এম্পেরর পেঙ্গুইন

পেঙ্গুইনের সকল প্রজাতির চেয়ে আকারে বড় যে পেঙ্গুইন তারা এম্পেরর পেঙ্গুইন(Aptenodytes forsteri) নামে পরিচিত। এদের গড় উচ্চতা ৪৫ ইঞ্চি বা ১১৫ সে.মি.। ওজনে এরা ৪৫.৪কেজি ।

তবে বিভিন্ন ঋতুভেদে এদের ওজন বিভিন্ন হয়। শান্তিপ্রিয় এই প্রাণীগুলো অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের বরফ এবং শীতল পানিতে বাস করে। এদের প্রধান খাদ্য মাছ, ক্রিল এবং শামুক জাতীয় সামুদ্রিক প্রানী যা খেয়ে এরা জীবন ধারণ করে থাকে।
এরা সাতারে খুবই পারদর্শী হয়। পানির নিচে ২০ মিনিট নিঃশ্বাস ধরে রাখতে পারে। ১৮০০ফুট গভীরে ডুব দিতে পারে। সমুদ্রে ঝাঁপ দেয়ার সময় তারা কোন ঝুঁকি নিতে চায় না প্রথমে যেকোন একটি পেঙ্গুইন দলের সুরক্ষার জন্য ঝুঁকি গ্রহণ করে সবার আগে ঝাঁপ দেয়।সে যদি পরিস্থিতি ভাল অনুভব করে তবে অন্যরা সেখানে ঝাঁপ দেয়।
ঝড়ো বাতাস থেকে বাঁচতে তারা গাদাগাদি করে একত্রে বাস করে। এম্পেরর পেঙ্গুইনরা তীব্র শীতের সময়ে খোলা বরফের মধ্যে সকলে একসাথে কাটিয়ে দেয়।

মে-জুন সময়কালে স্ত্রী এম্পেরর পেঙ্গুইনরা দলবেঁধে একটি করে ডিম পাড়ে। এই একটি ডিমের ওজন প্রায় ৪৬০-৪৭০গ্রাম হয়ে থাকে। ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটায় পুরুষ পেঙ্গুইন। এসময়ে পুরুষ পেঙ্গুইন ১১৫ দিন ধরে উপবাস করে। তখন ওজন ৩৮ কেজি থেকে ১৮ কেজিতে নেমে আসে এদের।মা পেঙ্গুইন তখন সমুদ্রের কাছাকাছি থাকে। বাচ্চা পেঙ্গুইনের জন্মের পর মা পেঙ্গুইন বাচ্চার কাছে চলে আসে এবং বাচ্চাকে লালন পালনের দায়িত্ব তার।এই সময় পুরুষ পেঙ্গুইন খাদ্য জোগাড় করে এনে বাচ্চা পেঙ্গুইনকে মুখে তুলে খাওয়ায়।


বাচ্চা পেঙ্গুইনের পালক ধূসর রঙ্গে ঢাকা থাকে। মাথা কালো এবং মুখ সাদা। প্রাপ্ত বয়স্ক এম্পেরর পেঙ্গুইন এর ঘন কালো পালক রয়েছে যা মাথা, চিবুক, গলা, পিঠ, ডরসাল সহ সকল পৃষ্ঠদেশীয় অংশ জুড়ে রয়েছে। পাখার নিচের অংশ এবং এবং পেটের রঙ সাদা।

এরা সাধারনত ১৫-২০ বছর বেঁচে থাকে।