে কনটেন্ট তৈরী করে থাকে।

৪. সামাজিক নেটওয়ার্ক

ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান এখন একেবারেই অবহেলা করার জিনিস নয়। সামাজিক নেটওয়ার্কে হিট পরার মতো পোস্টও অনেকে বাদ দিতে চায় না। অনেকে বিতর্কিত ও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিতর্কিত বিষয়ে লিখে মজা পায়। কারন এগুলোই অনেক সময়ই সামাজিক নেটওয়ার্কর সময়খেকো পোস্ট হয়।

অবশ্য অনেকেই তাদের নিজের অবস্থানের আর চিন্তাশীলতার বিকাশের ধারা আনুযায়ী লিখতে পারেন। আর তাদেরকেই নিয়মিত অনেক বছর ধরে লিখে যেতে দেখেছি। তার মধ্যে একজন হলো লিউ বাবাতুয়া

নিজের সৃজনশীলতা অভিজ্ঞতাকে নিয়মিত লিখে গেলে সেটা অনেক বড় মার্কেটিং এর চেয়েও বড় হয়ে ওঠে।

 

3 thoughts on “লেখার গতিবিধি কোথায়, কোন দিকে?”

  1. সময় উপযোগী পোস্ট! আমার ইচ্ছাটাও এমন! যেকোন বিষয়ই হোক না কেন, নিয়মিত লিখে যাবে। কারন, লিখাকে আমি নিজের সাথে নিজেই অনবরত কথা বলার মাধ্যম মনে করি। 🙂

Comments are closed.