স্পর্শ ও শ্রবণের অনুভূতির জীনগত সম্পর্ক

আঙ্গুল নিস্তেজ ? এটা আপনার জিনগত ত্রূটি! গবেষণায় জানা যায় যে স্পর্শের সংবেদনশীলতা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত  এবং  সেই সাথে স্পষ্টত যে এটি শ্রবণ এর সাথে সংযুক্ত।
জার্মানির বার্লিন শহরের  Max Delbrück Center for Molecular Medicine এর Prof. Dr. Gary R. Lewin এবং তার সহকর্মীরা ১০০ ভ্রাতৃসংক্রান্ত এবং অভিন্ন যুগল নিয়ে এদের স্বাস্থ্যের উপর পরীক্ষা করেন।

তাঁরা দুটি উপায়ে আঙুলের সংবেদনশীলতা পরীক্ষা করেন: একটি উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির কম্পনের ফলে সাড়া এবং দ্বিতীয়ত অত্যন্ত সূক্ষ্ম শ্রুতিকটুর স্থিতিবোধ সনাক্ত করার ক্ষমতা দ্বারা।

লিউইন এর গবেষক টিম পর্যবেক্ষণ করেন যে শতকরা ৫০ ভাগের বেশি লোকের স্পর্শ সংবেদনশীলতা জিনগতভাবে নির্ধারিত হয় ।
শ্রুতি পরীক্ষায় আরো দেখতে পান যে যারা ভাল শ্রবণশক্তির অধিকারী তাদের অধিক স্পর্শক সংবেদনশীল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এই দুইটির মধ্যে সংযোগ যুক্তিসম্মত,কেননা  স্পর্শ এবং শ্রবণশক্তি উভয়ই নির্ভর করে সংবেদনশীল কোষের উপর।

পরবর্তী গবেষকরা স্পর্শ সংবেদনশীলতা নিয়ে গবেষণা করেন জন্মগত বধির ছাত্রদের উপর । ফলাফলে দেখা যায় যে ৫ জনের মধ্যে ১ জনের স্পর্শ বৈকল্য ছিল,  যা অনুভুতিকে নিস্তেজ করে দিয়েছে এবং যার  ফলে এই ক্ষতিকর জীন তাদেরকে বধির করে তুলেছে।

যে সকল ব্যক্তি বধির এবং অন্ধ  হয়েছেন Usher syndrome জীনের কারনে, তাদেরকে গবেষণার ফলে দেখেন যে USH2A নামক একটি একক জিনের রুপান্তরের ফলে এই উভয় রোগ দুটি হয়েছে এবং যা তাদের স্পর্শ সংবেদনশীলতা কমিয়ে দিয়েছে।(রিপোর্ট- PLoS Biology, DOI: 10.1371/journal.pbio.1001318)

পরবর্তী ধাপে আরও যে সব জিন যোগাযোগ আমাদের ইন্দ্রিয় প্রভাবিত করে তাদের সনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। “অনেকগুলো জীনের মধ্যে আমরা মাত্র একটি জিন খুজে পেয়েছি-বলেছেন লিউইন। তিনি আর ও বলেন – “will hopefully show us more about the biology of touch”.