আসুন জেনে নেই সুতী কাপড়ে ভাজ পড়ার গোগন রহস্য

 আমরা নিজেদেরকে বিভিন্ন সময়, অবস্থান এবং পরিবেশ বিবেচনা করে; বিভিন্ন ধরণের পোশাকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতেই বেশি পছন্দ করি।বিভিন্ন ধরণের পোশাকে নিজেকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারলেও, সুতী কাপড় পরতেই আমরা বেশি সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কেননা এটা পরিধান করা বেশ আরামদায়ক, নরম, ভাল আদ্রর্তা ও ঘাম শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন এবং দীর্ঘস্থায়ী। কিন্তু একটা সমস্যা আছে, আর সেটা হচ্ছে এধরণের কাপড় সাধারণত এক বা দুইবার ব্যবহারের পর ভাজ পড়ে যায় বা কুচকে যায়। যে কারণে এগুলো বারবার ইস্ত্রি করার প্রয়োজন হয়।

কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন কি, সুতী কাপড়গুলো অন্যান্য কাপড় যেমন পলিয়েস্টার,সিল্ক ইত্যাদি কাপড়ের চেয়ে বেশি ভাজ পড়ে এবং ইস্ত্রি করার পূর্বে কেন পানি ছিটিয়ে একটু ভিজিয়ে নিতে হয়?

সুতী কাপড়ে ভাজ পড়ার গোগন রহস্য

সুতী কাপড়ের মূল উপাদান হচ্ছে তুলা। আর তুলা হচ্ছে অসংখ্য আশেঁর সমষ্টি।এই আঁশ গুলোতে একটি রাসায়নিক গ্রুপ আছে, যাকে হাইড্রোক্সিল(-OH) গ্রুপ বলে।পাশাপাশি হাইড্রোক্সিল গ্রুপগুলো হাইড্রোজেন বন্ধন(H-bond) তৈরি করে। কিন্তু কাপড়ের উপর যখন কোন স্ট্রেস পড়ে, তখন পাশাপাশি হাইড্রোক্সিল গ্রুপের মধ্যে যে হাইড্রোজেন বন্ধন থাকে তা ভেঙ্গে যায়। তখন যে স্থানে স্ট্রেস পড়েছিলো, সেখানকার হাইড্রোজেন গ্রুপগুলো একটু দূরবর্তী হাইড্রোক্সিল গ্রুপের সাথে হাইড্রোজেন বন্ধন তৈরি করে। ফলাফল স্বরূপ সেস্থানে ভাজের সৃষ্টি হয়, যা স্বাভাবিক নিয়মে আর পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসে না। তাহলে আমরা কি করতে পারি?

আপনারা হয়তো খেয়াল করে থাকবেন, লন্ড্রিতে যখন সুতিবস্ত্র ইস্ত্রি করা হয়, তখন তারা একটু পানি ছিটিয়ে কাপড়টিকে ভিজিয়ে নেয়। এই বিয়টির একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। প্রকৃতপক্ষে পানি এখানে অনেকটা লুব্রিকেন্ট এর মত কাজ করে। আমরা যদি পানি(H2O) কে বিশ্লেষণ করি তাহলে তা হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এবং হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH)এ পাওয়া যায়। পানির এই হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH) কাপড়ে ভাজ পড়ার জন্য দায়ী পূর্বের হাইড্রোজেন বন্ধন গুলোকে ভেঙ্গে ফেলে। যার ফলে ইস্ত্রি করার সময় পাশাপাশি হাইড্রোক্সিল গ্রুপগুলো নতুন করে হাইড্রোজেন বন্ধন(H-bond) তৈরি করে এবং কাপড় ভাজ মুক্ত হয়।

……………………………………………………..

আজ এখানেই শেষ করছি। আসুন আমরা আমাদের জ্ঞানের পরিধীকে বৃদ্ধি করার জন্য আমাদের জানা ছোট ছোট বিষয় গুলিকে সবার সাথে বিনিময় করি।সবার জন্য শুভকামনা রইল।

3 thoughts on “আসুন জেনে নেই সুতী কাপড়ে ভাজ পড়ার গোগন রহস্য”

  1. এরকম ভালো পোষ্ট পড়ে মন্তব্য না করে চলে যাওয়া যায় নাহ 🙂 বাট আমি একাউন্টিং এর ছাত্র বিধায় বেশি কিছু বুঝতে পারি নি 🙁 আমি শুধু বুঝি কিভাবে টাকা দিতে হয়, আর আদায় করতে হয়!! 😀

Comments are closed.