মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের রহস্যভেদ করতে সাহায্য করতে পারে রেটিনা

চোখ হল মনের এবং দেহের জানালা, মস্তিষ্কের তো অবশ্যই। রক্তবাহ পরীক্ষা করার সহজ উপায় হল অক্ষিপট । মস্তিষ্কের কোন সমস্যা দেখা দিলে তা প্রথমে চোখে ধরা পড়ে- বিজ্ঞানীদের তথ্য মতে ।

চোখ ব্যবহার করে শরীরের অন্যত্র  বিশেষ করে মস্তিকে কি ঘটছে তা নির্ণয় করতে পারার সম্ভাবনা অনেক বেশি বলা যায়,” বলেছেন- প্যান স্টেট কলেজের হারসে মেডিসিন এর নিউরোলজী বিভাগের ডাক্তার এলিস্টার বারবার। তিনি আরো যুক্ত করেন-“রেটিনা সহজে কোন বস্তু দেখতে পায় কিন্তু মস্তিষ্ক তা পারে না।”
অনুসন্ধানে জানা যায় চোখের সাথে মস্তিস্কের  সংযোগ রয়েছে। নিউরোলজীর এই পরীক্ষার স্টাডি পরিচালনা করা হয় নারীর স্বাস্থ্যের উপর।

১০ বছর ধরে গবেষণা চালান সান ফ্রান্সিসকোর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের epidemiologist এবং biostatistician গবেষক মেরি হান, চক্ষুরোগ এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা মধ্যে একটি সংযোগ রয়েছে যা ৫১১জন মহিলার মধ্যে চালানো হয় এবং যাদের বয়স ছিল কমপক্ষে ৬৫ বছর সীমার মধ্যে।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের রেটিনার ছবি তুলে গবেষণারত ছাত্রদের দেখানো হয়। তাদের যত্নশীল পরীক্ষার পরে দেখা যায়, ৩৯জন নারী বা মোট নারীর ৭.৬ শতাংশ যাদের রেটিনার  রক্তবাহী নালীসমূহের মধ্যে সমস্যা রয়েছে যাকে রেটিনোপেথি বা রেটিনা ক্ষয় রোগ বলে। রেটিনা ক্ষয় হল রক্তবাহী(ব্লাড ভেসেল)ফোলে যাওয়া, ছিদ্রময় হত্তয়া বা অস্বাভাবিক অবধি প্রসারণ। সাধারণত, রেটিনা ক্ষয় হল ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ রোগের একটি উপসর্গ।
এক দশকের ও বেশি সময় ধরে পরীক্ষার ফলাফলে জানা যায়,যে সকল মহিলার রেটিনাক্ষয় রোগ রয়েছে তাদের মেমরি, মৌখিক সাবলীলতা এবং লেখার ক্ষমতা রেটিনা ক্ষয়রোগবিহীন মহিলাদের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম- জরিপের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যমতে। MRI স্ক্যান থেকে জানা যায় যেসকল নারীদের রেটিনা ক্ষয় রোগ আছে তাদের মস্তিস্কের মধ্যে রক্তনালীগুলো আস্তে আস্তে আরও প্রভাবিত হয় এবং মস্তিষ্কের তন্তুগুলিতেও এর প্রভাব পড়ে ফলে ছোট ছোট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।