চিত্রাল হরিণ

চিত্রাল হরিণ(Axis axis) বাংলাদেশ, ভুটান, শ্রীলংকা, নেপাল, ইন্ডিয়াতে বাস করে । এটি হরিণ এর একটি বিশেষ প্রজাতি। হরিণ মূলত একটি রোমন্থক(জাবর কাটা) স্থন্যপায়ী প্রানী যা Cervidae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। চিত্রাল হরিণকে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়ে থাকে যেমন বাংলাদেশে মায়া হরিণ,শ্রীলংকার শিঙহলিজ ভাষায় হিথ মূওয়া্, কান্নাডা ভাষায় জিঙ্কি ,তামিল এবং মালায়লাম ভাষায় পুলি মান, তেলেগু ভাষায় ডুপ্পি, আসামের ভাষায় ফুটুকি হরিণ, মাথারি ভাষায় হরণ বা হরিণ এবং হিন্দিতে বা উর্দুতে হিরাণ ।

এদের দেহ লালচে বাদামী বা খয়েরী লোমযুক্ত চামড়াই ঢাকা থাকে তবে গলা লেজ, পায়ের চামড়া সাদা রংয়ের হয়। দেহের বাদামী বা খয়েরী চামড়ার মাঝে ছোট ছোট সাদা ফোঁটা রয়েছে যা এদেরকে আকর্ষনীয় করেছে। এদের চিত্রাল নামকরনের কারন এই ছোট ছোট ফোটা ফোটা দাগ।
এদের কাঁধ বরাবর একটি গাঢ় খয়েরী রঙের রেখা রয়েছে যা পিঠ দিয়ে সোজা ভাবে লেজ অবধি নেমে গেছে। এই রেখার উপর সাদা সাদা ফোটার দাগ রয়েছে যা একেবারে সজা লাইনে নিচে নেমে গিয়ে চিত্রালকে আরও আকর্ষনীয় করে তোলে। পুরুষ হরিণের রেখাটি স্ত্রীর রেকাহ্র তুলনায় গাঢ় হয়।


একটি পূর্ণবয়স্ক চিত্রা হরিণের দেহ লম্বায় ৪২ থেকে ৫৫ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। লেজের দৈর্ঘ্য ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি। ওজন ৭৫ থেকে ১০০ কেজি (১৬৫ থেকে ২২০ পাউণ্ড) পর্যন্ত হয়। পুরুষ হরিণের শিং থাকে।স্ত্রী হরিণের কোন শিং থাকেনা।   শিঙের দৈর্ঘ্য (২২ – ৭৫) ইঞ্চি  পর্যন্ত হয়।হরিণের শিংয়ে তিনটি পর্যন্ত শাখা দেখা যায়। অনেক সময় তারা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে বা দৌড়াতে গিয়ে গাছের সাথে আটকে হরিণের শিং পড়ে যায়। পরবর্তিতে আবার গজায়।

পুরুষ হরিণ আকারে স্ত্রী হরিণে(চিত্রা হরিণী) তুলনায় বড় হয়। পুরুষ হরিণের ঘাড় সরু ও বুক তুলনামূলক স্ফীত থাকে। পুরুষ হরিণের মুখে গাঢ় চিণ্হ থাকে যা দ্বারা এদের বয়সও নির্ধারণ করা যায়।
এরা দলবদ্ধ হয়ে চলাচল করে। এরা প্রধানত ঘাস, গুল্ম, গাসের মূল, বাকল এবং পাতা খেয়ে জীবন ধারন করে।
চিত্রা হরিণের প্রজননের জন্য নির্দিষ্ট কোন সময় নেই তবে বর্ষার আগমনের পূর্বে যখন তাদের আশপাশের জায়গাগুলো সবুজ এবং ঘন  হয়ে উঠে তখন বাচ্চা রপসব বেশি হয়।

চিত্রা হরিণী ২১০-২২৫ দিন গর্ভধারণের পর বাচ্চা প্রসব করে। মা চিত্রা হরিণী শিশু হরিণকে ৬ মাস পর্যন্ত স্তন্য পান করান।

চিত্রা হরিণী ১৪-১৭ মাসের মধ্যে এবং পুরুষ হরিণ ১৪ মাসে বয়োঃপ্রাপ্ত হয়।
ঘন বন এবং লম্বা ঘাস পাতাই ঘেরা জায়গা এরা বেশি পছন্দ করে থাকে। ভারতীয় উপমহাদেশের বনে এদেরকে প্রচুর পরিমানে দেখতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশের সুন্দরবন, নিঝুম দ্বীপে প্রচুর পরিমাণে চিত্রাল হরিণ রয়েছে।তাছাড়া কেঊ চাইলে হরিণকে পোষতে পারবে। এটি ভাল পোষ মানে। এদের গড় আয়ু ৮ থেকে ১০ বছর।

2 thoughts on “চিত্রাল হরিণ”

  1. Wow, marvelous blog layout! How long have you been blogging for? you make blogging look easy. The overall look of your website is wonderful, let alone the content!. Thanks For Your article about চিত্রাল হরিণ | টিউটোরিয়ালবিডি .

Comments are closed.