আফ্রিকান হাতি

পৃথিবীর বৃহত্তম স্থলচর প্রাণী হল হাতি। হাতি প্রজাতির মধ্যে আবার বৃহত্তম হল আফ্রিকান হাতি। এরা এশিয়ার হাতির তুলনায় সামান্য বড় এবং তাদের তুলনামূলক বড় কানের জন্য তাদের অন্য হাতি প্রজাতির থেকে আলাদা করা যাবে। সাধারনত এশিয়া মহাদেশের হাতি আকারে ছোট এবং তাদের কান বৃত্তাকার হয়।

আফ্রিকার হাতি

হাতির কান দুটি বৃহৎ দেহকে বিকীর্ণ তাপ রশ্মি থেকে রক্ষা করে ঠান্ডা রাখে।কিন্তু মাঝে মাঝে আফ্রিকার তাপ খুবই প্রচন্ড হয়।
হাতি সাধারনত খুবই জল অনুরাগী হয়, তারা তাদের শুঁড়ের মাধ্যমে জল চুষে নিয়ে সমস্ত শরীরে ছিটাই। পরে  প্রায়ই তারা তাদের চামড়া

একটি সুরক্ষিত ধুলুর আবারণে স্প্রে করে।
হাতি তার লম্বা শুঁড়য়ের সাহায্যে গন্ধ নেওয়া, শ্বাস নেওয়া, বৃংহণ করা, পানি পান, খাদ্য গ্রহন এবং কোন কিছু আঁকড়ে ধরার জন্য ব্যবহৃত হয়।এই শুঁড়টি ১০০০০০ রকমের মংসপেশী দিয়ে তৈরি। আফ্রিকান হাতির ২টি দাত রয়েছে শুঁড়ের পিছনে।
স্ত্রী এবং পুরুষ উভয় প্রকার হাতিরই গজদন্ত রয়েছে যা কোন কিছু খননের কাজে ব্যবহার করে। পুরুষ হাতিরা একে অপরের সাথে যুদ্ধ করার সময় এটি ব্যবহার করে।হাতির গজদন্ত মানুষের  মধ্যে সহিংসতা ডেকে আনে।
কেননা কিছু মানুষের কাছে হাতির দাতের মূল্য অনেক। দাতের জন্য অনেক হাতিকে মেরে ফেলা হয়েছে হচ্ছে। এই ব্যবসা আজকাল অবৈধ। কিন্তু এখনও এটি সম্পূর্ণ নির্মূল হইনি। এর ফল স্বরূপ কিছু আফ্রিকান হাতির আজ বিপন্ন হওয়ার পথে।
হাতি তৃণভোজী। সাধারনত গাছের শিকড়, ঘাস, ফল এবং গাছের ছাল খায়। একটি পূর্ণ বয়স্ক হাতি একদিনে ১৩৬ কিলোগ্রাম খাবার গ্রহণ করতে পারে।
ক্ষুধার্ত অবস্থায় হাতি ভালভাবে ঘুমাতে পারেনা। তারা অনেক দূর পর্যন্ত ঘোরাঘুরি করে খাদ্য অন্বেষণ ও সংগ্রহ করে এবং তা খেয়ে তাদের বৃহদায়তন দেহটাকে বাচিয়ে রাখে।
স্ত্রী হাতি তাদের শিশু হাতিকে ঘিরে অবস্থান করে। কিন্তু পুরুষ হাতিরা তাদের নিজেদের মত ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে।
একটি শিশু হাতির জন্য অনেক দায়বদ্ধতা থাকে। হাতির গর্ভকাল ২২ মাস যা প্রানী রাজ্যের দীর্ঘতম । জন্মের সময় একটি হাতি ওজনে ৯১ কেজি এবং লম্বায়  ফুট (১ মিটার) হয়।

আফ্রিকান হাতি আশিয়ার হাতিদের মত সহজে পোষা যায়না। উপ-সাহারার আফ্রিকা এবং মধ্য ও পশ্চিম  আফ্রিকার রেইন ফরেস্টে এই প্রজাতির হাতি দেখা যায়।

আফ্রিকা মহাদেশের উত্তরে অবস্থিত মালির সেহেল মরুভূমিতে এদের দেখা যায়। মালির ছোট যাযাবর প্রকৃতির হাতিরা পানির সন্ধানে মরুভুমিতে চক্রাকারে ঘুরতে থাকে।
একটি হাতির আয়ুষ্কাল কিন্তু খুব বেশি নয় মাত্র ৬০ -৭০ বছর।