পরিচ্ছন্ন ডিজাইনের কয়েকটি বিষয়

আজ থেকে প্রায় আট বছর আগে, তখন কম্পিউটারের সাথে খুব বেশি সময় দেওয়া হতো না। গ্রাফিক্সের অপ্রয়োজনীয় কাজেও অনেক ব্যস্ত থাকতাম। সেই সময় আমাকে একটি ভিজিটিং কার্ড বানাতে গিয়ে পরিচ্ছন্ন ডিজাইনের মর্ম বুঝতে পারি। যার কাজ সে প্রতিবারই বলতো যে অনেক সাদা মাটা হয়ে গেলো। এক একটি লেখা এক এক রং এর দিলে ভাল হতো… ইত্যাদি।তার পর থেকে আমি কারো ভিজিটিং কার্ড দেখলেই তাকিয়ে থাকতাম। অনেক সাধারন কম রং এর মধ্যে অনেক অসাধারণ ডিজাইন আমি দেখেছি।

পরিচ্ছন্ন ডিজাইন ভালবাসে এমন ব্যক্তিদের ব্লগ পড়লেও বেশ কিছু বিষয় জানতে পারবেন। ওয়েব ডিজাইনের ক্ষেত্রে মিনিমালিস্টের বেশ কিছু শিক্ষা বর্ণনা করি।

১. ফোকাস পয়েন্ট

সাধারন ওয়েব সাইটে বেশ কিছু বিষয় থাকে। একটি ওয়েবসাইটে টেক্সট, স্লাইডার, মেনু, ছবি, এনিমেশন, ভিডিও, বিজ্ঞাপন, সামাজিক নেটওয়ার্ক বাটন ইত্যাদি অনেকগুলো অবজেক্ট থাকে। আমি বাংলা বেশ কিছু ব্লগে লোকজনের পছন্দের বিষয়ে জানতে চাওয়ার পরে দেখা যায় ব্লগটিতে এক এক জন এক একটি সুবিধা চাইছে। বিভিন্ন ওয়েবের উদাহরণ দিয়ে তারা সাইডবারে সেই বিষয়গুলো দেখার জন্য মতামত দিচ্ছে। এই অবস্থা দেখে আমার সেই ভিজিটিং কার্ড ক্লাইন্টের কথাই মনে পড়ে যায়।

এক এক ওয়েবে এক একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ আর ভিজিটরের চোখ যাতে প্রয়োজনীয় যায়গায় পড়ে সেই ব্যবস্থাই করতে হবে।

অধিকাংশ লোকই তার ডিজাইনের বেপারে একটি কথা বলতে পারে যে তার ওয়েবসাইটে এত কিছু আছে অথচ তা জানানোর জন্য প্রথম পাতায় আরো বেশ কিছু রাখা দরকার।

কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভিজিটরের ওয়েব গুগলের প্রথম পাতাটি কতই সাদা মাটা।

এই ওয়েবটির মূল ফোকাস পয়েন্ট হলো তাদের সার্ভিস সমুহ। আর সাইটের চোখ যাওয়ার সাথে সাথে সেটাই দেখতে পাবেন।

২. ইউজারের নিয়ন্ত্রণ

একটি ওয়েব পেজ বই না। আর তাই  চাইলেই আপনি অনেক ধরনের ইন্টারেকটিভিটি নিয়ে আসতে পারেন। আর এই বেপারটি চিন্তা করেই ব্লগগুলোতে মানুষের পছন্দের বিষয়ে ফোকাস করা হয়। মানুষের প্রয়োজনকে অনুভব করার ছোট একটি উদাহরণ এপলের ওয়েবসাইটের সার্চ বক্স। সার্চ বক্সে ক্লিকের সাথে সাথেই এটি তুলনামূলক বড় হয় যাতে একটু বেশি শব্দ লিখে সার্চ দেওয়া যায়।

ফেসবুকের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারন হলো এখানে ইউজার তার পছন্দমতো পোস্ট দেখতে পারে। ইউটিউবে ভিডিও সাবক্রাইবের পদ্ধতি এবং বিভিন্ন পত্রিকায় বিভাগানুসারে পোস্ট পদ্ধতির মূল কারন ইউজারের পছন্দ ও অপছন্দ অনুসারে পোস্ট দেখানো।

৩. খালি জায়গাঃ

বাড়ির সামনে একটু খালি জায়গা আর সেখানে একটি বাগান থাকলে কেমন হয়? আপনার ঘরের সম্পূর্ণ অংশই বাহারি আসবাবে ভরে রাখলেই কিন্তু সুন্দর দেখাবে না। আর এই বিষয়টির প্রতি অনেক নতুন ডিজাইনারকেই অবহেলা করতে দেখেছি। 

এই ওয়েবসাইটটি দেখুন। কত সুন্দরভাবে ডিজাইন করা সাইট অথচ কত ফাঁকা জায়গা…।

 

৪. পরিচ্ছন্ন ডজাইন মানে সৃজনশীলতা বর্জন নয়ঃ

আপনি হয়তো এতক্ষণ ভেবে ফেলেছেন যে পরিচ্ছন্ন ডিজাইন করতে হলে তো সাদাকালো আর সব ডিজাইনকে বিসর্জন করতে হবে। আসলে তা নয়। সৃজনশীলতার নানান রূপ আছে। আর এক এক জনের কাছে বিষয়টি এক এক রকমের।ইমপ্রেস পারফর্ম সাইটটি দেখুন।

অনেক পরিচ্ছন্ন, খুব কম সংখ্যক রং এর মার্জিত এবং সৃজনশীল একটি ডিজাইন।

 

4 thoughts on “পরিচ্ছন্ন ডিজাইনের কয়েকটি বিষয়”

  1. অসাধারণ পোস্ট। আসলে রঙ নির্বাচন একটি জরুরী বিষয় ডিজাইনের জগতে।

Comments are closed.