এক্সএনএ-কৃত্রিম ডিএনএ উদ্ভাবন!

আপনার আমার শরীরের অন্তঃস্থ সকল কোষের যাবতীয় জিনগত নির্দেশনা একমাত্র ডিএনএ-ই বহন করে। আমাদের দেহের প্রত্যেকটি অংশ যেমন  – চুলের রঙ, উচ্চতা, কন্ঠস্বর ইত্যাদি  সকল অঙ্গের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য ডিএনএ আলাদা আলদা  ভাবে ধারণ করে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ডিএনএ কোষগুলো পূর্ণ বিভাজিত হতে থাকে ক্রমান্বয়ে একটি থেকে দুটিকোষ, দুটি থেকে চারটি।আর এভাবেই পূর্ণাঙ্গ প্রাণের সৃষ্টি হয়!এই ডিএনএ এবং তার সঙ্গি আরএনএ-ই হল একমাত্র প্রাকৃতিক অনু যা জেনেটিক বা বংশগতির তথ্যের ধারক ও বাহক। । সম্প্রতি গবেষনায় বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম জেনেটিক বা বংশগতির ধারক ও বাহক অণু তৈরি করেছে যা প্রাকৃতিক ধারক ও বাহক অনুর মত তথ্য বহন করতে পারবে । এই নতুন অনুটির নাম রাখেন বিজ্ঞানীরা এক্সএনএ। যা ডিএনএ এবং আরএনএ এর সাথে মিল কিন্তু গঠনে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।

বজ্ঞানীরা কৃত্রিম ডিএনএ অণু আবিষ্কার করেছেন যা্র নাম দিয়েছেন এক্সএনএ

ডিএনএ এবং আরএনএ সম্পর্কে কিছু  তথ্যঃ

ডিএনএ হল লম্বা দ্বি-সূত্রক প্যাঁচানো রাসায়নিক পদার্থ যা তৈরি হয়েছে   ডি-অক্সিরাইবোজ(deoxyribose) চিনি, অজৈব ফসফেট অণু এবং একটি বেস অণু বা ক্ষার, এই ৩ টি উপাদান দ্বারা। ডিএনএ এর ৪টি ক্ষার রয়েছে. এডেনিন(Adenine), থাইমিন(thymine),গুয়ানিন(guanine) এবং সাইটোসিন(cytosine), অথবা  সংক্ষেপে  A, T, G, C বলা যায়।

আরএনএ হল একই প্রকার কিছু এককের পুনরাবৃত্তি , এটি রাইবোজ(ribose)সুগার, ৪ ধরনের নাইট্রোজেন বেস এবং ফসফেট নিয়ে গঠিত। ডিএনএ এর চেয়ে আরএনএ মূল পার্থক্য হলো চিনিতে। -ডিএনএ তে ডিঅক্সিরাইবোজ ব্যবহৃত হয় অপরদিকে আরএনএতে  রাইবোজ  চিনি ব্যবহৃত হয়। জিনগত কোড পড়ার জন্য কোষ নিউক্লিক এসিড আরএনএতে ডিএনএর কিছু অংশের নকল তৈরি করে।। কোষ তারপর আরএনএ পড়ে এবং প্রোটিন অণু তৈরি করে , যা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী সম্পাদন করে।

জেনো নিউক্লিক অ্যাসিড বা এক্সএনএ হল ডিএনএ এবং আরএনএ অনুরূপ একটি  অণু ।  কিন্তু গবেষকরা এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সংযোজন করেন। তারা এক্সএনএ তে ডিএনএ এবং আরএনএ-এর মত চিনি ব্যবহার করেননি তার পরিবর্তে তারা ভিন্ন অণু প্রতিস্থাপন করেন।
গবেষক টিমটি ছয় ধরনের এক্সএনএ নির্মাণ করেন, প্রত্যেকটির ডিএনএ এবং আরএনএ এর যেখানে deoxyribose বা ribose রয়েছে সেখানে অন্য অনু প্রতিস্থাপন করেন।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন জিনের বিবর্তন জরুরী।
তারা একটি সহজ বিবর্তনবাদ পরীক্ষা  হিসেবে এক্সএনএ উদ্ভাবন করেন। তারা এক্সএনএ অণু অন্য সকল অনুর সাথে মিশায় এবং ঐ সব এক্সএনএকে বেছে নেয় যা সবচেয়ে বেশি অন্য ধরনের অনুর সাথে সংযুক্ত হয় । তারপর গবেষকরা ঐ সব এক্সএনএ অনুর অনুলিপি তৈরি করেন এই প্রক্রিয়া পুনরাবৃত্তি করতে থাকেন কিছু সময় ধরে ভিন্ন ভিন্ন অনুর সাথে। দেখা যায় এক্সএনএ অধিকতর ভাল থেকে ভালভাবে অন্য অনুর সাথে সংযোজিত হচ্ছে। অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হচ্ছে।

নতুন এ গবেষণায় এটি নির্দেশিত হয় যে জীবনের গঠন ভিত্তি ডিএনএ এবং আরএনএ-ব্যতীত অন্য কোন অনুর  উপর ভিত্তি করে সম্ভব হতে পারে।  “শুধু আমরাই জীবনের এই এক উদাহরণ সম্পর্কে জানি -অথচ ৪ বিলিয়ন বছর ধরে কি চলছিল,” গবেষক Joyce “সাইন্স নিউজ”কে বলেন। তিনি আরও যুক্ত করেন, “তবে  সম্ভবত অন্যান্য গ্রহের প্রানীর জীনগত কোষ আমাদের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে।”