রয়েল বেঙ্গল টাইগার

রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris tigris), প্যানথেরা গোত্রের অন্তর্ভুক্ত একটি স্থন্যপায়ী প্রানী। এরা বাঘ (Panthera tigris) প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত একটি উপ-প্রজাতি। বাঘ বিশাল বিড়াল প্রজাতির প্রানী। চার প্রকার বিড়াল প্রজাতির মধ্যে বাঘ একটি।

রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেহে বাদামী বা হলুদ রঙের উপরে কালচে অথবা খয়েরি ডোরাকাটা দাগ থাকে।  পুরুষ বাঘ লেজসহ ২৭০ থেকে ৩১০ সেমি বা ১১০-১২০ ইঞ্চি হয়ে থাকে,ওজন ২২১.২ কেজি। স্ত্রী বাঘ লম্বায় ২৪০ থেকে ২৬৫ সেমি হয়ে থাকে (৯৪-১০৪ ইঞ্চি)এবং ওজনে ১৩৯.৭কেজি হয়। বেঙ্গল টাইগারের লেজ ৮৫-১১০ সেমি ৩৩-৪৩ ইঞ্চি হয়। ঘাড়ের উচ্চতা ৯০ থেকে ১১০ সেমি (৩৫-৪৩ইঞ্চি)।

এদের নির্দিষ্ট কোন প্রজনন ঋতু নেই। অধিকাংশ বাঘ শাবক অবশ্য ডিসেম্বর এবং এপ্রিল মাসে জন্ম নেয়। তাছাড়া মার্চ , মে, অক্টোবর এবং নভেম্বরেও জন্ম নেয়।  লম্বা ঘাস পাতা, গুল্ম পাতাই ঘেরা বা গুহাতে জন্ম নেয় বাঘ শাবক। জন্মের সময় এদের চোখ এবং কান বন্ধ থাকে। জন্মের ২-৩ সপ্তাহ পরে দাঁত গজায়। ৮.৫-৯.৫ সপ্তাহের মধ্যে তা স্থায়ী দাঁতে রুপান্তরিত হয়।  ৩-৬ মাস বয়স পর্যন্ত মা বাঘ তার শাবককে স্থন্যপান করান। এরপর আস্তে আস্তে কঠিন খাদ্য খাওয়া শেখায় এবং ৫-৬ মাস বয়সে তারা মা বাঘ থেকে শিকারের প্রশিক্ষন গ্রহন করে, ২-৩ বছর বয়সে তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পুরুষ বাঘ ৪-৫ বছরের মধ্যে এবং  স্ত্রী বাঘ -৪ বছরের মধ্যে যৌন পরিপক্ষ হয়ে উঠে।
বেঙ্গল টাইগার অনেক জোরে গর্জন করতে পারে। এদের গর্জন ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত শোনা যায়।
বাঘ শিকারী প্রানী। এদের খিদা পেলে ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। এবং অন্যান্য প্রানীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এরা মূলত বিভিন্ন নিরামিষাসী প্রানী ভোজন করে।

বেঙ্গল টাইগার আগে বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র দেখা যেতো এখন দিনে দিনে বাঘের বিচরন ক্ষেত্র কমে আসায় বর্তমানে বাংলাদেশের শুধুমাত্র সুন্দরবনে  এদেরকে দেখতে পাওয়া যায়।