মানুষের মধ্যে কি প্রতিনিয়ত ঘ্রাণগ্রন্থির জন্ম হয়?

নতুন এক গবেষনায় পাওয়া তথ্য মতে- মানুষ সকল প্রকার ঘ্রাণ গ্রন্থি নিয়ে জন্মায়। এই গ্রন্থিগুলায় সারা জীবন তাদের মধ্যে থাকে, নতুন কোন ঘ্রাণ গ্রন্থির জন্ম হয়না।
এই বৈশিষ্ট্যটি মানুষকে অন্য সকল তীক্ষ্ণ দন্ত বিশিষ্ট প্রাণী, বন মানব,বন্য প্রাণী এবং উচ্চ বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন স্থন্যপায়ী প্রাণী থেকে আলাদা করেছে। কেননা গন্ধ নিয়ন্ত্রনের জন্য এসকল প্রানীদের অলফেক্টরি বাল্বে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন স্নায়ু কোষ অথবা নিউরন তৈরি হয় । স্টোকহোমের কেরোলিন্সকা ইন্সটিটিউট এর স্নায়ুবিদ জোনাস ফ্রাইজেন বলেন- “মানুষকে অন্যান্য সকল প্রানীর মত গন্ধের শুঁকার উপর নির্ভর করতে হয়না,তাই মানুষের নতুন স্নায়ু কোষ তৈরি হইনা।”
হিপ্পোক্যাম্পাস এবং উপরনধ্রীয় অঞ্চল, এই ২ জায়গার মধ্যে নিউরনের জন্ম হয়। যা মস্তিস্কের মাঝামাঝি ২টি খালি জায়গা বেষ্টন করে আছে। ইঁদুরের ক্ষেত্রে, উপরনধ্রীয় অঞ্চলে নিউরন স্থানান্তরিত হয়ে অলফেক্টরি বাল্ব এবং নিউরাল সার্কিটএর সাথে যুক্ত হয়, যা প্রানীকে সহায়তা করে নতুন ঘ্রাণ নেওয়ার ক্ষেত্রে।


মানুষের মধ্যে খুব কম সংখ্যক নিউরন হয়তো জন্মায় অলফেক্টরি ল্যাব এ একত্রীভূত হয় কিন্তু তা বিশেষ কোন ভুমিকা রাখতে পারেনা। গবেষকরা হিসাব করে দেখেছেন মানুষের ক্ষেত্রে এক শতাব্দীতে একজনেরও কম লোকের অলফেক্টরি স্নায়ুর পরিবর্তন হয় অপরদিকে যা বছরে গড়ে ৫০টি তীক্ষ্ণ দন্ত বিশিষ্ট প্রাণীর হয়ে থাকে।
নতুন পাওয়া এই গবেষনা এই বিষয়ে বিতর্কের অবসান ঘটাতে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন-লা জোলার সাক ইন্সটিটিউট ফর বায়োলজি স্টাডির স্নায়ুবিদ ফ্রেড গেজ।
“কিন্তু গবেষণাটির ফলাফলে অলফেক্টরি সিস্টেমে স্নায়ুর একেবারে পুনর্জন্ম হয়না এই বিষয়টা নির্দিষ্ট নয়।-জেফ্রে মাক্লিস বলেন যিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্নায়ুবিদ ।এই পদ্ধতি শুধুমাত্র সে সকল কোষ সনাক্ত করতে পারে যা মস্তিষ্কের সাথে সংযুক্ত।
মাক্লিস ল্যাব এর প্রতিবেদনে বলা হয় ইঁদুরের মস্তিষ্কের অলফেক্টরি স্নায়ু মারা যেতে পারে যদি সেটি নতুন ঘ্রাণে পরিচিত হতে না পারে।